| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু,…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার!
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছো জোয়ান, হও আগুয়ান, হাঁকিছে ভবিষ্যৎ,
এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ঘসেটি বেগম সিরাজের খালা হন।
নবাবের আদেশ এবং বাণিজ্য করার নামে গোপনে অস্ত্র আমদানি ও প্রজা পীড়নের জন্য নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের বাণিজ্য করার অধিকার প্রত্যাহার করলেন ।
• নবাবকে না জানিয়ে ইংরেজরা কাশিমবাজার দুর্গে অস্ত্র আমদানি, নানা ধরনের নিষিদ্ধ কাজ এবং নবাবের শত্রু কৃষ্ণবল্লভকে আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে নবাব ইংরেজদের বাণিজ্য করার অধিকার প্রত্যাহার করেন। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের আচরণের প্রতি রুষ্ট হয়ে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ আক্রমণ করেন এবং ইংরেজদের পরাজিত করেন। ইংরেজ নানা অপরাধমূলক কাজের জন্যই নবাব তাদের বাণিজ্য করার অধিকার প্রত্যাহার করেন।
উদ্দীপকের যাত্রীরা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বীর সেনাদের প্রতিরূপ।
• বাঙালি জাতি বীরের জাতি। এই জাতি কখনই অপরের কাছে মাথা নত করেনি। ন্যায়কে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বাংলা মায়ের সন্তানরা মরণপণ যুদ্ধ করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যাত্রীদের দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার কথা বলেছেন। যে পথ অনেক কঠিন ও বিপদসংকুল। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে কবি যাত্রীদের হুঁশিয়ার থাকতে বলেছেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেশমাতৃকার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নবাবের আস্থাভাজন সেনাপতি মিরমর্দান, মোহনলাল, নৌবে সিং হাজারি প্রমুখ তৎপর থেকেছেন। তারা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে কঠিন যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। নবাব সিরাজউদ্দৌলার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও তারা অগ্রসর হন। এদিক থেকেই উদ্দীপকের যাত্রীরা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বীর সেনাদের প্রতিরূপ
“উদ্দীপকের মাঝি ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজ একই সূত্রে গাঁথা”— মন্তব্যটি যথার্থ ।
• একজন দেশনায়ককে হতে হয় সাহসী, তেজোদীপ্ত, দূরদর্শী জ্ঞানসম্পন্ন, বিপদে ধৈর্যশীল এবং প্রত্যুৎপন্নমতি। যাঁর তেজোদীপ্তিতে সব সমস্যার অন্ধকার দূরীভূত হবে। তিনি হবেন আত্মপ্রতিষ্ঠ ও শক্তিমান । তা হলেই তিনি হতে পারবেন জাতির কাণ্ডারি, যোগ্য নেতা • উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি এমন এক মাঝির প্রত্যাশা করেছেন, যিনি সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তরির হাল ধরবেন। এখানে মাঝিকে দেশের নেতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যিনি দেশের সংকটময় মুহূর্তে দেশ ও দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। ভবিষ্যতের ডাকে সাড়া দিয়ে যিনি দুর্গম পথ পাড়ি দিতে কুণ্ঠিত হন না। ঝড়ের তীব্রতায় যিনি ভয় পান না। উদ্দীপকের মাঝির মতো ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলাও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অন্তরের আঘাত ও বাইরের আঘাত যখন একসঙ্গে আসে তখন সাধারণ মানুষ নিজেকে ঠিক রাখতে না পারলেও একজন দেশনায়ক তেজের সঙ্গে এসব ঠুনকো প্রতিকূলতা উপেক্ষা করতে পারেন বলে তিনিই আত্মপ্রতিষ্ঠ ও শক্তিমান। যার প্রমাণ নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাঝে পাওয়া যায় ৷
• ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার মাঝে দেশপ্রেম এবং একজন দেশনায়কের গুণাবলির প্রতিফলন ঘটেছে। উদ্দীপকের মাঝিকেও কবি দেশের স্বার্থে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে হাল ধরার আহ্বান জানিয়েছেন । যার মাঝে রয়েছে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দুর্গম পথ পাড়ি দেওয়ার শক্তি। আর এদিক থেকে উদ্দীপকের মাঝি এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজকে একই সূত্রে গাঁথা যায় ৷