| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: রহিম হয়…’ ঢাকা বোর্ড ২০২১ – আরোহের প্রকারভেদ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: রহিম হয় মরণশীল
করিম হয় মরণশীল
রাম হয় মরণশীল
শ্যাম হয় মরণশীল
সুতরাং সকল মানুষ হয় মরণশীল।
দৃশ্যকল্প-২: আমাদের অনেক সময় শুধু ব্যতিক্রমহীন দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
বল কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করার প্রক্রিয়াক আরোহ বলে।
আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত হয় সার্বিক যুক্তিবাক্য। আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের প্রেক্ষিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যেমন- গোলাপ ফুল হয় সুন্দর, শাপলা ফুল হয় সুন্দর, অতএব সকল ফুল হয় সুন্দর। এভাবে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার কারণে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সার্বিক যুক্তিবাক্য হয়।
দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। ব্যাখ্যা করা হলো-
যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেমন- বনি,রনি ও রবিনের বুদ্ধি পরীক্ষা করে বলা হলো, 'সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী'- এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার প্রক্রিয়াই হলো বৈজ্ঞানিক আরোহ। বস্তুত বৈজ্ঞানিক আরোহে অভিজ্ঞতার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত সংগ্রহ করা হয় এবং কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করে সংগৃহীত দৃষ্টান্ত থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তেমনি দৃশ্যকল্প-১ এ রহিম, রাম, করিম ও শ্যামের মৃত্যু দেখে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে যে, সকল মানুষ হয় মরণশীল। এই দৃষ্টান্তে মানুষের সাথে মরণশীলতার একটা কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর বিশ্বাস রেখে সিদ্ধান্তটি টানা সম্ভব হয়েছে। তাই বলা যায়, উক্ত উদাহরণটি বৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃশ্যকল্প-১ বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং দৃশ্যকল্প-২ অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। নিচে এ দুই অরোহের মধ্যে পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো-
বৈজ্ঞানিক আরোহে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে অবাধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য হয়। বৈজ্ঞানিক আরোহে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সেক্ষেত্রে সদর্থক ও নঞর্থক উভয় দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষণ করা হয়। তাই এ অনুমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহে দৃষ্টান্তের সংখ্যার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ অনুমানে সদর্থক দৃষ্টান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও নঞর্থক দৃষ্টান্তকে একেবারেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্তের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল থাকে না।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহ উভয়ই প্রকৃত আরোহের শ্রেণিবিভাগ হলেও এদের মধ্যে পদ্ধতিগত ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ভিন্নতা বিদ্যমান। এ কারণেই দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।