| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘E : সাইনুসাইটিসF…’ ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ২০২৫ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

E : সাইনুসাইটিস
F : হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
প্রাইমারি ব্রঙ্কাস থেকে শুরু করে অ্যালভিওলাস পর্যন্ত ফুসফুসের গঠন চিত্র দেখতে অনেকটা বৃক্ষের মতো বলে একে শ্বসন বৃক্ষ বা ব্রাঙ্কিয়াল বৃক্ষ বলে।
কোন কারণে যেমন- বৈদ্যুতিক শক লাগা, অক্সিজেনের অভাব, কার্বন মনোঅক্সাইড-এর বিষক্রিয়া, পানিতে ডোবা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছাস, ঘাড়ে বা মাথায় ইনজুরি ইত্যাদি কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া অথবা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে এমন জরুরী পরিস্থিতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা নাক দিয়ে যান্ত্রিক বা কায়িক ছন্দোময় প্রক্রিয়ায় বাতাস অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়ে বা বের করে দিয়ে পুনরায় শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক করে তুলে ভুক্তভোগি ব্যক্তিকে বাঁচিয়ে তোলার নামই কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস। তবে এ কাজটি করতে হবে একজন প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে দিয়ে। দুর্ঘটনায় কারো শ্বাস-প্রশ্বাস বা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেলে তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়।
উদ্দীপকে F হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র যা অস্থির গাঠনিক একক। নিচে হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের গঠন ব্যাখ্যা করা হলো-
নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র। নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে সাজানো থাকে। স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুস্পষ্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত। কেন্দ্রীয় এ নালিটি হলো হ্যাভারসিয়ান নালি। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন গড়ে ওঠে। প্রত্যেক ল্যামেলায় ল্যাকুনা নামে কতগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায়। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সুক্ষ্ম কতগুলো নালিকা বেরোয়। এদের ক্যানালিকুলি বলে। এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে। এসব নালিকে ভকম্যানস ক্যানাল বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত E রোগটি হলো সাইনুসাইটিস। নিচে সাইনুসাইটিস রোগের লক্ষণ ও জটিলতা থেকে নিজেকে যেভাবে প্রতিরোধ ও নিরাময় করা যায় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. শুষ্ক, খোলামেলা এবং যথেষ্ট আলো বাতাস আছে এমন ঘরে বসবাস করা।
২. ধূলাবালি থেকে দূরে থাকা।
৩. ঘন ঘন ঠান্ডা না লাগানো।
৪. একটু লবণ পানি নাক দিয়ে টেনে নেওয়া এবং মুখের ওপর গরম সেক দেওয়া।
৫. গরম ভাপ নেওয়া।
৬. নিওসাইনেফ্রিন ব্যবহার করা।
৭. প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিক, হিস্টাসিন জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করা।
এছাড়াও যদি রোগ এড়ানো না যায় তাহলে নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া। এ নিয়মগুলো মেনে চললে সাইনুসাইটিস থেকে মুক্ত থাকা যায়।