| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এই মানবিকতাকে যদি…’ a – কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এই মানবিকতাকে যদি বাঙালি সংস্কৃতির একটা মুখ্য প্রকাশ বলে গণ্য করি, তাহলে উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে সেই মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করি। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু প্রতিবাদ আছে। একালের সংস্কৃতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা সরবে শোনা যায়। এই দিক দিয়ে দেখলে আমাদের সংস্কৃতির প্রবহমান ধারায় মানবকল্যাণ ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাত ফুটে উঠেছে। আমাদের সংস্কৃতির বিচিত্র রূপ নিয়ে যেমন আমরা গর্ব করতে পারি, তেমনি তার এই ভাববস্তুও আমাদের গৌরবের বিষয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৫
'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে মেয়েদের গলায় শানানো স্বরের কথা বলা হয়েছে।
➤ প্রশ্নোক্ত কথাটিতে কপিলদায় মুর্মুর শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের দিনগুলোতে ফিরে যাওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস প্রায়ই টাঙন নদীর পাড়ে বসে থাকে। সেখানে বসে থাকতে থাকতে তার একটা গা-ছাড়া ভাব চলে আসে। এই ভাবটি যখন আসে তখন তার জীবনের পুরনো ঘটনার ছবি সাজিয়ে নিয়ে আসে। তার চোখের সামনে পুশনা পরবের তুমুল নাচ, মেয়েদের গলায় শানানো স্বর প্রভৃতি ঘটনা ভেসে ওঠে। তখন সে যৌবনকালের ঘটনা স্মরণ করতে থাকে। মহাজনের ধান খামারবাড়ি থেকেই কিষানদের হাতে বিলিয়ে দেওয়া, মানুয়েল পাদ্রিকে টাঙনের পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ইত্যাদি ঘটনা তার চোখে ভাসতে থাকে।
সারকথা: বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভাবনার সময় কপিলদাস দেখতে দেখতে তার কল্পনায় যৌবনকালে চলে যায়।
➤ সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ সমাজের মানুষ নানাভাবে অন্যায়-অবিচারের শিকার হয়। সমাজে এমন অনেক সাহসী মানুষও থাকেন যারা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রবল সাহস নিয়ে সেসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। পুরনো ধারার সংস্কৃতিতে সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে একালের সংস্কৃতিতেও তার প্রতিফলন নির্দেশিত হয়েছে। 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সামাজিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। সাঁওতাল গ্রাম উচ্ছেদ করে মহাজন ধান চাষ করতে চাইলে কপিলদাস মুর্মু একাই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। এভাবে উদ্দীপকটি 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকের প্রতিবাদী চেতনার সঙ্গে 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাস মুর্মুর চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ "উদ্দীপকে প্রতিফলিত মানবিক চেতনা এবং 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনা একসূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে, সম্মান করে, শ্রদ্ধা করে। সমাজে যখন অন্যায়-অনাচার ছড়িয়ে পড়ে তখন মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষেরাই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
➤ উদ্দীপকে বাঙালি সংস্কৃতিতে মানবিকতার গুরুত্বের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উনিশ-বিশ শতকের বাংলা সংস্কৃতিতে মানববাদের বিচিত্র রূপ প্রত্যক্ষ করা যায়। এ মানবিক চেতনার ফলেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতি সুস্পষ্ট পক্ষপাতের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এই মানবিক চেতনা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের মানবিক চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এই গল্পের কপিলদাস মুর্মু একজন বৃদ্ধ সাঁওতাল। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা তীব্র হলে কপিলদাস মুর্মু আপন তেজে জ্বলে উঠেছে। শত্রুর কবল থেকে সাঁওতালদের রক্ষা করতে তির-ধনুক হাতে তুলে নিয়েছে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে কপিলদাস মুর্মু শত্রুর হাত থেকে নিজেদের বসতবাটি রক্ষার জন্য একাই লড়াইয়ে নেমে পড়ে। মানুষের কল্যাণের জন্য সে বৃদ্ধ বয়সে অসীম সাহস নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। জীবনের শেষ কাজ হিসেবে শেষ লড়াইটা লড়ার জন্য সে আত্মত্যাগী সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, যা তার মানবিক চেতনাকেই নির্দেশ করে। এই দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: উদ্দীপকে যে চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে তা 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের কপিলদাসের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে