| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এক প্রকার জৈব…’ a – কোষ রসায়ন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

এক প্রকার জৈব রাসায়নিক যৌগ আছে যা জীবদেহের অন্যতম। গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে। এই যৌগের কিছু যৌগ জৈব অনুঘটক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। [রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা ]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
যেসব কার্বোহাইড্রেটের অ্যালডিহাইড বা কিটোন গ্রুপ মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং অন্য যৌগকে বিজারিত করতে পারে, তাদের রিডিউসিং স্যুগার বলে।
একটি স্যুগারের সাথে দ্বিতীয় একটি যৌগের (স্যুগার বা অন্য যৌগ) হাইড্রোক্সিল (-OH) গ্রুপের ঘনভবনে দুটি (-OH) মূলক থেকে এক অণু পানি অপসারণের ফলে যে যৌগ তৈরি হয় তাকে গ্লাইকোসাইডিক যৌগ এবং সংশ্লিষ্ট বন্ধনকে (-O-) গ্লাইকোসাইডিক বন্ধন বলে।
উপরের উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব রাসায়নিক যৌগটি হলো প্রোটিন। দ্রবণীয়তার ভিত্তিতে প্রোটিন নিম্নলিখিত ৭ প্রকার। যথা-
১. অ্যালবিউমিন: এরা পানি ও লঘু লবণ দ্রবণে দ্রবণীয়। এসিড, ক্ষার ও তাপ দিলে জমাট বাঁধে। যেমন- গমের লিউকোসিন, বার্লির ẞ-অ্যামাইলেজ।
২. গ্লোবিউলিন: এরা পানিতে প্রায় অদ্রবণীয় ও লঘু লবণ দ্রবণে দ্রবণীয়। তাপে জমাট বাঁধে। যেমন- দুধের ল্যাক্টোগ্লোবিন, মটরবীজে লেগুমিন।
৩. মুটেলিন: এরা পানিতে অদ্রবণীয়। লঘু এসিড বা ক্ষার দ্রবণে দ্রবণীয়। যেমন- গমের গ্লুটেলিন ও চালের অরাইজেনিন।
৪. প্রোলামিন: এরা পানিতে অদ্রবণীয়, তবে 70-80% ইথাইন অ্যালকোহলে দ্রবণীয়। যেমন- ভুট্টার জেইন, গম ও রাইয়ের গিয়ারডিন।
৫. হিস্টোন: এ জাতীয় প্রোটিন পানি অথবা পাতলা ক্ষার বা অম্ল দ্রবণে দ্রবণীয়।
এদের নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিক এসিডের সাথে দেখা যায়।
৬. প্রোটামিন এ ধরনের প্রোটিন পানিতে, লঘু এসিডে এবং অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইডে দ্রবণীয়। এদের নিউক্লিয়াসে পাওয়া যায়।
৭. স্ক্লেরোপ্রোটিন: এরা পানিতে অদ্রবণীয় কিন্তু লঘু এসিড বা ক্ষারীয় দ্রবণে দ্রবণীয়। যেমন- চুল, নখ, ত্বকে কেরাটিন, চামড়ায় কোলাজেন।
উদ্দীপকের আলোচিত জৈব অনুঘটকটি দ্বারা মূলত এনজাইমকে বোঝানো হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এনজাইমের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো-
১. ফলের রস তৈরি আম, কমলালেবু, আপেল, আঙ্গুর প্রভৃতি ফলের রস তৈরিতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এসব ফলের রস তৈরিকালে পেকটিন নামক এনজাইম ব্যবহার করলে রসের ঘোলাটে অবস্থা কেটে যায় এবং রস পরিষ্কার ও স্বাদযুক্ত হয়।
২. পনির তৈরি: পনির তৈরিতে এনজাইম রেনিন ব্যবহৃত হয়। রেনিন দুধের ননীকে জমাট বাঁধতে সহায়তা করে এবং পরে ননী থেকে পনির তৈরি করা হয়।
৩. কাপড়ে দাগ মোচন কাপড়ের দাগ উঠাতে আজকাল এনজাইম ব্যবহার করা হয়। এতে দাগ একেবারে উঠে যায় কিন্তু কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
৪. চামড়া লোমমুক্তকরণ: ট্যানারিতে লেদার তৈরি করার সময় কাঁচা চামড়া থেকে লোম আলাদা করতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৫. ক্ষত নিরাময়: চামড়ায় সৃষ্ট পোড়া ক্ষত নিরাময়ে এক ধরনের এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৬. হজম সংশোধন পেপসিন, অ্যামাইলেজ, পেপেইন ইত্যাদিএনজাইম হজমে সাহায্য করে।
৭. প্রাণ-রাসায়নিক বিশ্লেষণ: বর্তমানে ক্লিনিক্যাল বিশ্লেষণে এনজাইম ব্যবহার করা হয়। রক্তে ইউরিয়া ও ইউরিক এসিড শনাক্তকরণে ইউরিয়েজ ও ইউরিকেজ নামক এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
৮. চোখের ছানির অস্ত্রোপচার: ট্রিপসিন নামক এনজাইম প্রয়োগ করে চোখের ছানির অস্ত্রোপচার করা যায়। কারণ ট্রিপসিন চোখের অন্যান্য অংশের কোনো ক্ষতি না করে লেন্সের খোলা অংশ গলিয়ে ফেলে। এরপর সূচ দিয়ে টেনে খোলা অংশ বের করে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।
৯. জমাট রক্ত গলানো: মস্তিষ্ক ও ধমনির জমাট রক্ত গলাতে ইউরোবাইলেজ নামক এনজাইমের ব্যবহারে জাপানে সফলতা পেয়েছে।