| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দ্রোহের প্রতীক, ন্যায়…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দ্রোহের প্রতীক, ন্যায় ও ইনসাফের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ক্ষণজন্মা তরুণ বীর শহিদ ওসমান হাদি। স্বতন্ত্র চরিত্রে উদ্ভাসিত সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটি চেয়েছিলেন শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে। আমাদের ওসমান হাদি আজ সারা বিশ্বের ওসমান হাদি। ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। সত্য কথাগুলো চোখে চোখ রেখে নির্দ্বিধায় অকপটে বলতে পারা সাহসী বিরল মানুষদের একজন ছিলেন তিনি। আজ থেকে হাজার বছর পরেও বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে বলতে পারবে আমাদেরও একজন মহাকাব্যের মহানায়ক ছিলেন, যিনি ভীষণভাবে প্রত্যাশা করতেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে মিছিলের সামনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বুলেট বিদ্ধ হয়ে হাসতে হাসতে শহিদি মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি বলতেন “বিপ্লবীর মৃত্যু ‘ঘরের মধ্যে হতে পারে না, তার মৃত্যু হবে রাজপথে গ্লোরির মৃত্যু।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
বনের পাখির হাসিতে, কান্নায় গান।
উল্লিখিত উক্তিটিতে কাজী নজরুল ইসলাম নিজেকে ধ্যানী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
যৌবনের, গান' প্রবন্ধে লেখক কাজী নজরুল ইসলাম জীবনের বাস্তব প্রয়োজনে যাঁরা প্রত্যক্ষ সেবামূলক কাজের মাধ্যমে মানবজাতির কল্যাণে ব্রতী হন, তাঁদেরকে কর্মী বলে অভিহিত করেছেন। যাঁরা এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত তাঁরা সক্রিয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শতাব্দীর অচলায়তন ভেঙে শাশ্বত সুন্দর নির্মাণ করেন। পক্ষান্তরে যাঁরা জীবনের প্রত্যক্ষ কার্যপ্রবাহে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত না থেকেও পর্দার আড়ালে থেকে সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে প্রেরণা জুগিয়ে থাকেন, দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন, তাঁদেরকে তিনি ধ্যানী বলেছেন। এ শ্রেণির মানুষ তারুণ্যের অমিত শক্তিকে স্বীয় ব্যক্তিত্বের বৈভব দিয়ে মানবকল্যাণে উৎসাহিত করেন।
উদ্দীপকে শহিদ ওসমান হাদির চরিত্রে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত তেজস্বী, বিপ্লবী ও আত্মত্যাগে উদ্দীপ্ত যৌবনের মূর্ত রূপ ফুটে উঠেছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে কবি দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের প্রশস্তি উচ্চারণ করেছেন। অটল সাধনার প্রতীক যৌবন মৃত্যুকে তুচ্ছ করে, সকল বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যায় সমাজ-প্রগ্রতি ও নতুন স্বপ্নময় মুক্ত জীবনের পথে। যৌবন- পুরানো সংস্কারকে ধ্বংস করে নতুন জগৎ রচনার সাধনায় অগ্রসর হয়।
উদ্দীপকটি ওসমান হাদি নামক এক তরুণ বিপ্লবীর চরিত্র ও আদর্শকে উপস্থাপন করেছে, যিনি ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক হিসেবে চিত্রিত। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও সাহসী বক্তব্য রাখতেন এবং রাজপথে সংগ্রামরত অবস্থায় মৃত্যু কামনা করতেন। এটি 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত সেই 'মৃত্যুকে মুঠিতলে' রাখা যৌবনেরই প্রকাশ। নজরুল যৌবনকে অটল সাধনা ও বিপুল আশা বলে বর্ণনা করেছেন, যা উদ্দীপকের ওসমান হাদির নির্দ্বিধায় সত্য বলা ও 'গ্লোরির মৃত্যু' কামনার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। এসব সাদৃশ্যেই যৌবনের গানের তেজস্বী, ত্যাগী ও আদর্শনিষ্ঠ যৌবনের রূপটি উদ্দীপকের ওসমান হাদির মধ্যে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের আংশিক বক্তব্য প্রতিফলিত হয়েছে'- উক্তিটি সঠিক কারণ এতে প্রবন্ধের আদর্শচেতা যৌবনের দিকটি, প্রতিফলিত হলেও প্রবন্ধের ব্যাপকতা ও গভীরতা অনুপস্থিত।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে নজরুল কেবল বিপ্লবী যৌবন নয়, সৃষ্টিশীল ও সর্বাঙ্গীণ যৌবনের চিত্র এঁকেছেন। তিনি যৌবনের মাতৃরূপের কথাও বলেছেন। নজরুল যৌবনকে দেশ-কাল-ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবতার মহাশক্তিরূপে বর্ণনা করেছেন।
উদ্দীপকে শহিদ ওসমান হাদির চরিত্রে 'যৌবনের গান'-এর বিপ্লবী, তেজস্বী ও আত্মত্যাগী দিকটি ফুটে উঠলেও প্রবন্ধের সেবাধর্মী ও সৃষ্টিশীল দিকটি অনুপস্থিত। উদ্দীপক কেবল ন্যায় ও সংগ্রামের কথা বলেছে। নজরুল যৌবনের যে প্রাণচঞ্চলতা, অফুরন্ত উদ্যম ও মানবসেবার মাতৃরূপের কথা বলেছেন তা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। উদ্দীপক যৌবনের বিপ্লবী দিককেই শুধু ধারণ করেছে।
'যৌবনের গান' প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলামের যৌবন দর্শনের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল। কবি যৌবনকে কেবল বিদ্রোহ বা বিপ্লবের মধ্য সীমাবদ্ধ রাখেননি। নজরুলের যৌবন হলো একই সঙ্গে কালাপাহাড়ের অসি। রোগীর শয্যায় জাগরণ, মহাসমরের সৈনিক এবং দুর্ভিক্ষে অন্ন বিলানো সেবক। অন্যদিকে উদ্দীপকটি একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবী তরুণের জীবনদর্শনের উপর কেন্দ্রীভূত, যা যৌবনের ত্যাগ ও আদর্শের দিকটি তুলে ধরে। উদ্দীপক যৌবনের সৃজনশীল, মানবিক ও সর্বজনীন মাত্রাগুলো ধারণ করে না। উদ্দীপক প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বিপ্লবী চেতনা ধারণ করলেও যৌবনের বহুমাত্রিকতা ও জীবচনবাদী দর্শনের সম্পূর্ণতা এতে ধরা পড়েনি। নজরুলের যৌবন ভাবনা যেখানে সকল দেশের, সকল কালের, উদ্দীপক সেখানে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও সংগ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।