| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একাদশ শ্রেণির ছাত্র…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

একাদশ শ্রেণির ছাত্র শিহাব। সে পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্যান্য বই প্রচুর পরিমাণে পড়ে। কবিতার বইয়ের প্রতি তার প্রচন্ড আগ্রহ। বিখ্যাত-অখ্যাত সব কবির বই-ই সে পড়ে। কবিতা শিহাবের সবচেয়ে প্রিয় হলেও পাঠ্যবইয়ের কবিতা তার একদমই ভালো লাগে না। অথচ একই কবিদের বই যখন সে একা একা পড়ে তখন অনেক ভালো লাগে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
টাউন হলের বক্তৃতার উদ্দেশ্য অতি মহৎ।
➤ "পাঠকসমাজ যে খেলনা আজ আদর করে, কাল সেটিকে ভেঙ্গে ফেলে"- লেখক এখানে পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য সৃষ্ট সাহিত্যকে বুঝিয়েছেন।
➤ খেলনা মানুষের মনোরঞ্জনের বস্তু। সুন্দর লাগলে মানুষ খেলনা কেনে, আবার সেটির কার্যকারিতা ফুরিয়ে গেলে ভেঙে ফেলে। ঠিক একইভাবে পাঠকের মনোরঞ্জনের জন্য সৃষ্ট সাহিত্য খেলনার মতোই। পাঠক এতে সাময়িক আনন্দ পেলেও কিছুদিন পর তা ভুলে যায়। ওই সাহিত্যের প্রতি তার আর কোনো আকর্ষণ থাকে না। খেলনা যেমন ভেঙে ফেলে তেমনই ওই ধরনের মনোরঞ্জনমূলক সাহিত্যকে পাঠক আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। এই চরম সত্যটিই লেখক এ উক্তিটির মাধ্যমে বুঝিয়েছেন।
সারকথা: খেলনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ যেমন সাময়িক, মনোরঞ্জনমূলক সাহিত্যের প্রতিও তেমনই।
➤ উদ্দীপকে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত মাস্টারদের শিক্ষা দান পদ্ধতির আলোচনার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
➤ পাঠক সাহিত্য পড়ে কবিতার রস আস্বাদন করার জন্য। অন্য কোনো কারণ এতে জড়িত নয়। অন্য কোনো বিষয় যদি এতে যুক্ত হয় তখন তা তার কাছে ভালো লাগার পরিবর্তে তেতো হয়ে যায়।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক বর্তমান স্কুলমাস্টারদের পড়ানোর পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন। তারা যেকোনো রচনাকে টীকা-ভাষ্য, নিগূঢ় তত্ত্ব উদঘাটন ইত্যাদির মাধ্যমে অত্যধিক জটিল করে তোলেন। এরপর শিক্ষার্থীকে তা গলাধঃকরণ করান যা পরে পরীক্ষার খাতায় উদগিরণ করতে হয়। শিক্ষার্থী কবিতার রস আস্বাদনের পরিবর্তে বিচার-বিশ্লেষণে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে সে কবিতা পাঠ করে কোনো আনন্দলাভ করে না। উদ্দীপকের শিহাব একজন ছাত্র। তার মধ্যেও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের এই কারণগুলো কাজ করাটাই স্বাভাবিক। এজন্যই শিহাব কবিতার একান্ত ভক্ত হলেও পাঠ্যবইয়ের কবিতা তার কাছে বিরক্তিকর। এভাবেই 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে মাস্টারদের শিক্ষা দান পদ্ধতি উদ্দীপকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: কাব্য মানুষের আনন্দের জন্য। এর মাঝে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করলে ওই আনন্দটা বিরক্তিতে রূপ নেয়। শিহাবের কাছেও তাই পাঠ্যবইয়ের কবিতা ভালো লাগে না।
➤ "উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' উভয়ের মূল বিষয়বস্তু সাহিত্য আনন্দদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, শিক্ষা দানের জন্য নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ আনন্দদান ও শিক্ষা দান দুটি আলাদা বিষয়। আনন্দলাভে সবাই উৎসুক থাকে কিন্তু শিক্ষালাভে ঠিক তার উলটো। কেউ সহজে শিক্ষালাভ করতে চায় না। কিন্তু আনন্দলাভের জন্য কোনো কারণ লাগে না, এমনিতেই মানুষ তা পেতে চায়। আর মানুষকে আনন্দদানের গুরুদায়িত্বটি নেয় সাহিত্য।
➤ উদ্দীপকের শিহাব নিয়মিত কাব্য পাঠ করছে এবং আনন্দলাভ করছে। যখনই এই কাব্য তার শিক্ষার উপকরণ হচ্ছে তখনই আনন্দ তার কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের এই দিকটিই তুলে ধরেছেন। সাহিত্যের উদ্দেশ্য হবে আনন্দদান, শিক্ষা দান নয়।
➤ যেকোনো বিষয় থেকেই মানুষ শিক্ষালাভ করতে পারে। হতে পারে তা খেলা কিংবা সাহিত্য। কিন্তু এই শিক্ষা ওই বিষয়টির উদ্দেশ্য নয়, সহায়ক মাত্র। সাহিত্যে আছে শুধু নির্মল আনন্দ। এজন্য মানুষ নিজের মনের আনন্দে সাহিত্য পাঠ করে। কিন্তু শিক্ষালাভ করে অতি কষ্টে, অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে। উদ্দীপকের শিহাবের ক্ষেত্রে আমরা এই অবস্থাটি হুবহু দেখতে পাই। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও লেখক স্পষ্টভাবে এই সত্যটিই দেখিয়ে দেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ও 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে সাহিত্য আনন্দদানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে, শিক্ষাদানের জন্য নয়।
সারকথা: সাহিত্য থেকে শিক্ষালাভ করা গেলেও তা সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য নয়, তা উপরি পাওয়া। আনন্দদানই সাহিত্য রচনার মূল উদ্দেশ্য। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে সঠিক ও যথার্থ বলা যায়।