| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: রহমান একাদশ…’ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ২০২৬ – মনোবিজ্ঞান পরিচিতি, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: রহমান একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। সে জানতে পেরেছে কোনো বিষয় বিজ্ঞান হতে হলে তার গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির নিয়ম মেনে পরিচালিত হতে হবে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি কতগুলো নীতি মেনে চলে।
দৃশ্যকল্প-২:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
গ্রিক শব্দ 'Psyche' এবং 'Logos' থেকে 'Psychology' শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে
মানুষ বা প্রাণীর কোনো কার্যকলাপের একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ রূপই হলো সমাগ্রিক আচরণ।
মনোবিজ্ঞানীরা আচরণকে পূর্ণাঙ্গ অর্থপূর্ণ রূপে বর্ণনা করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিশ্লেষণ করেও বর্ণনা করে থাকেন। প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশের সমন্বিত বা পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো সামগ্রিক আচরণ। যেমন শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে আগমন, লেকচার টেবিলে দাঁড়ানো, কথা বলা, বোর্ডে লেখা, হাত নাড়ানো প্রতিটি এক একটি খণ্ডিত আচরণ। এ সবগুলোর সমন্বয়ে শিক্ষকের শ্রেণিতে পাঠদান একটি সামগ্রিক আচরণ।
উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণনানুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ২টি নীতি 'গ' ও 'ঘ' চিহ্নিত স্থান দুটি যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতাকে নির্দেশ করে।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি বলতে বোঝায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বহির্ভূত জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে না থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করার মনোভাব পোষণ করা। এতে তত্ত্ব ও তথ্যের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়কে গ্রহণ করার দৃষ্টিভঙ্গি বিজ্ঞানীর থাকতে হবে। এর মাধ্যমে মনোবিজ্ঞানীগণ পুরাতনকে বর্জন করে নিত্য নতুন তথ্য আহরণে সদা নিয়োজিত থাকেন।
বিজ্ঞানের আর একটি মাপকাঠি হলো এর প্রয়োগ বা ব্যবহার। যে জিনিস বা বিষয়কে বাস্তবে প্রয়োগ বা ব্যবহার করা যায় না তাকে বিজ্ঞান বলা যায় না। মনোবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য বা সূত্র জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মনোবিজ্ঞানের আজ বহুমুখী ব্যবহার লক্ষ করা যায়। শিল্প-কারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা, সমাজ জীবন, ব্যক্তিগত জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন প্রভৃতি প্রায় সর্বক্ষেত্রেই মনোবিজ্ঞানের ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় কোনো বস্তু বা ঘটনাকে নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রয়োগশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ 'ক' এর কাজটি কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের এবং 'খ' এর কাজটি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে ইঙ্গিত করে। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীরা মানসিক ও আচরণগত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে মানসিক রোগের চিকিৎসা করে থাকে।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী প্রথমে রোগ নির্ণয় করে এরপর রোগীর যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীগণ বিভিন্ন হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করেন। 'খ' কাজটি চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। কেননা চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানীগণ মানসিক রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করেন।
অপরদিকে মনোবিজ্ঞানের যে শাখায় ব্যক্তির মানসিক অশান্তি, বৃত্তি নির্বাচন ও বিভিন্ন সমস্যায় সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় তাকে কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞান বলে। মনোবিজ্ঞানে কাউন্সেলিংকে একটি সাহায্যকারী প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়। উদ্দীপকের 'ক' এর কাজ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহয্যকারী হিসেবে উপদেশতা প্রদান করে। উপদেশতার কাজটি মূলত কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানের বিষয়।