| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এইখানে তোর বুজির…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – মাসি পিসি, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এইখানে তোর বুজির কার, পরীর মতন মেয়ে,
বিয়ে নিয়েছিনু কাজিদের বাড়ি দিয়ানি ঘর পেরে।
এত আদরের দুলিতে ভাষারা ভালোবাসিত না মোটে,
হাতেতে মণি না মারিত কারে শত যে মারিত ঠোঁটে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিতৃপ্রদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
আহ্লাদিকে দেখে তার নিজের মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমান ছলছল চোখে তাকায় তার দিকে।
আহ্লাদির চেয়ে বয়সে ছোট মেয়েটাকে রহমান বিয়ে দিয়েছিল। অবুঝ মেয়েটা শ্বশুরবাড়ি না যাওয়ার জন্য খুব কেঁদেছিল । কিন্তু তার ভালোর জন্যই তাকে জোর-জবরদস্তি করে শ্বশুরবাড়ি পাঠায় রহমান। সেখানে গিয়ে অল্পদিন পরেই মেয়েটা মারা যায়। একই সমস্যার শিকার আহ্লাদিকে দেখে মেয়ের কথা মনে হওয়ায় বুড়ো রহমানের চোখ ছলছল করে ওঠে।
পরিণতি ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের বুজির সঙ্গে 'মাসি-পিসি' গল্পের আহ্লাদির বিবাহিত জীবনের দুঃখকষ্ট এক ও অভিন্ন।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা প্রতিনিয়তই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন কর্তৃক লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হয়। আহ্লাদি এমনই নির্যাতনের শিকার। সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, অথচ তার স্বামী তাকে নানাভাবে শারীরিক- মানসিক নির্যাতন করত। খেতে না দিয়ে দিনরাত খুঁটির সাথে বেঁধে রাখত, কলকেপোড়া ছ্যাঁকা দিত। শ্বশুরবাড়ির লাঞ্ছনা সহ্য করতে হতো প্রতিনিয়ত। এসব অত্যাচার মেনে নিতে না পেরে সে বাপের বাড়ি চলে আসে এবং মাসি-পিসির আশ্রয়ে জীবন শুরু করে। আর মাসি-পিসিও আহ্লাদির অস্তিত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের বুজিকে বনিয়াদি পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বুজির বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নানাভাবে নির্যাতন করত। শারীরিক নির্যাতন না করলেও নিজেদের আচার- ব্যবহার আর কথাবার্তায় তারা সবসময়ই বুজিকে অবহেলা ও অবজ্ঞা করত। এই মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অকালেই বুজি প্রাণ হারায়। উদ্দীপকের বুজি ও গল্পের আহ্লাদি দুজনই বিবাহিত জীবনে অন্যায়- অত্যাচারের শিকার। বিবাহিত জীবন তাদের নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ছিল না। তবে আহ্লাদি এই অনিরাপদ জীবন থেকে বাঁচতে মাসি-পিসিকে পাশে পেলেও বুজি তা পায়নি। মৃত্যুই ছিল তার জীবনের শেষ পরিণতি। তাই বলা যায় বুজি ও আহ্লাদির জীবনযন্ত্রণা এক হলেও পরিণতি ছিল ভিন্ন।
'মাসি-পিসি' পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হওয়ায় উদ্দীপকে গল্পের মূলভাব আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা অসহায় ও বঞ্চিত হয়ে চলেছে নিরন্তন। এই বঞ্চিত নারী সমাজের প্রতিনিধি মাসি-পিসি ও আহ্লাদি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ব্যাধিগ্রস্ত পুরুষশাসিত সমাজের কাছে তারা হার মানেনি। মাসি-পিসি নিজেদের জীবিকার ব্যবস্থা নিজেরাই করেছে। আবার পিতৃমাতৃহীন আহ্লাদির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। সমাজের লালসা-উন্মত্ত শ্রেণির কবল থেকে রক্ষা পেতে বুদ্ধিদীপ্ত ও সাহসী সংগ্রাম পরিচালনা করেছে।
উদ্দীপকের বুজিকে তার পরিবার বনিয়াদি ঘরে অনেক আশা করে বিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এই বিয়ে তার জীবনে সুখ এনে দিতে পারেনি। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লাঞ্ছনা ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অকালেই তাকে প্রাণ হারাতে হয়।
উদ্দীপকে পুরুষশাসিত সমাজে নারীর প্রতি অমানবিক আচরণের করুণ পরিণতি দেখানো হয়েছে। এইসব নির্যাতিত নারীদের জীবনবাস্তবতা 'মাসি-পিসি' গল্পেও ফুটে উঠেছে, তবে এখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারীর সামাজিক সচেতনমূলক প্রতিরোধের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেখানে অত্যাচারী স্বামী এবং লালসা উন্মত্ত জোতদার, দারোগা ও গুন্ডা-বদমাশদের আক্রমণ থেকে আহ্লাদিকে নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে অসহায় দুই বিধবার দায়িত্বশীল ও মানবিক জীবনযুদ্ধ খুবই প্রশংসনীয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নারী নির্যাতন এবং সামাজিকভাবে নারীর নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি উঠে এলেও 'মাসি-পিসি' গল্পের মূলভাবে ফুটে ওঠা নারীর অস্তিত্বরক্ষায় তার সাহসী পদক্ষেপের বিষয়টি অনুপস্থিত। ফলে উদ্দীপকটি গল্পের মূলভাবকে আংশিকভাবে ধারণ করেছে।