দৃশ্যপট-১ :
কে যাস রে ভাটির গাং বাইয়া
আমার ভাইধন রে কইও
নাইওর নিতো বইলা
তোরা কে যাস কে যাস।
দৃশ্যপট-২:
আমার দেশের মাটির গন্ধে
ভরে আছে সারা মন
শ্যামল কোমল পরশ ছাড়া যে
নেই কিছু প্রয়োজন।
"কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে"- চরণটিতে জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও দেশপ্রেমকে বোঝানো হয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় তাঁর গভীর অনুভবে প্রবাসে থেকেও কপোতাক্ষ নদের জলধারার কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তাঁর সমস্ত স্নেহতৃষ্ণার জল যেন বুকে ধারণ করে বয়ে চলছে কপোতাক্ষ। পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরে বহু নদ-নদী তিনি দেখেছেন। তবু কপোতাক্ষকে তিনি ভুলতে পারেন না। কারণ কপোতাক্ষ তাঁকে যে মাতৃস্নেহে জড়িয়ে রেখেছে তা পৃথিবীর অন্য কোনো নদ-নদী পারেনি। এই নদ যেন কবিকে মায়ের স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছে। তাই সেই নদের স্নেহধারা পেতে তিনি ব্যাকুল হন। কপোতাক্ষের জলে তাঁর স্নেহের তৃষ্ণা নিবারণ করতে চান।
দৃশ্যপট-১-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি তাঁর জন্মভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের স্মৃতিচারণ করেছেন। তিনি সুদূর প্রবাসে বসে শৈশব-কৈশোরের এ নদকে স্মরণ করেছেন। কবি যেন রাতের স্বপ্নে এখনো এ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি ভাটির গাঙে চড়ে নাইওর যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেছেন। এ নদীর সাথে তাঁর যাতায়াতের স্মৃতি বিজড়িত। বহুদিন গেলেও তিনি ভাইয়ের আদর-আপ্যায়ন করে বাড়ি নিয়ে আসার স্মৃতি ভুলতে পারেননি। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার কবিও শৈশবের কপোতাক্ষ নদকে ভুলতে পারেননি। এ নদ যেন তাঁকে স্নেহডোরে বেঁধে রেখেছে। প্রবাসজীবনে কবির সেই স্মৃতি তার হৃদয়ে কাতরতা জাগিয়েছে। এ দিক থেকে উদ্দীপকের দৃশ্যপ-১ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, দৃশ্যকল্প-২ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করেছে, কেননা, দৃশ্যকল্প-২-এ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনা দেশাত্মবোধকে ধারণ করে আছে।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবি সুদূর ফ্রান্সে বসে স্বদেশের কপোতাক্ষ নদের কথা স্মরণ করেছেন। কপোতাক্ষের তীরে কাটানো শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি তাঁর মনে কাতরতা জাগিয়েছে। এই স্মৃতিকাতরতায় মূলত কবির অকৃত্রিম দেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রচ্ছন্নভাবে ছড়িয়ে আছে দেশাত্মবোধ বা দেশপ্রেমের চেতনা।
উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। - স্বদেশের মাটির সোঁদাগন্ধে উদ্দীপকের কবির মনপ্রাণ ভরে আছে। স্বদেশের শ্যামল-কোমল পরশ ছাড়া আর কিছুই প্রয়োজন নেই তার। উদ্দীপকের কবির দেশপ্রেমের এই অনুভূতির সঙ্গে 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবে মাতৃরূপী কপোতাক্ষ নদের প্রতি প্রেম এই চেতনা সঞ্জাত। কবি প্রবাসে গিয়ে বহু দেশে বহু নদ-নদী দেখলেও তার স্নেহকাতরতার নিবৃত্তি শুধু কপোতাক্ষ নদের জলেই সম্ভব। এ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতরতার আবরণে তাঁর অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। এটিই কবিতাটির মূল চেতনা।
উদ্দীপকের কবিতায় দেশের মাটির গন্ধ, শ্যামল-কোমল পরশ এবং 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদের প্রতি হৃদয়ের আকুতি একই চেতনা থেকে উদ্ভূত, তা হলো গভীর দেশপ্রেমের চেতনা। এসব দিক বিচারে বলা যায়, দৃশ্যকল্প-২ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার মূল চেতনাকে ধারণ করেছে।
