| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: রাতুল মেঠো…’ ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – সংবেদন ও প্রত্যক্ষণ, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: রাতুল মেঠো পথ ধরে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ একটা দড়ি দেখে সে ভয়ে সাপ বলে চিৎকার করে উঠল।
দৃশ্যকল্প-২:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
কোনো বিষয়ের প্রতি ইন্দ্রিয়সমূহকে নিয়োজিত করার নামই মনোযোগ।
বস্তুর আকার মনোযোগের বস্তুনিষ্ঠ শর্ত হওয়ায় মনোযোগ আকর্ষণে বস্তুর আকার ভূমিকা রাখে।
মনোযোগ আকর্ষণ করার এক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো উদ্দীপকের আকার। সাধারণত ক্ষুদ্রাকারে বস্তুর তুলনায় বিরাট বস্তু সহজেই আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একদল বানরের মধ্যে এক বড় গরিলা থাকলে তা সহজেই আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ রাতুলের ঘটনাটি ভ্রান্ত প্রত্যক্ষণের বা অধ্যাসকে নির্দেশ করে।
কোনো বাস্তব উদ্দীপককে ভ্রান্তভাবে প্রত্যক্ষ করার নামই অধ্যাস। বিভিন্ন ধরনের অধ্যাস রয়েছে। যেমন- জ্যামিতিক অধ্যাস, গতি অধ্যাস, চান্দ্র অধ্যাস, প্রাকৃতিক অধ্যাস এবং মনস্তাত্ত্বিক অধ্যাস ইত্যাদি।
জ্যামিতিক রেখা, কোণ ইত্যাদি বিষয়ের পরিমাপ সম্পর্কে নানা ধরনের চাক্ষুষ ভ্রান্তি দেখা যায়। এ ধরনের ভ্রান্তিকে জ্যামিতিক অধ্যাস বলে। আবারগতি অধ্যাসের ক্ষেত্রে আমরা স্থির বস্তুকে গতিশীল বলে প্রত্যক্ষণ করে থাকি। ফাই-ঘটনা গতি অধ্যাসের উদাহরণ। আবার অনেক সময় দিগন্তের চাঁদকে মধ্য আকাশের চাঁদের চেয়ে বড় দেখায়। অবস্থানের জন্য একই চাঁদকে ছোট বা বড় দেখাচ্ছে। চান্দ্র অধ্যাসের জন্য এরকম দেখা যায়।
ব্যক্তির নিজস্ব ভীতিমূলক কোনো মানসিক প্রবণতার কারণে মৃদু আলো অথবা অন্ধকারে কোনো উদ্দীপক সম্পর্কে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাগত বিশ্লেষণ ও সমন্বয়সাধনে ব্যর্থ সংবেদীয় ও মানসিক প্রক্রিয়ায় একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যাসম্পন্ন ধারণাকেই মনস্তাত্ত্বিক অধ্যাস বলে। যেমন- অন্ধকারে রাস্তায় পড়ে থাকা কোনো মোটা দড়িকে সাপ মনে করা।
উদ্দীপকে রাতুল ঘটনাটি মনস্তাত্ত্বিক অধ্যাসকে নির্দেশ করে। রাতুল দড়ি দেখে ভয়ে সাপ বলে চিৎকার করে উঠে। ব্যক্তির নিজস্ব ভীতিমূলক কোনো মানসিক প্রবণতার কারণে মৃদ আলো অথবা কোনো উদ্দীপক সম্পর্কে শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতাগত বিশ্লেষণ এবং সমন্বয় সাধনে ব্যর্থ সংবেদীয় ও মানসিক প্রক্রিয়ায় ত্রুটিপূর্ণ ধারণা বা ব্যাখ্যাকেই মনস্তাত্ত্বিক অধ্যাস বলে।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লেখিত চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ প্রত্যক্ষ সংগঠনের বস্তুনিষ্ঠ শর্ত নৈকট্য ও ফাঁক পূরণ শর্তকে নির্দেশ করে।
যে সকল উপাদান উদ্দীপক দ্বারা সৃষ্টি হয় প্রত্যক্ষণকে প্রভাবিত করে তাদেরকে উদ্দীপক উপাদান বা সংবেদনের বস্তুনিষ্ট শর্ত বলে। এগুলো কোনো ব্যক্তির উপর নির্ভর করে না। ব্যক্তিভেদে একই শর্ত প্রযোজ্য হয়। যেমন- নৈকট্য, সাদৃশ্য, ধারাবাহিকতা ফাকঁপূরণ, বিশেষ পরিচিতি, প্রতিসাম্য, সরলতা, সাধারণ ধর্ম প্রত্যক্ষণের বস্তুনিষ্ট শর্ত।
উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-২ এ চিত্র-১ দ্বারা নৈকট্য শর্ত ও চিত্র-২ দ্বারা ফাঁক পূরণ শর্তের প্রভাব লক্ষ করা যায়। যেসকল বস্তু কাছাকাছি যেগুলোকে আমরা একত্রে প্রত্যক্ষণ করি। চিত্র-১ এর ফোঁটা গুলো পরপর নিচের দিকে স্তম্ভহিসেবে এবং পাশের দিকে হওয়াতে আরেকটিকে সারিবদ্ধভাবে কল্পনা করি। উদ্দীপক পরস্পরের কাছাকাছি বা নৈকট্যে থাকায় এগুলোকে আমরা একক হিসেবে কল্পনা করি। আবার নৈকট্যসম্পন্ন উদ্দীপক গুলোর সমন্বিত রূপ যদি কোনো পরিচিত চিত্র বা সুন্দর অবয়বের সৃষ্টি করে তবে তারা প্রত্যক্ষণে একত্রে সংগঠিত হওয়ার প্রবণতা দেখায়। এক্ষেত্রে ফাঁকা স্থানগুলো উপেক্ষিত হয় যা চিত্র-২ এর প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, প্রত্যক্ষণের বেশকিছু শর্ত রয়েছে যা বস্তুর উপর নির্ভরশীল এগুলো প্রত্যক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।