| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এক বুড়ি হজরত…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এক বুড়ি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত। একদিন পথে কাঁটা না দেখে নবিজি চিন্তায় পড়ে গেলেন এবং বুড়ির বাড়িতে গিয়ে দেখলেন বুড়ি অসুস্থ। নবিকে দেখে বুড়ি ভীত হলো। তিনি বুড়িকে ক্ষমা করে দিলেন এবং সেবাযত্ন করে সুস্থ করে তুললেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
• কবিকে যে বিষে-ভরা বাণ দিয়েছে, কবি তাকে বুকভরা গান দেন।
• যে ঘর ভেঙে কবির অনিষ্ট করতে চেয়েছে কবি প্রতিদানে তার ঘর বেঁধে বাসযোগ্য করে দিতে চেয়েছেন।
• 'প্রতিদান' কবিতায় কবি একজন উদার চিত্তের মানুষ। তিনি এমন মানুষের ঘর বাঁধেন, যে ব্যক্তি কবির নিজের ঘর ভেঙেছে। অর্থাৎ কবি অনিষ্টকারীকে প্রতিদানে উপকার করার মাধ্যমে পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে চেয়েছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তিটির মধ্য দিয়ে এই বিষয়টির প্রকাশ ঘটেছে।
• উদ্দীপকের ভাবের সাথে 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে প্রতিদানে উপকার করা।
• আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা অন্যের কাছ থেকে অন্যায় আচরণ পেয়েও তাদের ক্ষমা করে দেন। তারাই আদর্শ মানুষ।
• উদ্দীপকে দেখা যায়, এক বুড়ি প্রতিদিন হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখত। নবিজি (স.) এতে কষ্ট পেতেন।
কিন্তু একদিন পথে কাঁটা না দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। বুড়ির বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখলেন বুড়ি অসুস্থ। তিনি বুড়িকে ক্ষমা করে দেন এবং তার সেবাযত্ন করেন। 'প্রতিদান' কবিতায়ও সমাজ-সংসারে বিদ্যমান বিভেদ-হিংসা, হানাহানির পরিবর্তে কবি এক প্রীতিময় সমাজ চেয়েছেন। তাই কবি অনিষ্টকারীকে শুধু ক্ষমাই করেননি, উপরন্তু প্রতিদানে তার উপকার করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে আলোচ্য কবিতার মূলভাবের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে প্রতিদানে উপকার করা।
• "উদ্দীপকটি 'প্রতিদান' কবিতার ভাবার্থ ধারণ করলে একটি সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব"- মন্তব্যটি যথার্থ।
• সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের কারণে। তাদের কারণেই মানবিকতা ভুলুণ্ঠিত হয়। মানুষ তখন আত্মকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।
• উদ্দীপকে মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর মহানুভব ও ক্ষমাশীলতার কথা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে দেখা যায়, নবিজির চলার পথে এক বুড়ি কাঁটা বিছিয়ে রাখত নবিজিকে কষ্ট দেওয়ার জন্য। অথচ একদিন পথে কাঁটা না দেখে নবিজি তার খোঁজ নিতে বুড়ির বাড়িতে যান। তাকে অসুস্থ দেখে তার সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলেন। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবি সমাজের বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কষ্ট পেলেও তাদের ক্ষমা করে দেন। পরার্থপর কবি তাদের জন্য ব্যাকুল হন যারা তার ঘর ভাঙে, তাকে আঘাত করে, তার ঘুম কেড়ে নেয়।
• উদ্দীপক ও 'প্রতিদান' কবিতায় মূলত প্রকাশ পেয়েছে প্রতিহিংসার বিপরীতে ক্ষমাশীলতা ও উদারতার কথা। উভয় জায়গায় প্রকাশ পেয়েছে অনিষ্টকারীকে ক্ষমা করে দিয়ে প্রতিদানে তাদের উপকার করা। এ বিষয়টি প্রত্যেক মানুষ হৃদয়ে ধারণ করলে পৃথিবী আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। গড়ে উঠবে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বময় সমাজ। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।