এডিস মশার কামড়ে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। যাদের অধিকাংশই গরিব। অথচ যাদের আয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে পুরো পরিবার। এতে পরিবারটি একেবারেই সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছে। এসব দেখে সুবহা সুনাতের মনে তুমুল ভাংচুর হয়। এডিসকে লক্ষ করে বলে, ‘হে এডিস, তুমি কি দেখো না সেসব দুর্নীতিবাজ ও অত্যাচারীকে যারা জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে তাদের ওপর নির্যাতন চালায়? বরং তাদেরও কামড়াও যারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং অনাচার ঘটায়।’
বাতাস দুঃখী মায়ের ভাতের হাঁড়ি উলটে ফেলে।
কবি পবনের কাছে মিনতি করেছেন যেন গরিব-দুঃখীদের দুর্দশার মাত্রা আর না বাড়ে।
কবি পবন অর্থাৎ বাতাসের কাছে মিনতি করেছেন স্থির হওয়ার জন্য। কারণ বৈশাখের মহাপ্রতাপশালী বাতাসে গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে যায়। এতে তার জীবিকা অর্জনও থমকে যায়। চাষির নড়বড়ে ঘরটি বৈশাখের ঝড়ের প্রতাপে গুঁড়িয়ে গেলে সে নিরাশ্রয় হয়ে পড়ে। এসব কারণে কবি গরিব-দুঃখীদের প্রতি সহমর্মী হয়ে পবনের কাছে স্থির হওয়ার জন্য মিনতি করেছেন।
উদ্দীপকে এডিস মশার কামড়ানোয় 'বোশেখ' কবিতার কালবৈশাখির নিষ্ঠুর করাল গ্রাস এবং আগ্রাসী থাবায় অসহায় প্রাণী ও দরিদ্র মানুষের শিকার হওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের পরাক্রমশালী মাস বৈশাখের রুদ্র সংহারক রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। বৈশাখের নিষ্ঠুর করাল গ্রাস ও আগ্রাসী থাবায় কখনো কখনো লন্ডভন্ড হয়ে যায় এক-একটি জনপদ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয় হতদরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণীরা।
উদ্দীপকে এডিস মশার আক্রমণে হতদরিদ্র পরিবারের সর্বস্বান্ত হওয়ার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে এডিস সংক্রমণের প্রকোপ বাড়ে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এডিস মশার আক্রমণে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় হতদরিদ্র পরিবারের কর্মক্ষম মানুষ, যাতে পুরো পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। 'বোশেখ' কবিতায় কালবৈশাখির করাল গ্রাসে হতদরিদ্র মানুষের শিকার হওয়ার সাথে উদ্দীপকের এ দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের সুবহা সুনাতের জিজ্ঞাসায় 'বোশেখ' কবিতার কবির বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অবসান কামনার বিষয়টি ফুটে ওঠায় এতে কবির মূল উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
'বোশেখ' কবিতার কবি কালবৈশাখির করাল গ্রাসে হতদরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণীর শিকার হওয়া দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন ধ্বংস করতে হলে কালবৈশাখি যেন শ্রমজীবী মানুষদের শোষণ করে গড়ে ওঠা প্রাসাদ ধ্বংস করে।
উদ্দীপকের সুবহা সুনাতও 'বোশেখ' কবিতার কবির মতো এডিস মশার কামড়ে হতদরিদ্র পরিবারের সর্বস্বান্ত হওয়া দেখে ক্ষুব্ধ। সে এডিস মশার কাছে মিনতি জানিয়েছে যারা দুর্নীতিবাজ ও অত্যাচারী তাদের কামড়াতে। যারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং অনাচার ঘটায় তাদের ধ্বংস করার আহ্বান সুবহা সুনাতের।
'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন বৈশাখের যত নির্মমতা সব অসহায় মানুষের ওপর চলে। তাই কবি আক্ষেপ করে বলেছেন, প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা কেন শুধু এই গরিবের বিরুদ্ধেই ঘটবে? অবশেষে কবি আহ্বান করেছেন, ধ্বংস যদি করতেই হয় তবে পাপের প্রাসাদ গুঁড়িয়ে দাও যা গড়ে উঠেছে দরিদ্রকে শোষণের মধ্য দিয়ে। কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। উদ্দীপকে সুবহা সুনাতের জিজ্ঞাসাতেও 'বোশেখ' কবিতার কবির মূল এই উদ্দেশ্য প্রতিফলিত হয়েছে।
