| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘দু’টি ভিন্ন প্রাণীর…’ হলিক্রস কলেজ ২০২৬ – প্রাণীর পরিচিতি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

দু’টি ভিন্ন প্রাণীর দুই ধরনের শ্বসন অঙ্গ হচ্ছে- ট্রাকিয়া ও ফুসফুস। এদের শ্বসন কৌশলেও ভিন্নতা রয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
ধূমপানের ফলে ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের প্রাচীর ফেটে গিয়ে শ্বসন তল কমে যায়। এ অবস্থাকে এমফাইসেমা বলে।
মৃদু বা স্তিমিত আলোতে ঘাসফড়িংয়ের চোখে কোনো দর্শনীয় বস্তুর যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তাকে সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব বলে। এক্ষেত্রে একটি ওমাটিডিয়ামে দর্শনীয় বস্তুর একাধিক বিন্দু থেকে আগত আলোকরশ্মি পতিত হয়ে একটি র্যাবডোমে পৌছায় এবং সম্পূর্ণ বস্তুটির একটি অস্পষ্ট, সামগ্রিক ও ঝাপসা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়।।
উদ্দীপকে উল্লেখিত ১ম প্রাণীটি হলো ঘাসফড়িং। ঘাসফড়িং-এর শ্বসনতন্ত্রকে ট্রাকিয়ালতন্ত্র বলা হয়। ট্রাকিয়ালতন্ত্রের মাধ্যমেই ঘাসফড়িং শ্বসনকার্য সম্পন্ন করে। নিচে ট্রাকিয়া অর্থাৎ ট্রাকিয়ালতন্ত্রের গঠন চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-
১. শ্বাসরন্ধ্র: ঘাসফড়িং-এর বক্ষদেশে দুইজোড়া এবং উদর অঞ্চলে আটজোড়া অর্থাৎ মোট ১০ জোড়া শ্বাসরন্ধ্র অনুদৈর্ঘ্যভাবে অবস্থান করে। রন্দ্রগুলোর মুখে সূক্ষ্ম রোমযুক্ত ছাঁকনি থাকায় ধুলাবালি, জীবাণু, পানি ইত্যাদি ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। শ্বাসরন্ধ্রগুলো পেশি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কপাটিকার সক্রিয়তায় বদ্ধ ও উন্মুক্ত হয়।
২. শ্বাসনালি বা ট্রাকিয়া: শ্বাসরন্দ্রগুলো দেহমধ্যস্থ অ্যাট্রিয়াম গহ্বর পথে যে স্থিতিস্থাপক, সূক্ষ্মনালিতে উন্মুক্ত হয় তাদের ট্রাকিয়া বলে। ট্রাকিয়াগুলো পরবর্তীতে শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে সমগ্র দেহে জালিকাকারে বিন্যস্ত হয়। শাখা-প্রশাখা সৃষ্টিকারী ট্রাকিয়াকে ট্রাকিয়াল কান্ড বলা হয়ে থাকে। ঘাসফড়িং-এর দেহে তিন জোড়া ট্রাকিয়াল কাণ্ড থাকে।
৩. ট্রাকিওল: ট্রাকিয়া থেকে সৃষ্ট অতিসূক্ষ্ম শ্বাসনালিকাকে ট্রাকিওল বলে। ট্রাকিওলের বর্ণ অস্বচ্ছ, প্রাচীর পাতলা এবং অন্তঃপ্রাচীর টিনিডিয়াবিহীন। ট্রাকিওল কোষগুলো তরলে পূর্ণ থাকে। এ তরলের মাধ্যমে দেহকোষে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
৪. বায়ুথলি: ঘাসফড়িং-এর কতকগুলো ট্রাকিয়া প্রসারিত হয়ে পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট বায়ুথলি সৃষ্টি করে। বায়ুথলিতে বাতাস সঞ্চিত থাকে, যা শ্বসনের সময় বায়ু প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দুটি প্রাণীর মধ্যে ফুসফুসযুক্ত প্রাণীর শ্বসন প্রক্রিয়া উন্নত। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
ফুসফুস ট্রাকিয়ার চেয়ে অনেক বেশি জটিল গঠনবিশিষ্ট অঙ্গ। ফুসফুসে অসংখ্য অ্যালভিওলাই থাকে, ফলে গ্যাস বিনিময়ের জন্য পৃষ্ঠতল খুব বড় হয়- অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ অত্যন্ত কার্যকর। ফুসফুসে রক্ত সংবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে অক্সিজেন সরাসরি রক্তে মিশে যায় এবং দ্রুত সারা শরীরে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ট্রাকিয়া ব্যবস্থায় অক্সিজেন সরাসরি কোষে পৌঁছায়, যা বড় প্রাণীর জন্য যথেষ্ট নয়। ফুসফুস ভিত্তিক শ্বসন প্রক্রিয়ায় বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণ করা যায়, ফলে বেশি শক্তি উৎপন্ন হয়। উন্নত প্রাণীদের (যেমন- মানুষ) বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ও গভীরতা নিয়ন্ত্রণযোগ্য হওয়ায় দেহের চাহিদা অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হয়। ফুসফুস বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণের জন্য অত্যন্ত কার্যকর এবং এটি উন্নত প্রাণীদের স্থলজ পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। ট্রাকিয়া সাধারণত ছোট অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে দেখা যায়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, কার্যকারিতা, নিয়ন্ত্রণক্ষমতা ও বৃহৎ দেহে উপযোগিতার কারণে ফুসফুসীয় শ্বসন প্রক্রিয়া ট্রাকিয়াল শ্বসনের তুলনায় অধিক উন্নত।