A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যপট ১: রফিক…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: বিজ্ঞান📚 বই: জীববিজ্ঞান📖 ১১তম অধ্যায়🔢 সৃজনশীল নং: ২৪🏢 প্রতিষ্ঠান: ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা📅 সাল: ২০২৬⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

দৃশ্যপট ১: রফিক বাংলাদেশের পতাকা আঁকার পর, বিশেষ এক রোগের কারণে সঠিক রংটি করতে পারল না। কিন্তু তার সহপাঠী রুনা সঠিকভাবে রং করতে পারল।

দৃশ্যপট ২: জলির মা থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হলেও তার বাবা সম্পূর্ণ সুস্থ।

উত্তর:

একই ক্রোমোজোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ার একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।

উত্তর:

DNA থেকে RNA ভিন্ন। কারণ-
১. DNA দ্বিসূত্রক ঘুরানো সিঁড়ির মতো। অন্যদিকে RNA এক সূত্রক, শিকলের ন্যায়।
২. DNA তে ডিঅক্সিরাইবোজ সুগার বিদ্যমান। কিন্তু RNA তে রাইবোজ সুগার বিদ্যমান।
৩. DNA এর পাইরিমিডিন বেসে সাইটোসিন ও থায়ামিন বেস হিসেবে থাকে। কিন্তু RNA এর পাইরিমিডিন বেসে সাইটোসিন ও ইউরাসিল বেস হিসেবে থাকে।
8. DNA অনুলিপনের মাধ্যমে নতুন DNA সৃষ্টি করে। অপরদিকে RNA কোনো অনুলিপন হয় না। নতুনভাবে সৃষ্টি হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃশ্যপট-১ এ রফিকের বিশেষ রোগটি হলো বর্ণান্ধতা, যা একটি সেক্স-লিংকড অসুখ। রফিকের মধ্যে বর্ণান্ধতা রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হলেও রুনা এই রোগটির বাহক হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

১. রফিকের ক্ষেত্রে: বর্ণান্ধতা একটি সেক্স-লিংকড অসুখ। এর মিউটেশন হয় সেক্স ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোতে। রফিক ছেলে হওয়ায় তার একটি X এবং একটি Y ক্রোমোজোম আছে (XY)। যদি তার X-ক্রোমোজোমে বর্ণান্ধতার প্রচ্ছন্ন জিনটি থাকে, তবে Y-ক্রোমোজোমে এর কোনো অ্যালিল না থাকায় রোগটি প্রকাশ পায়। তাই রফিক বাংলাদেশের পতাকার সঠিক রং (সবুজ এবং লাল) শনাক্ত করতে পারেনি।

২. রুনার ক্ষেত্রে: রুনা মেয়ে হওয়ায় দুটি X ক্রোমোজোম থাকে। বর্ণান্ধতার প্রচ্ছন্ন জিনটি একটি X ক্রোমোজোমে থাকলেও, অন্য সুস্থ X ক্রোমোজোমের প্রকট জিনের কারণে রোগটি তার মধ্যে প্রকাশ পায়নি। এক্ষেত্রে বুনা বাহক হিসেবে থাকে এবং স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন হয়।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, রফিক পুরুষ হওয়ায় তার একটিমাত্র X ক্রোমোজোমে ত্রুটিপূর্ণ জিনটি থাকলেই রোগটি প্রকাশ পায় কিন্তু রুনা মেয়ে হওয়ায় তার দুটি X ক্রোমোজোমের একটিতে ত্রুটিপূর্ণ জিন থাকলেও অন্য সুস্থ জিনটির কারণে রোগটি প্রকাশ পায়নি, সে কেবল বাহক হিসেবে রয়েছে।

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃশ্যপট-২ এ থ্যালাসেমিয়া রোগের কথা বলা হয়েছে। জলি ও তার ভাইবোনদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া হওয়ার সম্ভাবনা কতভাগ নিচে তা যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রোগটি বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। এ রোগটি হওয়ার জন্য বাবা-মাই দায়ী থাকে। জিনের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে থ্যালাসেমিয়াকে দু'ভাবে দেখা হয়। থ্যালাসেমিয়া মেজরের ক্ষেত্রে শিশু তার বাবা ও মা উভয়ের থেকে থ্যালাসেমিয়া জিন পেয়ে থাকে। আবার, থ্যালাসেমিয়া মাইনরের ক্ষেত্রে শিশু তার মা অথবা বাবার কাছ থেকে থ্যালাসেমিয়া জিন পেয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্যামেটের মিলনের সময় জিনের মাধ্যমেই মা-বাবা থেকে থ্যালাসেমিয়া সন্তানদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।
জিনতাত্ত্বিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখানো হলো-
দৃশ্যপট-২ অনুযায়ী জলির মা থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক এবং বাবা সম্পূর্ণ সুস্থ। থ্যালাসেমিয়া একটি অটোসোমাল প্রচ্ছন্ন রোগ।
ধরা যাক,
থ্যালাসেমিয়ার স্বাভাবিক জিন = A
এবং থ্যালাসেমিয়ার জিন = a
সুতরাং, জলির সুস্থ বাবার জিনোটাইপ হবে = AA এবং জলির বাহক মায়ের জিনোটাইপ হবে Aa

এখানে AA = সম্পূর্ণ সুস্থ শিশু এবং
Aa = সুস্থ শিশু কিন্তু বাহক (রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাবে না)
কোনো শিশুরই 'aa' জিনোটাইপ হয়নি, যার অর্থ তাদের থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নাই।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, জলি ও তার ভাই বোনদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার সম্ভাবনা ০% (শূন্যভাগ), তাদের সম্পূর্ণ সুস্থ (AA) হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এবং বাহক (Aa) হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%।

11 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘দৃশ্যপট ১: রফিক…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – জীবের বংশগতি ও জৈব অভিব্যক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”