| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: মনোবিজ্ঞান স্যার…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৫ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: মনোবিজ্ঞান স্যার ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন মনোবিজ্ঞান মানব আচরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। এর জ্ঞান দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগছে।
দৃশ্যকল্প-২: রাজু মাস্টার্স পাস করে সম্প্রতি একটি মাল্টিন্যাশনাল
কোম্পানিতে চাকুরী নিয়েছে। সেখানে কাজের পরিবেশ খুব ভালো। উচ্চ বেতন প্রদানের পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তাই সেখানকার কর্মীরা কাজের প্রতি খুবই আন্তরিক। অন্যদিকে রাজুর ফুফাতো ভাই সাজুর বাবা মারা গেছে তিনি বছর আগে। কিন্তু এখনো মাঝে মাঝে সে তার বাবার ডাক শুনতে পায় এবং বাবার সাথে একাকী বিড়বিড় করে কথা বলে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করে আমরা যে জ্ঞান লাভ করি তাই বিজ্ঞান।
মানসিক প্রক্রিয়া বলতে আবেগ, চিন্তন, স্বপ্ন, বিশ্বাস, প্রেষণা, স্মৃতি, প্রত্যক্ষণ প্রভৃতি প্রক্রিয়াকে বোঝায়। অভাব অনটন যেমন গরিবকে ভাবিয়ে তোলে, প্রাচুর্যের আতিশয্যও তেমনি ধনীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ক্লাসে প্রথম হবার দুর্নিবার আকাঙ্ক্ষা-ছাত্রীর চোখের ঘুম কেড়ে নেয়, আর নাওয়া খাওয়ার কথা ভুলে গিয়ে বিজ্ঞানী সদা ব্যস্ত থাকেন তাঁর নিত্যনতুন আবিষ্কারের সাধনায়। এমনি করে নিরন্তর চলছে মানসিক প্রক্রিয়ার কার্যকলাপ। অর্থাৎ মানসিক প্রক্রিয়া বলতে এরূপ সকল মানসিক কার্যকলাপকে বোঝায় যেগুলো সরাসরি বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় না। চিন্তা বা চিন্তন প্রাণীর এমনই মানসিক কার্যকলাপ যা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, চিন্তন একটি মানসিক প্রক্রিয়া।
দৃশ্যকল্প-১ এ মনোবিজ্ঞান স্যারের বক্তব্য বিজ্ঞানের 'প্রয়োগশীলতা'-র বৈশিষ্ট্য বা শর্তকে নির্দেশ করেছেন।
কোনো বিষয়বস্তুর গবেষণালব্ধ ফলাফলের যথাযথ ব্যবহার উপযোগিতাই হলো প্রয়োগশীলতা যা কোনো বিষয়বস্তুকে বিজ্ঞানের মর্যাদা দান করে। যে জিনিস বা বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তা বিজ্ঞান নয়! এ কারণে মনোবিজ্ঞানীগণ যেসব বিষয় আবিষ্কার করেছেন, তা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগও করা হচ্ছে। অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে, মানসিক রোগীর চিকিৎসায়, সমাজজীবন, ব্যক্তিজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগ করা হচ্ছে।
দৃশ্যকল্প-১ এর উল্লেখিত মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর বিষয়টি বিজ্ঞানের অন্যতম শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
দৃশ্যকল্প-২ এ সাজুর সমস্যা এবং রাজুর সেমিনার মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয় না। দুটি ভিন্ন শাখায় আলোচিত হয়। শাখা দুটি হলো যথাক্রমে অস্বভাবী মনোবিজ্ঞান ও শিল্প মনোবিজ্ঞান।
নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
অস্বভাবী-এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Abnormal। আভিধানিক অর্থে Abnormal শব্দটির অর্থ হলো স্বভাব-বহির্ভূত বা অস্বভাবী। তাই স্বভাব-বহির্ভূত বা অস্বভাবী আচরণই অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের মূল বিষয়। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞান মানুষের অস্বভাবী আচরণ পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বর্ণনা করা হয় এবং কোনো বিশেষ নীতির উপর ভিত্তি করে এ সকল আচরণকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। কি কারণে অস্বভাবী আচরণের উদ্ভব ঘটে এবং অস্বভাবী আচরণের শারীরবৃত্তীয়, মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ ও অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। অস্বভাবী মনোবিজ্ঞানের মূল কাজ হলো অস্বভাবী আচরণের স্বরূপ বিশ্লেষণ করা, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তার কারণ নির্ণয় করা এবং সবশেষে অস্বভাবী আচরণের প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা।
আবার, মনোবিজ্ঞানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলিত শাখা হলো শিল্প মনোবিজ্ঞান। শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে শিল্প মনোবিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটেছে। শিল্প কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ, কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী উপযুক্ত লোক নির্বাচন, তাদের প্রশিক্ষণ, পদোন্নতি ও মূল্যায়ন প্রভৃতি শিল্প মনোবিজ্ঞানের বিষয়ভুক্ত। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে কর্মচারীদের দক্ষতা, মনোবল ও কর্মসন্তুষ্টি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই কর্মচারীর দক্ষতা ও মনোবল বৃদ্ধি এবং কর্মে সন্তুষ্টি বিধান শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য। কর্মচারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য কর্মের উপযুক্ত মানসিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, শিল্পে দুর্ঘটনা হ্রাস করা, শ্রমিক মালিক সম্পর্ক উন্নত করা, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আগ্রহ সৃষ্টি করাও শিল্প মনোবিজ্ঞানের লক্ষ্য।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সাজুর সমস্যা এবং রাজুর সেমিনার মনোবিজ্ঞানের একই শাখায় আলোচিত হয় না।