| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এক ধরনের কোষীয়…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু বা আত্মঘাতী থলিকা নামে পরিচিত কিন্তু প্রয়োজনীয় অঙ্গাণু। আর এক ধরনের কোষীয় অঙ্গাণু থাকে, যাকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলে এবং যার কোনো আবরণী নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
প্রোটোপ্লাজম দিয়ে গঠিত যে পাতলা পর্দা কোষগহ্বর বেষ্টন করে তাই টনোপ্লাস্ট।
সকল প্রকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুগুলোর অন্তর্বর্তী স্থানে কতকগুলো সূত্রক সম্মিলিতভাবে জালিকার ন্যায় গঠন তৈরি করে। এদেরকে কোষীয় কঙ্কাল বা সাইটোস্কেলিটন বলে। সাধারণত প্রোটিন নির্মিত তিন ধরনের সূত্রক সমন্বয়ে কোষীয় কঙ্কাল গঠিত। এগুলো হলো- মাইক্রোটিউবিউল্স, মাইক্রোফিলামেন্ট ও ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট।
উদ্দীপকের প্রথম অংশে উল্লেখিত আত্মঘাতী থলিকা হলো লাইসোসোম। লাইসোসোমের গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো-
লাইসোসোম সাধারণত বৃত্তাকার (গোলাকার), এদের ব্যাস সাধারণত ০.২ – ০.৮ । প্রতিটি লাইসোসোম একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট আবরণী দ্বারা আবদ্ধ থাকে। এদের ভ্যাকুওল ঘন তরলে পূর্ণ থাকে। কৃতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লিকে স্থিতি দান করে যার ফলে লাইসোসোম থেকে এনজাইমসমূহ বের হয়ে আসতে পারে না। এদের বলা হয় লাইসোসোম Stabilizer। কতক বস্তু লাইসোসোমের ঝিল্লি বিদীর্ণ হতে সাহায্য করে যার ফলে এর এনজাইমসমূহ বের হয়ে এসে অটোলাইসিস ঘটায়। এদেরকে বলা হয় Labilizer।
রাসায়নিক গঠন: লাইসোসোমের আবরণী ঝিল্লি লিপো-প্রোটিন নির্মিত। ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ অবস্থায় এতে প্রায় ৪০ ৫০ ধরনের এনজাইম থাকে। উল্লেখযোগ্য এনজাইমগুলো হলো DNAase, RNAase, অ্যাসিড লাইপেজ, এস্টারেজ, স্যাকারেজ, লাইসোজাইম, ফসফোলাইপেজ ইত্যাদি।
উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে উল্লেখিত সার্বজনীন অঙ্গাণু, যার কোনো আবরণী নেই, সেটি হলো রাইবোজোম। রাইবোজোম সম্পর্কে মন্তব্যটির তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
রাইবোসোম হলো একটি ঝিল্লিবিহীন, গোলাকার বা ডিম্বাকার কোষীয় অঙ্গাণু, যা প্রোটিন সংশ্লেষণে অংশ নেয়। এটি সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায়, অমসৃণ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, নিউক্লিয়ার মেমব্রেন কিংবা মাইটোকন্ড্রিয়ার অভ্যন্তরে অবস্থান করতে পারে। অনেক রাইবোসোম mRNA সূত্রে যুক্ত হয়ে পলিরাইবোসোম বা পলিসোম গঠন করে। রাইবোসোম প্রধানত rRNA ও. প্রোটিন দিয়ে গঠিত এবং দুটি অসম সাব-ইউনিট নিয়ে তৈরি। কোষভেদে রাইবোসোম দুই ধরনের হয়। যথা- ৭০ ১ হচ্ছে আদিকোষে (যার উপ-একক হলো ৫০ ৪ ও ৩০ ৪) এবং ৮০ ১ হলো প্রকৃতকোষে (যার উপ-একক হলো ৬০১ ও ৪০১)। রাইবোসোমে RNA ও প্রোটিন ছাড়াও সামান্য পরিমাণে Mg, Ca ও Mn আয়ন থাকে।
রাইবোজোমকে সার্বজনীন অঙ্গাণু বলার মূল কারণ হলো এটি প্রোক্যারিওটিক এবং ইউক্যারিওটিক উভয় ধরনের কোষে, অর্থাৎ সকল সজীব কোষে উপস্থিত থাকে। রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ। প্রোটিন জীবনের সকল জৈবিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। যেহেতু সকল জীবকোষের প্রোটিন তৈরির প্রয়োজন হয়, তাই রাইবোজোম সকল কোষে বিদ্যমান।
অতএব, রাইবোসোম একটি সার্বজনীন ও অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গাণু, যা জীবকোষে প্রোটিন সংশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।