দৃশ্যকল্প-১: 2 kg ভরের একটি পাথরকে 30 m উঁচু হতে মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো। পাথরটি একটি স্প্রিং এর উপর পড়ল। স্প্রিং ধ্রুবক
দৃশ্যকল্প-২ :
কোনো যন্ত্রের লভ্য কার্যকর শক্তি ও মোট প্রদত্ত শক্তির অনুপাতকে ঐ যন্ত্রের কর্মদক্ষতা বলে।
ক্ষমতার সমীকরণ হতে দেখা যায় যে, ক্ষমতা ভর, দৈর্ঘ্য ও সময় তিনটি মৌলিক রাশির সমন্বয়ে গঠিত, যা একটি লব্ধ রাশি।
এখানে, পাথরের ভর, m=2 kg
উচ্চতা,
অভিকর্ষজ ত্বরণ,
স্প্রিং এর ঞ্জুবক,
স্প্রিং এর সংকোচন, ?
এখন, সর্বোচ্চ উচ্চতায় পাথরটির স্থিতিশক্তি = স্প্রিং এর সংকোচনে কৃতকাজ
বা,
বা,
অতএব, স্প্রিংটি 10.844 cm সংকুচিত হবে !
দৃশ্যকল্প-২ এ অনবায়নযোগ্য শক্তি ফসিল জ্বালানি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সৌরশক্তির রূপান্তর দেখানো হয়েছে। নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো:
ফসিল জ্বালানি শক্তির রূপান্তর: তেল, গ্যাস বা কয়লা তিনটিই হচ্ছে ফসিল জ্বালানি, অর্থাৎ লক্ষ-কোটি বছর আগে গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘদিনের তাপ আর চাপে এই রূপ নিয়েছে। মাটির নিচ থেকে কয়লা, তেল আর গ্যাসকে তুলতে হয়। প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলো অনেক ঘন থাকে, রিফাইনারিতে সেগুলো পরিশোধন করে পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনে রূপান্তর করা হয়। মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস বের হয় সেটি মূলত মিথেন CH₁. এর সাথে জলীয়বাষ্প এবং অন্যান্য গ্যাস মেশনো থাকতে পারে এবং সেগুলো আলাদা করে নিতে হয়।
সৌরশক্তির রূপান্তর: সূর্য থেকে আসা আলো আর তাপের একটা অংশ বায়ুমণ্ডলে শোষিত হয়ে যায়, রাতের বেলা সেটা থাকে না, মেঘ বৃষ্টির কারণে সেটা অনিয়ন্ত্রিত। তাছাড়াও শক্তিটা আসে তাপ কিংবা আলো হিসেবে। সূর্যের তাপকে ব্যবহার করে সেটা দিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করা যায়। তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে সেটাকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করা। আজকাল পৃথিবীর একটা পরিচিত দৃশ্য হচ্ছে সোলার প্যানেল, বাসার ছাদে লাগিয়ে মানুষ তার নিজের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ নিজের বাসায় তৈরি করে নেয়।
পরিবেশের উপর শক্তির বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে আমার মতামত: শক্তির রূপান্তরে পরিবেশের উপর প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছে ফসিল জ্বালানি বা তেল, গ্যাস এবং কয়লা। এই তিনটিতেই কার্বনের পরিমাণ অনেক বেশি এবং এগুলো পুড়িয়ে যখন তাপশক্তি তৈরি হয় তখন কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, যেটি একটি গ্রিন হাউস গ্যাস, যেটি বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। সেকারণে পৃথিবীর যেসব দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে সেসব দেশের কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে।
নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রে কার্বন ডাইঅক্সাইডের নিঃসরণ হয় না, কিন্তু নিউক্লিয়ার বর্জ্য অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় এবং এদের তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা নিরাপদ মাত্রায় পৌছানোর জন্য লক্ষ লক্ষ বছর সংরক্ষণ করতে হয় যেটি পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তুলনামূলকভাবে পরিবেশের উপর নবায়নযোগ্য শক্তির প্রভাব কম, তবে জলবিদ্যুতের জন্য যখন নদীতে বাঁধ দেওয়া হয় তখন একদিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পরিবেশের ক্ষতি হয়, অন্যদিকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বাঁধের পরবর্তী এলাকায় তীব্র খরার সৃষ্টি হতে পারে।
