| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এক সময়ে শহরের…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এক সময়ে শহরের পাড়ায় পাড়ায় ছিল মাঠ। খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কেটে যেত পলাশ ও কাজলের শৈশব কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলো। লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ ছিল বলে তারা অসৎ সঙ্গে পড়ে বিপথে যাননি। আজ বৃদ্ধ বয়সেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট। এক সঙ্গে প্রাতঃভ্রমণের সময়ে বিশ্রাম নেয়া এবং খবরের কাগজ পড়া তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। একদিন খবরের একটি শিরোনামে দুজনারই চোখে আটকে যায় ‘কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ নগরবাসী।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
আঠারো বছর বয়স জানে রক্তদানের পূণ্য।
আঠারোর জয়ধ্বনি কবি বেশি শুনেছেন। জীবনটা আসলে কতটা কঠিন আর এই জীবন সংগ্রামের পথে কিভাবে চলতে হবে সেটা মানুষ এই বয়সেই বুঝতে পারে অর্থাৎ জীবনকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে শিখে। বিপদের মুখে এ বয়স বেশি অগ্রণী অর্থাৎ কোন বিপদ- আপদ দেখলে সবার আগে এই বয়সের যুবকরা আগে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের অনেক নেতিবাচক দিক থাকলেও এই বয়সের ছেলেমেয়েরা অন্ততপক্ষে নতুন কিছু তো করে। এ কথাই কবি বোঝাতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের 'কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডব'—'আঠারো বছর বয়স' কবিতার নেতিবাচক দিকটি নির্দেশ করে।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি তারুণ্যের নানা বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে এর জয়গান করেছেন। বস্তুত, কৈশোর থেকে যৌবনে পা রাখার এ বয়সটি যেকোনো মানুষের জীবনেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ বয়সেই তরুণেরা নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক মতাদর্শ এবং কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে শুরু করে। সংগত কারণেই জাতীয় জীবনেও এর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকের পলাশ ও কাজলের শৈশব কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলোতে সুস্থ বিনোদন ছিল বলে তাদের শৈশবের দিনগুলো ছিল বলে তারা অসৎ সঙ্গে পড়ে বিপথে যাননি। আর বর্তমানে অসুস্থ বিনোদনের কবলে পড়ে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী হয়ে উঠেছে। ফলে তারা তৈরি করছে কিশোর গ্যাঙের মতো অসুস্থ দল। তারা অতিষ্ঠ করে তুলছে নগরবাসীদের। উদ্দীপকে এমন নেতিবাচকতার দিকটিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি নয়, বরং 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের বিপরীত চিত্র।
আঠারো বছর বয়সের তরুণেরা নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখে। এ বয়সে মানুষ কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে। নানা দুঃসাহসী সংকল্প ও উদ্যোগ এ বয়সের তরুণদের মনে উকি দেয়। এ বয়সেই মানুষ আত্মপ্রত্যয়ী হয়। এ বয়সেই তরুণেরা সকল প্রকার বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাহস ও শক্তি নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
উদ্দীপকে পলাশ ও কাজলের শৈশব কৈশোরের দুরন্ত দিনগুলো খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে কেটে যেত, কারণ লেখাপড়ার পাশাপাশি সুস্থ বিনোদনের সুযোগ ছিল। তাই তারা কোন ধরনের অসৎ সঙ্গে পড়ে বিপথে যাননি। একদিন খবরের 'কিশোর গ্যাঙের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ নগরবাসী।'
শিরোনামে দুজনারই চোখে আটকে যায় এবং তারাও আতঙ্কিত হয়।
আঠারো বছর বয়স উত্তেজনার, প্রবল আবেগ ও উচ্ছ্বাসে ঝুঁকি নেওয়ার · উপযোগী। অনুভূতির তীব্রতা ও সুগভীর সংবেদনশীলতা এ বয়সিদের জীবনে বিশেষ তীব্র হয়ে দেখা দেয়। সচেতন ও সচেষ্ট হয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে জীবন পরিচালনা করতে না পারার অজস্র দীর্ঘশ্বাসে এ বয়স নেতিবাচক কালো অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তাই উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার ভাবার্থের প্রতিচ্ছবি - এটা বলা যথেচ্ছ হবে না।