| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (7 days ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যকল্প-১: রিমা দোকানে…’ ২০১৬ – যুক্তিবিদ্যার প্রায়োগিক দিক, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যকল্প-১: রিমা দোকানে যেয়ে প্রায়ই ঘর সাজানোর জন্য নানা ধরনের জিনিস কিনে এনে ঘর সাজায়। তার পোশাক ও কথাবার্তায় একটি পরিশীলিত স্টাইল আছে। সবকিছুতেই একটি পরিপাটি ভাব। তাই তাকে সবাই পছন্দ করে।
দৃশ্যকল্প-২: ব্যবসায়ী আসাদ ক্রেতাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে এবং সীমিত লাভে মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রয় করে ও ওজনে সঠিক। দেয়। অপরদিকে, আসাদের বন্ধু জয়নাল সবসময় যৌক্তিক চিন্তা ও যৌক্তিক কাজ করতে পছন্দ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
অবৈধ ন্যায় বা যুক্তি থেকে বৈধ ন্যায় বা যুক্তিকে পৃথক করার পদ্ধতি ও নীতিসমূহের একটি বিশিষ্ট বিদ্যা হলো যুক্তিবিদ্যা।
যে বিজ্ঞান কোনো আদর্শের ভিত্তিতে মান নির্ধারণ করে তাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলে। যুক্তিবিদ্যা আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মান নির্ধারণ করে। আর যুক্তিবিদ্যার আদর্শ হলো সত্যের আদর্শ। যেহেতু যুক্তিবিদ্যা আদর্শের ভিত্তিতে বিষয়বস্তুর মূল্যায়ন করে তাই যুক্তিবিদ্যা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
দৃশ্যকল্প-১ এ আমার পঠিত নন্দনতত্ত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।
মূলবিদ্যার তিনটি শাখার মধ্যে অন্যতম একটি শাখা হলো নন্দনতত্ত্ব। মূল্যবিদ্যার এ শাখাটি রুচি-পছন্দ, শিল্প, সৌন্দর্যের সাথে যুক্ত। নন্দনতত্ত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Aesthetics ইংরেজি 'Aesthetics' শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ 'Aesthetikos' থেকে, যার অর্থ হলো অনুভূতিপ্রবণ বা সংবেদনশীল। অর্থাৎ কোনো কিছু সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করা বা মনোভাব ব্যক্ত করা। তাই শব্দগত অর্থে নন্দনতত্ত্ব বলতে কোনো কিছু প্রত্যক্ষ করে বা অনুভব করে অনুভূতি ব্যক্ত বা মনোভাব প্রকাশ করাকে বোঝায়। অনুভূতি প্রকাশ বা মনোভাব প্রকাশ করা হলো এক প্রকার মূল্যায়ন। আর এ মূল্যায়ন মূলত সৌন্দর্য উপভোগ, রসবোধ ও রুচিবোধের বিষয়। তাই বলা যায়, নন্দনতত্ত্ব হলো মূল্যবিদ্যার এমন একটি শাখা যা সৌন্দর্য, শিল্প, রসবোধ এবং রুচিবোধ নিয়ে আলোচনা করে এবং সুন্দরের প্রশংসা করে। সৌন্দর্যের নির্মল অনুভূতি ও শিল্পের সাবলীল রস আস্বাদনই এ বিদ্যার আলোচ্য ক্ষেত্র। উদ্দীপকের দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণার চরিত্রের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেখানে খুব ভালো গান করা, ছবি আঁকা, ফুলের বাগান করা, ঘরে চমৎকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি রাখা ইত্যাদি বিষয় বিদ্যমান রয়েছে। আমরা জানি, শিল্প, সংগীত, ছবি আঁকা, সৌন্দর্য উপভোগ এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি ইত্যাদি নন্দনতত্ত্বের সাথে যুক্ত। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এর আমার পঠিত নন্দনতত্ত্বের প্রতিফলন রয়েছে। অর্থাৎ দৃশ্যকল্প-১ এ নন্দনতত্ত্বের বিষয়টিই প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকের 'দৃশ্যকল্প-২'-এ নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে এদের সম্পর্ক আলোচনা করা হলো-
১. নীতিবিদ্যা হচ্ছে মূল্যবিদ্যার একটি শাখা। এভাবে যুক্তিবিদ্যাও মূল্যবিদ্যার একটি শাখা। তাই এ দুটি বিষয় একই উৎস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
২. নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ই তাদের বিষয়বস্তুর আলোচনায় কিছু মানদণ্ড অনুসরণ করে। অর্থাৎ, নীতিবিদ্যা যেমন মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানব আচরণের মূল্যায়ন করে। তেমনি যুক্তিবিদ্যাও কিছু মানদণ্ডের আলোকে যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ণয় করে।
৩. নীতিবিদ্যা যেমন আমাদের যথার্থ আচরণ করার নির্দেশনা দেয় যুক্তিবিদ্যাও তেমনি যথার্থ আচরণ করার: দিকনির্দেশনা দিতে পারে। কেননা যে কাজ যৌক্তিক সেদিকে আমাদের মন ধাবিত হতে পারে।
৪. নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যা উভয়ের লক্ষ্য সত্য প্রতিষ্ঠা। নীতিবিদ্যা কল্যাণকে চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আর যুক্তিবিদ্যা সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সত্য হলো কল্যাণের বাহক।
৫. নীতিবিদ্যা অনেক তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করে। এসব তত্ত্ব এখানেই গ্রহণযোগ্য হয় যখন তা যৌক্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়। তাই উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
পরিশেষে বলা যায়, নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে বিভিন্ন দিক দিয়ে সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের যুক্তি ও বিবেক যখন একান্তভাবে সমন্বিত হয় তখনই প্রকৃতপক্ষে, মানুষ উন্নত জীবনের ধারক হয়ে ওঠে। তাই যুক্তিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা রয়েছে।