A. Nayan
A. Nayan
28 May 2026 (4 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘এগারো বছরের কিশোর…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: general📚 বই: বাংলা📖 ৩য় অধ্যায় : সুভা - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর🔢 সৃজনশীল নং:🏫 বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

এগারো বছরের কিশোর মিদুল প্রায়ই রাস্তার পাশে একাকী বসে থাকে। সব ছেলে-মেয়ে খেলাধুলা করলেও তাকে কখনো নেয় না। ছেলেটি ধান কাটতে পারে, নাও বাইতে পারে, অসাধারণ ছবি আঁকতে পারে। শুধু মুখ দিয়ে লালা ঝরে ও বাঁকিয়ে হাঁটে বলে সবাই তাকে এড়িয়ে থাকতে চায়। কিন্তু একজন সমাজকর্মী আদিলা তার পিতা-মাতা ও সমবয়সিদের বোঝান যে, “মিদুল সমাজের বোঝা নয়। তারও আছে বাঁচার অধিকার।”

উত্তর:

প্রতাপের প্রধান শখ ছিপ ফেলে মাছ ধরা।

উত্তর:

সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত তার নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রতাপকে বোঝানোর জন্য।
প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এ পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সুভা সেসব কিছুই করতে পারত না। আর এ কারণেই সে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।

উত্তর:

উদ্দীপকে উল্লিখিত মিদুলের মাঝে 'সুভা' গল্পের সুভার সাদৃশ্যগত দিক হলো শারীরিক প্রতিবন্ধিতা ও সকলের অবহেলা।

'সুভা' গল্পের সুভা বাক্প্রতিবন্ধী । সে কথা বলতে পারত না বলে সমবয়সিরা তার সঙ্গে খেলত না। সবাই তাকে নিয়ে নেতিবাচক দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত তার সামনেই। তার মাও তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করতেন।
উদ্দীপকের মিদুল প্রায়ই রাস্তার পাশে একাকী বসে থাকে। সব ছেলে-মেয়ে খেলাধুলা করলেও তাকে কখনো খেলায় নেয় না। শুধু মুখ দিয়ে লালা ঝরে ও বাঁকিয়ে হাঁটে বলে সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাক্প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে সমাজের মানুষের কাছ থেকে অবহেলার শিকার হয়। তার মা তাকে জন্ম দিয়ে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। বন্ধুবান্ধব তাকে খেলায় নেয় না। আত্মীয়-স্বজনও তাকে আদর করে না। সমাজের কটু কথা থেকে বাঁচতে তার বাবাও তাকে কলকাতায় নিয়ে যেতে চায়। এভাবেই মিদুলের মাঝে সুভার সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

উত্তর:

"উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মীর চেতনা ও 'সুভা' গল্পের গল্পকারের চেতনা অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ কেননা তারা উভয়েই প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহমর্মী।
'সুভা' গল্পের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সূক্ষ্মতর দিকগুলো তুলে ধরেছেন। বাক্প্রতিবন্ধী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধে গল্পটি অমর হয়ে আছে। এ গল্প পাঠে পাঠকের মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি হয় প্রতিবন্ধীদের প্রতি।
উদ্দীপকের মিদুল শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে কেউ খেলায় নেয় না। মুখ দিয়ে লালা ঝরে আর বাঁকিয়ে হাঁটে বলে সবাই তাকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু সমাজকর্মী আদিলা মিদুলের পিতা-মাতাকে বোঝান যে সে সমাজের বোঝা নয়, তারও আছে বাঁচার অধিকার। প্রতিবন্ধীদের প্রতিআদিলার এমন সহানুভূতি ও ভালোবাসাই 'সুভা' গল্পের লেখকের কাম্য। এ গল্পে লেখক বাকপ্রতিবন্ধী সুভার প্রতি তাঁর হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ করেছেন। এর মাধ্যমে সমাজের মানুষকে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
'সুভা' গল্পে লেখক সুভাকে একজন বাষ্প্রতিবন্ধী হিসেবে উপস্থাপিত করলেও সুভার মধ্যে একজন স্বাভাবিক মানুষের মতোই অনুভূতি দেখিয়েছেন। সুভা প্রতিবন্ধী হলেও মানুষ, নির্বাক জীব ও প্রকৃতিকে ভালোবেসেছে। তার প্রতি সমাজের অবহেলা-অনাদর সে উপলব্ধি করতে পেরেছে। এভাবেই এ গল্পের মাধ্যমে লেখক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর, মন ও চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির বিশেষ দিকগুলো উপস্থাপন করেছেন। এগুলোর মাধ্যমে সমাজে তাদের প্রতি সবার মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগের আহ্বান জানান। আর লেখকের এমন চেতনাই উদ্দীপকের সমাজকর্মীর চেতনায় ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

10 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘এগারো বছরের কিশোর…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫ – বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”