| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এই পবিত্র বাংলাদেশ/বাঙালির…’ সিলেট সরকারি কলেজ ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এই পবিত্র বাংলাদেশ/বাঙালির আমাদের
দিয়া প্রহারেণ ধনঞ্জয়/তাড়াব আমরা, করি না ভয়
যত পরদেশি দস্যু ডাকাত/রামাদের গামাদের
বাংলা বাঙালির হোক; বাংলার জয় হোক/বাঙালির জয় হোক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
• মানিকচাঁদকে আলিনগরের দেওয়ান নিযুক্ত করা হয়েছে।
• 'তার নবাব হওয়াটাই আমার মস্ত ক্ষতি।'- কথাটি বলেছেন ঘসেটি বেগম।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ক্ষমতার প্রতি ঘসেটি বেগমের অসীম লোভ। তিনি মনে করেন সিরাজ বাংলার নবাব, আর তিনি তার প্রজা। সিরাজ তার সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করেছে, মতিঝিল থেকে তাকে বিতাড়িত করেছে, শওকতজঙ্গের নবাব হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে, হোসেন কুলি খাঁকে হত্যা করেছে। এসব কারণে ঘসেটি বেগম সিরাজের নবাব হওয়াটাকে তার জন্য মস্ত বড় ক্ষতি বলে মনে করেন।
• উদ্দীপকের পরদেশি দস্যু ডাকাত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি ইংরেজদের নির্দেশ করে।
• ইংরেজরা এদেশে ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে এসে এদেশের শাসন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে সাম্রাজ্য বিস্তারের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তৎপর হয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা পূর্বেও আধিপত্য বিস্তার করে অনেক জাতিকে শাসন-শোষণ করেছে।
• উদ্দীপকে বাঙালির নির্ভয়ে এগিয়ে চলা এবং বিদেশি শত্রুদের বাগে এনে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে দেশের সার্বিক অবস্থা ঠিক রাখার জন্য সংগ্রামী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। এই বিষয়টি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের 'ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির' হীন কর্মকান্ড প্রতিহত করে বাঙালির বাংলাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে নবাবের অভিযান পরিচালনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে বিদেশি শত্রু শাসকদের প্রশ্রয় না দিয়ে প্রতিহত করার যে চেতনা ফুটে উঠেছে সেই চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কর্মকান্ডে। তিনি কোম্পানির উদ্ধত আচরণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। বাণিজ্যের অনুমতি নিয়ে কোম্পানির লোকেরা গোপনে কাশিমবাজার কুঠিতে অস্ত্র আমদানি করেছে। লবণচাষিদের নির্যাতন করেছে জেনে নবাব তাদের কাছে এর কৈফিয়ত চেয়েছেন এবং তাদের কাছে কোনো প্রকার সওদা না বেচার নির্দেশ দিয়েছেন। নবাবের নির্দেশকে গভর্নর ড্রেকের বাড়ি কামানের গোলায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। দেশপ্রেমিক নবাব দেশের মানুষের কল্যাণে এসব করেছেন। কারণ বাণিজ্যের নামে তারা এদেশে লুটপাট করেছে, যা উদ্দীপকের দস্যুদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
• "উদ্দীপকটি নাটকের খণ্ডিত চেতনার প্রতীক"- উক্তিটি যথার্থ।
• স্বার্থান্ধ মানুষ নিজেদের স্বার্থে স্বদেশ ও স্বদেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন করে।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে অল্প বয়সে সিরাজের নবাব হওয়াকে আলিবর্দির বড় মেয়ে ঘসেটি বেগম মেনে নিতে পারেননি। প্রধান রাজ-অমাত্যরাও নবাবকে সহজভাবে গ্রহণ করেননি। ফলে নিকটাত্মীয় এবং প্রধান রাজ-অমাত্যরা মিলে নবাবের বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র শুরু করেন। নাট্যকার এই দিকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শেষ পর্যন্ত সিরাজের করুণ পরিণতি পর্যন্ত দেখিয়েছেন। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের শুরুতেই সিরাজের বাহিনী কলকাতা আক্রমণ করে ইংরেজদের তাড়িয়েছে। কারণ তারা ব্যবসায়ের নাম করে অস্ত্র আমদানি, সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, লবণচাষিদের নির্যাতন ইত্যাদি কাজসহ শাসন ক্ষমতা লাভের ষড়যন্ত্র করেছিল। নাটকের এই দিকটি এবং তা থেকে উত্তরণের চেতনার দিকটি উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।
• 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে উদ্দীপকের দিকটি ছাড়াও নাট্যকার আরও কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরেছেন। সেসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র, দেশের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার জন্য নবাবের আহ্বান, ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করে নবাবের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য রাজঅমাত্যদের শপথ গ্রহণ, ইংরেজদের সঙ্গে মিরজাফরদের হাত মিলানো, মোহাম্মদি বেগ কর্তৃক দশহাজার টাকার লোভে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নির্মমভাবে হত্যা ইত্যাদি। এসব বিষয় উদ্দীপকে নেই। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।