| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দুর্গম গিরি কান্তার…’ সিলেট বোর্ড ২০২২ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

দুর্গম গিরি কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে, যাত্রীরা হুঁশিয়ার!
দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ,
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ?
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ।
এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরি পার।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ঘসেটি বেগম মুর্শিদাবাদের সুরম্য মতিঝিল প্রাসাদে থাকতেন ।
‘আমার সারা অস্তিত্ব জুড়ে কেবল যেন দেয়ালের ভিড়’– উক্তিটিতে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বেদনাভারাক্রান্ত ও ঘনায়মান অসহায় অবস্থার প্রকাশ পেয়েছে।
শাসনকার্য পরিচালনার শুরু থেকেই নবাব সিরাজউদ্দৌলা চিন্তা ও কাজের মাঝে বাধা পেয়েছেন। ঘরে-বাইরে ষড়যন্ত্র নবাবের শাসনকার্য পরিচালনায় প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঘরে, বাইরে, দরবারে, সবখানে তাঁর মনে সংকটে ফেলেছে, যা আলোচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ৷ হয়েছে শুধু প্রতিবন্ধকতার দেয়াল। আর এই দেয়ালগুলো তাঁর অস্তিত্বকে ।
উদ্দীপকের যাত্রীরা ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবের অনুগত সেনাবাহিনী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতিরূপ।
ক্ষমতা ও অর্থের মোহ মানুষকে অবিবেচক করে তোলে। এই অবিবেচক শ্রেণির মানুষেরা হীনস্বার্থ উদ্ধারে স্বদেশের শত্রুর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করে না। এমনই এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমী জনতা।
উদ্দীপকের কবি দুর্গম পাহাড় আর সীমাহীন সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার জন্য যাত্রীদের সাবধানি ও সাহসী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিপদসংকুল সমুদ্রে বিপজ্জনক অবস্থায় হাল ধরার জন্য কবি তরুণদের সাহসী ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন। পঠিত ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও দেশপ্রেমিক নবাব সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার জন্য তার বাহিনী ও দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন । ইংরেজ বাহিনী ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নবাব সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। তাই বলা যায়, দেশপ্রেমের শপথে এগিয়ে যাওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের যাত্রীরা ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বস্ত সৈনিক ও দেশপ্রেমী জনতার প্রতিরূপ ৷
সামগ্রিক প্রতিকূল পরিস্থিতির বিবেচনায় উদ্দীপকের মাঝি ও ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজকে একই
সূত্রে গাঁথা যায়।
‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজের প্রগাঢ় দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য নিরন্তর সংগ্রামের পরিচয় পাওয়া যায়। নবাবের আত্মীয়স্বজন, অধিকাংশ অমাত্য ও সেনাপতি, অর্থ ও ক্ষমতার লোভে অন্ধ হয়ে ইংরেজদের পক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাঁকে বারবার দিশেহারা করে দিচ্ছিল। কিন্তু এহেন বৈরী পরিস্থিতিতেও তিনি স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে গিয়েছেন।
উদ্দীপকের মাঝি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পথহারা। দুর্গম গিরি-মরু-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে তাকে সামনে এগোতে হবে। এজন্য তার প্রয়োজন সাহসী ও জোয়ান অভিযাত্রীর। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাবেরও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজন বিশ্বস্ত, সাহসী দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতার। কিন্তু ইংরেজদের ক্ষমতালোভী মনোভাব ও নানামুখী প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে, নবাব সিরাজউদ্দৌলা দিশেহারা। একইসঙ্গে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে নবাবের দেশপ্রেমিক সত্তা সর্বদা সংগ্রামে রত ছিল ।
প্রদত্ত উদ্দীপকের মাঝি যেমন সমস্ত প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেষ্ট, তেমনি নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলা স্বদেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। নৌকার মাঝি এ ক্ষেত্রে তরুণ ও সাহসী অভিযাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে নবাব নির্ভর করেছেন তার অনুগত সৈন্য ও দেশপ্রেমিক জনতার ওপর । অর্থাৎ সার্বিক বাস্তবতা ও মানসিকতায় উদ্দীপকের মাঝি ও নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে একসূত্রে গাঁথা যায় ।