| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এক ব্যক্তি কয়েক…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

এক ব্যক্তি কয়েক প্রকার সবজি কিনলেন। তাঁর স্ত্রী বললেন, “এইগুলি সবই হাইব্রিড সবজি যা কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উৎপন্ন” ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
পার্থেনোজেনেসিস হচ্ছে নিষেক ব্যতীত ডিম্বাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি তথা নতুন জীব সৃষ্টির পদ্ধতি।
একই সময়ে ডিম্বাণুর সাথে একটি পুংগ্যামেটের মিলন ও সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে অপর পুংগ্যামেটের মিলন প্রক্রিয়াকে দ্বিনিষেক ক্রিয়া বলে । দ্বিনিষেক আবৃতবীজী উদ্ভিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এ প্রক্রিয়ায় একটি পুংগ্যামেট ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয় এবং অপর একটি পুংগ্যামেট সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়; ফলে ডিম্বাণু জাইগোটে পরিণত হয় এবং ডিপ্লয়েড অবস্থা প্রাপ্ত হয় কিন্তু সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াস ট্রিপ্লয়েড অবস্থা প্রাপ্ত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রজনন প্রক্রিয়াটি হলো কৃত্রিম সংকরায়ন বা কৃত্রিম প্রজনন প্রক্রিয়া । নিচে প্রক্রিয়াটির ধাপসমূহ বর্ণনা করা হলো—
প্যারেন্ট নির্বাচন: কাদের মধ্যে হাইব্রিডাইজেশন করতে হবে তা নির্বাচন করাই হলো প্যারেন্ট নির্বাচন।
প্যারেন্টের কৃত্রিম স্বপরাগায়ন: প্যারেন্ট স্বপরাগী না হলে এদেরকে কৃত্রিম স্বপরাগায়নের মাধ্যমে হোমোজাইগাস করা হয়।
প্যারেন্ট উদ্ভিদের ইমাস্কুলেশন: যে পুষ্পকে মাতৃপুষ্প হিসেবে ধরা হবে তা যদি উভয় লিঙ্গ হয় তাহলে ইমাস্কুলেশন করা হয়। পরিপক্ক হওয়ার আগেই পুষ্প থেকে পুংকেশর মেরে ফেলা বা সরিয়ে ফেলাকে বলা হয় ইমাস্কুলেশন। এতে করে স্বপরাগায়ন ঘটতে পারে না।
ব্যাগিং: পলিথিন ব্যাগের সাহায্যে ক্রসে ব্যবহারের জন্য নির্বাচিত উদ্ভিদের পুষ্পিত অংশকে ঢেকে দেওয়া হয়।
ক্রসিং: ব্যাগিং করা পুং উদ্ভিদ হতে পুং রেণু সংগ্রহ করে ব্যাগিং করা স্ত্রী উদ্ভিদের ইমাস্কুলেটেড পুষ্পের গর্ভমুণ্ডে ফেলা হয়। লেভেলিং: ইমাস্কুলেশনের তারিখ, ক্রসিং এর তারিখ, মাতৃ ও পিতৃ উদ্ভিদ পরিচিতি সংবলিত একটি লেবেল স্ত্রী উদ্ভিদে লাগিয়ে দেওয়া হয়। বীজ সংগ্রহ: কৃত্রিম পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট ফলটি পাকলে তা থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহিত বীজ পরবর্তী মৌসুমে বপণ করলে নতুন প্রকরণের জন্ম হয়।
উদ্দীপকে নির্দেশিত প্রক্রিয়াটি হলো কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াটি উচ্চ ফলনশীল জাত সৃষ্টিতে যেভাবে ভূমিকা রাখে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে ইরি-৮ ধান। এর ফলে কৃষক একর প্রতি ফলন পায় ৯০ ১০০ মণ। বর্তমানে কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে রোগ প্রতিরোধী জাত। যেমন— ধানের ক্ষেত্রে BRRI উদ্ভাবিত জাত BR- 10 (মুক্তা), BR- 14 (গাজী), BR- 15 (মোহিনী), BR-16 (শাহী বালাম) ইত্যাদি। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল জাত। যেমন— নেরিকা ধান খরা সহিষ্ণু, BRRI ধান 51 বন্যাসহিষ্ণু, BRRI ধান 53 লবণ সহিষ্ণু, BRRI ধান 36 শীত সহিষ্ণু, BR8, BR9 শিলা সহিষ্ণু জাত। তাই বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বন্যা সহিষ্ণু জাত, উত্তরাঞ্চলে খরা সহিষ্ণু জাত, দক্ষিণাঞ্চলে লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারে।
কৃষকের জন্য অভিশাপ মঙ্গা প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে BRRI dhan 48 উদ্ভাবনের ফলে। কারণ এটিতে অন্যান্য জাতের আগেই ফলন আসে, অর্থাৎ ঘরের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কৃষক নতুন ফলন পায়। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বীজহীন কলা, আঙুর, লেবু, আপেল, তরমুজ ইত্যাদি ফল। যার কারণে কৃষক বর্তমান বাজার চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষ খাদ্যের জন্য ধানের উপর নির্ভরশীল। কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশনের সফল প্রয়োগের ফলে ধানের মোট উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।