দৃশ্যপট-১: সুজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বালক। সবাই তাকে অন্য চোখে দেখে এবং প্রকাশ্যে নানা কথা বলে। মা তাকে সংসারের বোঝা মনে করে। সুজন সর্বদা নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করে। সারাক্ষণ পুতুল বানিয়ে তার সঙ্গে ভাববিনিময় করে সময় কাটায়।
দৃশ্যপট-২: তমা জন্মান্ধ। পৃথিবীর সৌন্দর্য অনুভব করা ছাড়া তার দেখার কোনো সুযোগ নেই। মা-বাবা, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুরা তাকে সহযোগিতা করে। সেও সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার চেষ্টা করে। তমা বিবাহযোগ্য হলে গ্রামের শিক্ষিত ছেলে সুমন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নেয়।
সুভার বাবার নাম বাণীকণ্ঠ।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিরচেনা প্রকৃতি, পরিবেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার বেদনায় সুভা শষ্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ল।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ে হচ্ছে না বলে লোকনিন্দা শুরু হয়ে যায়। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা অবশেষে সুভাকে বিয়ে দেওয়ার জন্য সুভাকে নিয়ে কলকাতা যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সিদ্ধান্তে সুভার হৃদয় চরমভাবে আহত হয়। দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে একে একে সে সবকিছু থেকে বিদায় গ্রহণ করে। সবশেষে শুক্লাদ্বাদশীর রাতে শোওয়ার ঘর থেকে বের হয়ে চিরপরিচিত নদীতীরে ধরণির আশ্রয় প্রত্যাশায় শষ্পশয্যায় লুটিয়ে পড়ে।
দৃশ্যপট-১-এর সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো প্রতিবন্ধীদের প্রতি পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।
'সুভা' গল্পের নাম চরিত্র সুভা হলো বাক্প্রতিবন্ধী। তাই সমাজ ও পরিবারের অবহেলা পেয়েছে সর্বদা। এমনকি নিজের মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন। সবার অবজ্ঞায় সুভার আত্মগোপন করে থাকতে মন চাইত।
দৃশ্যপট-১-এ সুজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বালক। সবাই তাকে ভিন্ন চোখে দেখে এবং প্রকাশ্যে নানা কথা বলে। মা. তাকে সংসারের বোঝা মনে করে। সুজন নিজেকে আড়াল করতে সারাক্ষণ পুতুলের সঙ্গে ভাববিনিময় করে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভাও বাক্প্রতিবন্ধী কিশোরী। বাবা-মা, আত্মীয়স্বজনও তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। মা তাকে জন্মের কলঙ্ক মনে করেন। এ জন্য সে নিজেকে সর্বদা গোপন করে রাখতে চেষ্টা করে। মানুষের পরিবর্তে সে প্রকৃতির সঙ্গ কামনা করে। প্রকৃতির মাঝে সুভা আনন্দ খুঁজে পায়। এভাবে, দৃশ্যপট-১-এর সঙ্গে 'সুভা' গল্পের প্রতিবন্ধিদের প্রতি পরিবার ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুভা ও তার মতো চাহিদাসম্পন্ন মানুষেরা দৃশ্যপট-২-এর তমার মতো সবার সহায়তা ও সহমর্মিতা পেলে প্রশ্নোক্ত "দৃশ্যপট-২-এর তমার মতো সুভাও যদি অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জীবনে বিড়ম্বনা তৈরি হতো না" মন্তব্যটি যথার্থ হবে।
'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ায় সবার কাছে ছিল অবজ্ঞাত ও অবহেলিত। এমনকি তার মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন যা সুভার জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। কিন্তু সুভা যদি সবার সহমর্মিতা ও সহযোগিতা পেত তবে তার জীবনটা অন্যরকম হতো। সমাজের সব প্রতিবন্ধী সহযোগিতা ও সহমর্মিতা পেলে তাদের জীবন বিড়ম্বনাময় না হয়ে সুন্দর ও সফল হয়ে উঠত।
দৃশ্যপট-২-এ জন্মান্ধ তমা মা-বাবা, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধুদের সহযোগিতা লাভ করেছে। সেও তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছে। এতে তাদের মধ্যে সৌহার্দ সৃষ্টি হয়েছে যা তমার পথচলাকে সহজ করে তুলেছে। সেই সঙ্গে তমা বিবাহযোগ্য হলে গ্রামের শিক্ষিত ছেলে সুমন তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে ঘরে তুলে নিয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী বলে পরিবার ও সমাজের অবহেলার শিকার হয়েছে। জীবন সংসার থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে।
'সুভা' গল্পে বাক্প্রতিবন্ধী সুভা তার মা, আত্মীয়স্বজন থেকে সহায়তা ও সহানুভূতি পায়নি। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করেছেন, যা সুভার জন্য অবমাননাকর। সুভা যদি সবার কাছ থেকে স্নেহ-মায়া-মমতা ও সহানুভূতি পেত, জীবনযাপনে উৎসাহ লাভ করত, পছন্দের যুবক প্রতাপ যদি তাকে গ্রাম ছেড়ে কলকাতায় না যেতে দিত তাহলে সে সুখে থাকতে পারত। অথচ এসব থেকে সে বঞ্চিত হয়েছে। তাই বলা যায়, তমার মতো সুভাও যদি অনুকূল পরিবেশ পেত, তাহলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জীবনে বিড়ম্বনা তৈরি হতো না।
