দৃশ্যকল্প-১ : রহিম মিয়া বর্গাচাষি। রাতদিন পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্য অংশ পান না। জমির মালিক জোর করে বেশি ফসল নিয়ে নেন। এতে রহিমের মন দুঃখ-ভারাক্রান্ত হয়।
দৃশ্যকল্প-২: আবুল মিয়া একটি দোকানের কর্মচারী। নিয়মিত বেতন পান। থাকা-খাওয়াসহ কোনো সমস্যা হয় না। মালিক প্রতিবছর বেতন বৃদ্ধি করেন। সেও সততা ও পরিশ্রমের সাথে কাজ করে।
‘রানার’ কবিতায় শয্যায় একা বিনিদ্র রাত জাগে রানারের প্রিয়া।
রানারের জীবন নিয়ে দেখা কোনো স্বপ্নই পূরণ হয়নি- এখানে কবি সে কথাই বলেছেন।
সকল মানুষের জীবনেই স্বপ্ন থাকে। কারও স্বপ্ন পূরণ হয় কারও হয় না। তেমনি স্বপ্ন ছিল রানারের জীবনেও। তবে সে স্বপ্ন পূরণ হওয়ার কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। তার সকল স্বপ্ন পেছনে চলে গেছে, যেমন তার চলার পথ থেকে বন সরে যায় ক্রমশ। নানা গাছে বন সমৃদ্ধ থাকে তেমনি রানারের জীবনের স্বপ্নগুলোও হয়তো নানা শাখাপ্রশাখায় পরিপূর্ণ ছিল; কিন্তু কোনোটাই পূরণ হয়নি।
দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘রানার’ কবিতার রানারের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো ত্যাগ ও সংগ্রামী জীবন। ‘রানার’ কবিতায় বর্ণিত, রানার সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। কিন্তু বড়ো দায়িত্ব তাকে পালন করতে হয়। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় মাথায় নিয়ে প্রিয়জনের কাছে খবর প্রেরণ করতেই হয়। রাতের ঘুম উপেক্ষা করে সে ডাকের বোঝা নিয়ে যায় মানুষের কাছে। সে মানুষের সুখ-দুঃখের বার্তা পিঠে বয়ে চলে। কিন্তু অভাবী রানারের খবর কেউ রাখে না। ত্যাগই তার জীবনের মূল, দারিদ্র্যই তার নিত্যসঙ্গী।
দৃশ্যকল্প-১ এ দেখা যায়, রহিম মিয়া একজন বর্গাচাষি। সে রাতদিন কঠোর পরিশ্রম করে। এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও সে ন্যায্য মূল্য পায় না। তার সঠিক অংশ সে পায় না। জমির মালিক জোর করে বেশি ফসল নিয়ে নেয়। এতে রহিম মিয়া কষ্ট পায়। তার মন দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়। অনুরূপ ‘রানার’ কবিতার রানারও তার কাজের সঠিক মূল্যায়ন পায় না। তার বেতন কম কিন্তু দায়িত্ব কঠিন। রহিম মিয়ার মতোই তার সংসারে অভাব লেগেই থাকে। ত্যাগ ও সংগ্রাম সবই উভয়ের জীবনে বিদ্যমান। আর এ দিকটিই উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্যপূর্ণ।
দৃশ্যকল্প-২এর আবুল মিয়ার মতো সুবিধা পেলে রানারের জীবন সুখ-সমৃদ্ধিতে পূর্ণ থাকতো-মন্তব্যটি যথার্থ।
রানার দেশের এক মহান পেশায় নিয়োজিত এবং সে পেশায় তার বেতন খুবই কম। কিন্তু তাকে ঠিকই কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এই সামান্য বেতন পেয়েই রাতের ঘুম উপেক্ষা করে যথার্থ দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু এই অভাবী রানারের খবর কেউ রাখে না।
দৃশ্যকল্প-২এর আবুল মিয়া একটি দোকানের কর্মচারী। সে নিয়মিত বেতন পায়। তার থাকা, খাওয়ার কোনো সমস্যা হয় না। দোকানের মালিক প্রতিবছর তার বেতন বাড়িয়ে দেয়। সেও সততার সাথে কাজ করে। পরিশ্রম করতে সে দ্বিধাবোধ করে না। কিন্তু রানারের চরিত্র তার উল্টো। রানার কঠোর পরিশ্রম করে কিন্তু বেতন পায় খুবই কম। যা দিয়ে তার সংসার চলে না। সেদিকে কারও কোনো খেয়াল নেই।
‘রানার’ কবিতার রানার একজন পরিশ্রমী মানুষ। আপন কর্তব্য পালনের জন্য সে সদা সচেষ্ট থাকে। প্রতিদিন সে গ্রাহকদের থেকে ব্যক্তিগত ও প্রয়োজনীয় চিঠি, অর্থ, সমগ্রী পৌছে দেয়। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় ও রাতের অন্ধকার কোনো কিছুই তার কর্তব্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। কখনো সে রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে ছুটে চলে। সে কাজে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়। কিন্তু তার ভাগ্যের বদল হয় না। তার অভাব ঘোচে না। বেতন বৃদ্ধি হয় না আবুল মিয়ার মতো। সংসার চল না তার মতো। অভাব তার সংসারে লেগেই থাকে। কঠোর পরিশ্রম করেও তার কোনো লাভ হয় না। তাই সে যদি আবুল মিয়ার মতো সুবিধা পেত তাহলে তার জীবনও সুখ-সমৃদ্ধিতে পূর্ণ থাকতো।
