| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এ সংসারে এসেছিলাম…’ ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এ সংসারে এসেছিলাম ন’বছরের মেয়ে
তারপর এই দীর্ঘ জীবন বেয়ে
রাঁধার পরে খাওয়া আর খাওয়ার পরে বাঁধা
বাইশ বছর পরও এক চাকাতেই বাঁধা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নবদম্পতির প্রেমালাপ' 'কবিতাটি উদ্ধত হয়েছে।
"অবলার হাতেও সমাজের জীবন-মরণের কাঠি আছে।”-কথাটি দ্বারা সমাজ-জীবনে নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে নির্দেশ করা হয়েছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষশাসিত সমাজজীবনের সর্বক্ষেত্রে নারীকে অবহেলা করার দিকটি তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে বাঙালি মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বিষহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখানো হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। কিন্তু নারীরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের অবলা বলে পিছনে ফেলে রাখলে চলবে না। প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নারীরা যদি উপযুক্তভাবে নিজেদের গড়ে তোলে তাহলে তারাই দেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠন করতে পারে। মূলত নারীদের উন্নয়নের ওপর দেশ ও জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে। তাই, প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থানের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি চরম 'অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণের কথা বলেছেন। সমাজের বিধিব্যবস্থা নারীদেরকে পুরুষের অবস্থান থেকে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক করে রেখেছে। মেয়েরা চাইলেও তাদের বৃত্তাবদ্ধ জীবন থেকে বের হতে পারে না।
উদ্দীপকে অল্পবয়সে বিয়ে হয়ে এসে একজন নারীর স্বামীর একান্ত অনুগত হয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। সে নয় বছর বয়সে সংসারে এসে রাঁধার পরে খাওয়া আর খাওয়ার পরে রাঁধার কাজ করে বাইশ বছর কাটিয়ে দিয়েছে। এ দিকটি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত পুরুষের হীন -আচরণ এবং নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এখানে পুরুষের দাসীরূপে নারীরা উপস্থাপিত হয়েছে। এভাবে উদ্দীপকে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থানের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে।
সমাজবাস্তবতার নিরিখে বলা যায়, "উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' 'প্রবন্ধে বাঙালি নারী সমাজের পারিবারিক বঞ্চনার চিত্র প্রতিফলিত 'হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পুরুষশাসিত সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, অধিকারহীনতাকে দেখিয়েছেন। এখানে পুরুষের স্বার্থপরতা ও আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে সমাজ ও পরিবারের বেড়াজালে নারীর বন্দি হয়ে থাকার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে অপরিণত বয়সে স্বামীর সংসারে এসে এক নারী কীভাবে পরিবারে দীর্ঘ বাইশ বছর বন্দিজীবন পার করেছে তা তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের এ বিষয়টি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকের বর্ণনায় উঠে আসা অধিকারবঞ্চিত নারীর জীবনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক যুক্তিসহকারে দেখিয়েছেন যে, সমাজ নারীশক্তিকে পিছনে ফেলে স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। কারণ পরিবার ও সমাজজীবনে নারী অর্ধেক শক্তি। কাজেই এই নারীকে দুর্বল ও অবনত করে রাখলে সমাজও দুর্বল ও অবনত হয়ে পড়ে। এ জন্য তিনি পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন। উদ্দীপকের নয় বছর বয়সে সংসারে আসা নারীর জীবন গৃহ-পরিবেশে বন্দি হয়ে পড়ার বিষয়টি 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীর বঞ্চনার চিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।