| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘-এ. বেবাক মাইনষেরেই…’ a – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

-এ. বেবাক মাইনষেরেই এমবায় ঠকাইছে। করিম গাজী বলে, আরে মিয়া এমুন কারবারডা অইল আর তুমি ফির্যা চলছো?
-কি করমু তয়?
-কি করবা! খেঁকিয়ে ওঠে করিম গাজী, চল আমাগ লগে। দেখি কি করতে পারি।
করিম গাজী তাড়া দেয়, কি মিয়া, চাইয়া রইছ ক্যান? আরে এমনেও মরছি অমনেও মরছি। একটা কিছু না কইর্যা ছাইড়্যা দিমু?
ওসমান তোতাকে ঠেলে দিয়ে বলে, তুই বাড়ী যা গা। থাকে কপালে!
তার ঝিমিয়ে-পড়া রক্ত জেগে ওঠে। গা ঝাড়া দিয়ে সে বলে-হ, চল। রক্ত চুইখ্যা খাইছে। অজম করতে দিমু না, যা থাকে কপালে!
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
কপিলদাস গল্প বলার সময় নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে ইতস্তত করে।
➤ পরামর্শ সভায় কারও কণ্ঠে প্রতিবাদী মনোভাব না থাকায় গোটা ব্যাপারটা দেখে কপিলদাসের ভারি অবাক লাগে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে সাঁওতালরা নিজেদের বসতবাটি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় সবাই মিলে পরামর্শ সভার আয়োজন করে। কপিলদাস সেখানে না থাকলেও দূর থেকে সে সবকিছু অবলোকন করে। সে দেখতে পায় দীনদাস, মহিন্দর, ভায়া মাঝিরা কথা বলছে। তাদের স্বর ভারি ধীর ও শান্ত, রাগ নেই, এমনকি কেউ চিৎকার করে মহাজনকে গালাগালও দিচ্ছে না। এই দিকটি কপিলদাসের কাছে অবাক লাগে।
সারকথা: পরামর্শ সভায় কারও মধ্যে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর না থাকায় সভার গোটা ব্যাপারটা কপিলদাসের কাছে অবাক লাগে।
➤ উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের প্রতিবাদী চেতনাকে নির্দেশ করে।
➤ আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা অন্যকে ঠকিয়ে নিজেদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে চায়। এর জন্য তারা অসহায় ও দুর্বল মানুষদের বেছে নেয়। তবে তারা একসময় শোষকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
➤ উদ্দীপকে একজন শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের প্রতিবাদ লক্ষ করা যায়। এখানে সাহসী করিম গাজীর কথায় ওসমান শোষকের বিরুদ্ধে লড়াই করার দৃপ্ত শপথ নেয়। তাদের এই চেতনা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই গল্পে সাঁওতালরা যখন টের পায় যে শীঘ্রই তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হবে, তখন তারা নানা শলাপরামর্শ করতে থাকে। সবাই ভয় ও দ্বিধার মধ্যে থাকলেও কপিলদাস বসে থাকে না। সে বৃদ্ধ বয়সে তির-ধনুক নিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করতে নামে। এভাবে সে প্রতিবাদী চেতনার পরিচয় দেয়, যা উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সারকথা: 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের প্রতিবাদী চেতনার দিকটি উদ্দীপকের চেতনায় প্রতিফলিত হয়েছে।
➤ হ্যাঁ, উদ্দীপকের ওসমানের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসের চেতনার তুলনা করা যায়।
➤ আমাদের সমাজে এমন অনেক সাহসী মানুষ থাকে যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। তারা অসীম সাহস নিয়ে সমাজের মানুষ ও নিজেদের শোষকের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য, অসীম সাহস নিয়ে প্রতিবাদ করে এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
➤ উদ্দীপকে ওসমান করিম গাজীর অনুপ্রেরণায় প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। তার ঝিমিয়ে পড়া রক্ত জেগে ওঠে। সে শোষকের রোষানলের প্রতিকার করতে প্রস্তুত হয়। গল্পে কপিলদাসও প্রতিবাদী। বসতবাড়ি হারানোর আশঙ্কায় সবাই যখন ভীত, তখন সে সবাইকে অনুপ্রাণিত করে এবং নিজে এগিয়ে যায়। বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া কপিলদাস মুর্মু তরুণদের ভয়-দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণ করে। কপিলদাস মুর্মু তার স্বজাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তার প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে উদ্দীপকের ওসমানের প্রতিবাদী চেতনা এখানে এক সূত্রে গাঁথা।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস একজন সাহসী মানুষ। সকল ভয় ও দ্বিধাকে পিছনে ফেলে জাতিসত্তার অস্তিত্ব রক্ষায় তির-ধনুক হাতে নিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করে। তার এই চেতনা নিঃসন্দেহে প্রতিবাদী চেতনাকেই ধারণ করে, যা উদ্দীপকের ওসমানের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে তুলনা করা যায়।
সারকথা: উদ্দীপকের ওসমানের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে গল্পের কপিলদাস মুর্মুর চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ ও অভিন্ন।