| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যপট-১ : আল্লাহ…’ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ ২০২৪ – ইসলামের অর্থব্যবস্থা, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দৃশ্যপট-১ : আল্লাহ তায়ালা ইসলামি অর্থব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজিয়েছেন যে, এখানে ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য হওয়ার সুযোগ নেই।
দৃশ্যপট-২: পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় মানব রচিত বিভিন্ন অর্থব্যবস্থা মানুষের কল্যাণের জন্য প্রণীত হয়েছে কিন্তু তাতে মানুষের কল্যাণ ও অর্থনেতিক মুক্তি লাভ হয়নি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
উশর শব্দের অর্থ হলো এক দশমাংশ।
ইসলামি অর্থব্যবস্থা কল্যাণমূলক। কেননা সুদি অর্থব্যবস্থায় মানুষকে শোষণ করা হয়, ধনীকে ধনী ও গরিবকে আরও গরিব করা হয়। ইসলামি অর্থব্যবস্থা সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে ধনী- গরিবের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে। এ ব্যবস্থায় অর্থ উপার্জন করে মানবকল্যাণে ব্যয় করার অনুভূতি জাগ্রত করা হয়। ফলে ধনিক শ্রেণি আবর্তমানবতার সেবায় বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। অর্থকে পুঞ্জীভূত না করে মানুষের কল্যাণে তা ব্যয় করে। তাই বলা যায় ইসলামি অর্থব্যবস্থা কল্যাণমূলক।
দৃশ্যপট-১ এ ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য হওয়ার সুযোগ নেই।
কারণ ইসলামি অর্থব্যবস্থা ভারসাম্যপূর্ণ সুষম অর্থনীতি : পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের বিপরীতে ইসলাম একটি ভারসাম্যপূর্ণ সুষম অর্থব্যবস্থা কায়েম করে। এ ব্যবস্থায় ব্যক্তি অবশ্যই তার স্বাভাবিক অধিকার লাভ করবে। কিন্তু তাতে ধনসম্পদের বণ্টনের ভারসাম্য নষ্ট হবে না। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তিমালিকানা এবং নিজের উপার্জিত ধনম্পদ ব্যয় করার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। তবে তা সম্পূর্ণভাবে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে ধর্মীয় ও নৈতিক বিধিনিষেধ এবং রাষ্ট্রীয় আইনের অবকাঠামো সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে ইসলামি অর্থব্যবস্থার ধনসম্পদ ও উৎপাদনের যাবতীয় উপকরণাদি কারও হাতে অস্বাভাবিকভাবে কেন্দ্রীভূত হতে পারে না বলে এখানে ধনী ও গরিবের মধ্যে বৈষম্য হওয়ার সুযোগ নেই।
দৃশ্যপট-২ এ মানব রচিত অর্থব্যবস্থায় কোনো কল্যাণ ও মুক্তি নেই। সমাধান নিম্নবাদ পৃথিবীতে নানা দেশে নানা রকম অর্থব্যবস্থা পরিচালিত। যেমন- ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি সম্পদের মালিকানা ভোগ করে এবং ইচ্ছামতো উৎপাদন, বণ্টন, বিপণন ও মুনাফা অর্জন করতে পারে। ফলে কালোবাজারি ও মজুতদারি তৈরি হয়। সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রের এবং উৎপাদন, বণ্টন, বিপণন ও ভোগের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদান করা হয়। ফলে মানুষের উৎপাদনস্পৃহা কমে যায় এবং আর্থিক করা হয় বিপর্যয় নেমে আসে। মিশ্র অর্থব্যবস্থায় ব্যক্তি মালিকানা ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগ ও নিয়ন্ত্রণ বিরাজ করে। অর্থাৎ এখানে ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখে, যা সুদনির্ভর অর্থব্যবস্থা অপরপক্ষে ইসলামি অর্থব্যবস্থা ইসলামের মৌলিক নিয়মকানুনের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত হয়। এখানে সম্পদের ব্যক্তি মালিকানা স্বীকৃত হলেও তা ব্যবহারের ক্ষমতা আল্লাহর বিধান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাই এখানে ইচ্ছামতো উৎপাদন, বিপণন, বণ্টন ও ভোগ করা যায় না। এ ব্যবস্থা সুদমুক্ত ও কল্যাণমূলক। সুতরাং অর্থনৈতিক মুক্তি ও কল্যাণের জন্য ইসলামিক অর্থব্যবস্থা বাস্তবায়নই সমাধান হতে পারে।