| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: “মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক…’ শহিদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ ২০২৫ – প্রেষণা ও আবেগ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: “মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্লাসে আবেগের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন যে, ‘উদ্দীপকের সাহায্যে প্রাণীর মধ্যে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয় যা তার অভিজ্ঞতা, আচরণ এবং শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় তাই আবেগ।”
দৃশ্যকল্প-২:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
স্বীয় সুপ্তশক্তি কর্ম সম্পাদনে উচ্চমানের পরিচয় দিতে তাগিদ দেয়, যা তার উপর কেউ চাপিয়ে দেয় না, বরং নিজেই ঠিক করে নেয় এবং তা অর্জনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালায়। এমন উচ্চমানের তাগিদই হলো কৃতি প্রেষণা।
আবেগ ও অনুভূতির ২টি পার্থক্য-
১. আবেগ হচ্ছে কতকগুলি শারীরিক পরিবর্তন এবং আত্মনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার সামগ্রিক রূপ কিন্তু অনুভূতি শুরু আবেগের আত্মনিষ্ঠ দিক বা অভিজ্ঞতাকে নির্দেশ করে।
২. আবেগের দৈহিক প্রকাশ বিশেষভাবে লক্ষ করার বিষয়। পক্ষান্তরে অনুভূতির বাহ্যিক প্রকাশ পরিলক্ষিত হয় না।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ আবেগের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রাণীর মধ্যে আবেগ কাজ করলে বিভিন্ন রকম শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়।
১. রক্তের চাপ: আবেগের সময় রক্তের চাপের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আবেগের সময় রক্তবাহী নালীর সাহায্যে রক্ত ত্বকের দিকে। প্রবাহিত হয়। প্রেসারগজের সাহায্যে রক্তের চাপ পরিমাপ করা যায়।
২. হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া: আবেগের সময় তৃৎপিন্ডের স্বাভাবিক ক্রিয়া ব্যাহত হয়। ভয়ে আমাদের বুক ধড়ফড় করে। অর্থাৎ আবেগের সময় হৃৎপিন্ডের ক্রিয়া দ্রুত হতে দ্রুততর হয়। ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাফ এর সাহায্যে হৃৎপিন্ডের এই পরিবর্তন পরিমাপ করা যায়।
৩. চোখের তারার পরিবর্তন: কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হলে তার চক্ষু রক্তবর্ণ ধারণ করে। আবার ভয়ে বা বিস্ময়ে চক্ষুর তারার প্রসারণ ঘটে। চোখের এই পরিবর্তন পিউপিলোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-২ এ আবেগের ধ্বংসাত্মক ধারণাটি উপযুক্ত।
নিচে তা নিয়ন্ত্রণের কৌশলসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-
আপনজনের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এমন কিছু আবেগ আছে যে আবেগগুলোকে মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব বা নির্ভরযোগ্য কোনো আপনজনের কাছে বলা যেতে পারে, এতে অনেক অদমনীয় আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। মনোযোগ বা স্বীয় বিচ্যুতির মাধ্যমে আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা পরিশীলিত করা সম্ভব। আবেগীয় পরিবেশ বা পরিস্থিতি থেকে মনোযোগকে সরিয়ে নিলে অথবা নিজেই অন্যত্র সরে গেলে, অনেকাংশে অদমনীয় হিংসা, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ ও অবরুদ্ধ বা নিরুদ্ধ আবেগের বিমুক্তি ঘটে। মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে আবেগ তথা আনন্দ, ভয়, ক্রোধ, হিংসা নিয়ন্ত্রণ বা পরিশীলিত করা সম্ভব। অনেক অবদমনীয় আবেগের নিয়ন্ত্রণ ও অবরুদ্ধ বা নিরুদ্ধ আবেগের বিমুক্ত করা এবং আবেগীয় আচরণকে ও পরিশীলিত করার লক্ষ্যে, পরিশীলিতর ধর্মীয় জ্ঞান ও মূল্যবোধ চর্চার পাশাপাশি শখের কাজসহ স্বীয় প্রবণতা অনুযায়ী, পরিশীলিত শিল্প-সাহিত্য-সংগীতের মধ্যে অবগাহন করা।
সমাজ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে ভয়, ক্রোধ, হিংসা নিয়ন্ত্রণ বা সহযোগিতামূলক কাজ, যেমন- আর্তমানবতার সেবা, ঝড়-বন্যায় পরিশীলিত করা সম্ভব। সমাজের বিভিন্ন সেবামূলক ও ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহযোগিতা ও সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখলে, সমাজ সমর্থিত বা পরিশীলিত আবেগীয় আচরণ অর্জন করা সম্ভব হয়, যা আবেগ নিয়ন্ত্রণের একটি অনন্য রূপ।
পরিশেষে বলা যায়, আমাদের সামাজিক উপায়ে আবেগকে প্রকাশ করতে হবে। অসংযত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে গঠনমূলক আবেগে পরিণত করতে হবে।