A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যপট-১ : বাঁশ…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল: ২০২২⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

দৃশ্যপট-১ : বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই
এমন সময় মাগো আমার কাজলা দিদি কই?
লেবুর তলে পুকুর পাড়ে, ঝিঁঝিঁ ডাকে ঝোপে-ঝাড়ে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না- তাই তো জেগে রই;

দৃশ্যপট-২ : একদিন মাটির ভিতরে হবে ঘর রে মন আমার,
কেন বান্ধ দালান ঘর রে মন আমার …..

উত্তর:

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় চালতাফুল শিশিরের জলে ভিজবে।

উত্তর:

উল্লিখিত চরণটি দিয়ে কবি বুঝিয়েছেন যে, বিচিত্র বিবর্তনের মধ্যেেও প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ কখনই হারিয়ে ফেলে না। কবি মনে করেন তিনি যখন থাকবেন না তখনও প্রকৃতি তার অফুরন্ত ঐশ্বর্য নিয়ে মানুষের স্বপ্ন, সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে যাবে। 

পৃথিবীতে মানবকল্যাণের বাণী বা কল্যাণকর্ম কোনো কিছুই বিলীন হয় না। শুধু ব্যক্তি হারিয়ে যায়। কারও মৃত্যুতেই পৃথিবীর গতিময়তা ও প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। কবি মনে করেন তিনি না থাকলে লক্ষ্মীপেঁচার গান বন্ধ হবে না। পৃথিবীর সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলবে।

উত্তর:

দৃশ্যপট-১-এর সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির অবিনশ্বরতা এবং মানুষের নশ্বরতার দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবির বর্ণনায় উঠে এসেছে- মানুষ মরণশীল, আর প্রকৃতি অবিনশ্বর। মানুষের জীবন এবং মানুষের তৈরি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে তৈরি কোনো কিছুই ধ্বংস হয় না। কালের বিবর্তন ধারায় মানুষ হারিয়ে গেলেও প্রকৃতি রূপবৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য নিয়ে টিকে থাকে।

উদ্দীপকে প্রকৃতির সৌন্দর্যের অম্লান ও অক্ষয় অবস্থা এবং তার মধ্য থেকে মানুষের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বাঁশবাগান, চাঁদ, পুকুরপাড়, ঝোপ-ঝাড়, ঝিঁঝিঁ পোকা, লেবুর গন্ধ অবিকল আগের মতোই আছে; নেই শুধু কাজলা দিদি। কারণ দিদি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেছে। উদ্দীপকে মানুষের এই নশ্বরতা এবং প্রকৃতির অক্ষুণ্ণ থাকার বিষয়টি 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায়ও কবি নদী, নক্ষত্র, চালতা ফুল, লক্ষ্মীপেঁচা, ভিজে গন্ধ প্রভৃতির কথা বলেছেন, যা অবিকল আগের মতোই রয়েছে। এগুলোর ক্ষয় বা লয় নেই; শুধু কবি থাকবেন না। কারণ মানুষ এবং মানুষের গড়া সভ্যতা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু প্রকৃতি বিলীন হয় না। তাই বলা যায়, দৃশ্যপট-১-এর সঙ্গে 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার প্রকৃতির অবিনশ্বরতা এবং মানুষের নশ্বরতার দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

মৃত্যু চেতনার প্রকাশ থাকায় দৃশ্যপট-২-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে বলে আমি মনে করি।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতায় কবির গভীর জীবনতৃষ্ণার প্রকাশ ঘটেছে। কবির বর্ণনায় উঠে এসেছে- মানুষের মৃত্যু পৃথিবীর চির বহমানতা কে রোধ করতে পারে না। কারণ মানুষের মৃত্যুতে প্রকৃতির স্বাভাবিকতায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। প্রকৃতি স্বাভাবিক নিয়মেই তার রূপ-রস-গন্ধ-সৌন্দর্য বিলিয়ে যায়।

'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব মূলত মৃত্যু চেতনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। প্রকৃতির, রূপ-রস-গন্ধ কখনই নিঃশেষ হয় না। কিন্তু মানুষের মৃত্যু হয়, সভ্যতার পতন হয়, আবার নতুন সভ্যতার জন্মও হয়। চক্রাকার এই পরিভ্রমণে শুধু ব্যক্তিমানুষের মৃত্যু হয়। মানুষ তার প্রয়োজনে 'দালান ঘর'সদৃশ সভ্যতা নির্মাণ করে, নতুন রাজ্য জয় করে, আরাম-আয়েশের জন্য যন্ত্র-প্রযুক্তিও নির্মাণ করে। পৃথিবীতে সেসব ক্ষণস্থায়ী হয়। কিন্তু মানুষের শেষ স্থান হয় মাটির ভিতরে অর্থাৎ কবরে।

উদ্দীপকেও মানুষের মৃত্যু চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। নিজের মনের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়েছে যে, কেন দালানঘর বাঁধতে ইচ্ছে হয় মানুষের। মৃত্যুই তো একদিন গ্রাস করবে মানুষকে। এশিরিয় ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পতন হয়ে গেছে, নতুন পৃথিবীর সূচনা হয়েছে, সংস্কৃতি-সভ্যতার নব উন্মেষ ঘটেছে; কিন্তু ব্যক্তি মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। দৃশ্যপট-২-এ মৃত্যু চেতনা যেন কবিতার মূলভাবের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে একাকার হয়ে গেছে। তাই আমি মনে করি, দৃশ্যপট-২-এ 'সেইদিন এই মাঠ' কবিতার মূলভাব প্রকাশ পেয়েছে।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যপট-১ : বাঁশ…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – সেইদিন এই মাঠ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”