| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা…’ সিলেট বোর্ড ২০২১ – উদ্ভিদ প্রজনন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে গিয়ে কিছু উন্নত জাতের ধানের কথা জানতে পারল। যা বিশেষ এক ধরনের প্রজননের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তারা আরও জানতে পারল বাংলাদেশে এরকম অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে। বিভিন্ন উদ্ভিদের উচ্চফলনশীল জাত তৈরিতে কাজ করছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
এককোষী ছত্রাকের (যেমন— ঈস্ট) মাতৃকোষ থেকে এক বা একাধিক মুকুল সৃষ্টি হয়, এই মুকুলগুলোকেই বলা হয় বাডিং বা মুকুলোদগম।
যে প্রকার কৃত্রিম অঙ্গজজনন পদ্ধতিতে একটি উদ্ভিদের (সিয়ন) একটি শাখা অপর একটি উদ্ভিদের শাখার (স্টক) সাথে যুক্ত করে প্রথম উদ্ভিদটির কলম তৈরি করা হয় তাকে জোড় কলম বা গ্রাফটিং বলা হয়। জোড় কলম পদ্ধতিতে দুটি উদ্ভিদের প্রয়োজন হয় । যে উদ্ভিদের কলম সৃষ্টি করা হয় সেটি উন্নত গুণসম্পন্ন হয়। একে সিয়ন বলে এবং যে উদ্ভিদটির সাথে কলম বা জোড়া দেয়া হয় তাকে স্টক বলে। এরূপ কলম করা নতুন উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে সিয়নের উপর, স্টকের উপর নয়। সিয়নকে ধারণ করাই স্টকের কাজ। যেমন— আম, জাম, লিচু, পেয়ারা, কুল প্রভৃতি ফল সৃষ্টিকারী উদ্ভিদ এবং চাঁপা, ম্যাগনোলিয়া প্রভৃতি ফুল ।
উদ্দীপকে আলোচিত বিশেষ প্রজনন প্রক্রিয়াটি হলো কৃত্রিম প্রজনন বা কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন (সংকরায়ন)। নিচে কৃত্রিম প্রজননের কৌশল বর্ণনা করা হলো-
১. প্যারেন্ট নির্বাচন: কাদের মধ্যে হাইব্রিডাইজেশন করতে হবে তা নির্বাচন করাই হলো প্যারেন্ট নির্বাচন।
২. প্যারেন্টের কৃত্রিম পরাগায়ন প্যারেন্টে স্বপরাগী না হলে এদেরকে কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে হোমোজাইগাস করা হয়।
৩. প্যারেন্ট উদ্ভিদের ইমান্ডুলেশন : যে পুষ্পকে মাতৃপুষ্প হিসেবে ধরা হবে তা যদি উভলিঙ্গ হয় তাহলে ইমাম্বুলেশন করা হয়। পরিপক্ক হবার আগেই পুষ্প থেকে পুংকেশর মেরে ফেলা বা সরিয়ে ফেলাকে বলে ইমাস্কুলেশন। এতে করে স্বপরাগায়ন ঘটতে পারে।
৪. ব্যাগিং : পলিথিন ব্যাগের সাহায্যে ক্রসে ব্যবহারের জন্য নির্বাচচিত উদ্ভিদের পুষ্পিত অংশকে ঢেকে দেওয়া হয়।
৫. ক্রসিং ব্যাগিং করা পুং উদ্ভিদ হতে পুংরেণু সংগ্রহ করে ব্যাগিং করা স্ত্রী উদ্ভিদের ইমাস্কুলেটেড পুষ্পের গর্তমুণ্ডে ফেলা হয়।
৬. লেবেলিং ইমাস্কুলেশনের তারিখ, ক্রসিং এর তারিখ, মাতৃ ও পিতৃ উদ্ভিদ পরিচিতি সম্বলিত একটি লেবেল স্ত্রী উদ্ভিদে লাগিয়ে দেওয়া হয়।
৭. বীজসংগ্রহ : কৃত্রিম পরাগায়নের ফলে সৃষ্ট ফলটি পাকলে তার থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়।
৮. বীজ বপন ও F, উদ্ভিদের উদ্ভব পরবর্তী বছর কৃত্রিম ক্রসের ফলে সৃষ্ট বীজগুলো বপন করা হয় এবং Fi বংশধর সৃষ্টি হয়। F1 পরে F2 Fi পর্যন্ত বংশধর সৃষ্টি করে। উন্নত এজন বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত নতুন প্রকারণ সৃষ্টি করা হয়।
৯. F, বংশধরের ব্যবহার ও নতুন প্রকরণ সৃষ্টি : F বংশধরের দুটি ইমা উদ্ভিদের মধ্যে ব্রুস করিয়ে যেসব উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় সেগুলো হলো F2 বংশধর । একই পদ্ধতিতে যে কয়েক প্রজন্ম ধরে এভাবে সংকরায়ন করতে করতে একটি নতুন প্রকারণ এর জন্ম দেয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশন প্রক্রিয়াটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো- কৃত্রিম সংকরায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবন করেছে ইরি-৮ ধান। এর ফলে কৃষক একর প্রতি ফলন পায় ৯০ – ১০০ মণ। বর্তমানে কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে রোগ প্রতিরোধী জাত। যেমন- ধানের ক্ষেত্রে BRRI উদ্ভাবিত জাত BR10 (মুক্তা), BR 14 (গাজী), BR-15 (মোহিনী), BR 16 (শাহী বালাম) ইত্যাদি। কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল জাত। যেমন- নেরিকা ধান খরা সহিষ্ণু, BRRI dhan 51 বন্যাসহিষ্ণু, BRRI dhan 53 লবণ সহিষ্ণু, BRRI dhan 36 শীত সহিষ্ণু BR8, BR9 শিলা সহিষ্ণু জাত । 1 তাই বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলে বন্যা সহিষ্ণু জাত, উত্তরাঞ্চলে খরা সহিষ্ণু জাত, দক্ষিণাঞ্চলে লবণসহিষ্ণু জাত ব্যবহার করে কৃষক কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতে পারে। কৃষকের জন্য অভিশাপ মঙ্গা প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে BRRI dhan 48 উদ্ভাবনের ফলে। কারণ এটিতে অন্যান্য জাতের আগেই ফলন আসে, অর্থাৎ ঘরের খাবার ফুরিয়ে যাওয়ার আগেই কৃষক নতুন ফলন পায় । কৃত্রিম সংকরায়নের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে বীজহীন কলা, আঙুর, লেবু, আপেল, তরমুজ ইত্যাদি ফল। যার কারণে কৃষক বর্তমান বাজার চাহিদা মেটানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় সকল মানুষ খাদ্যের জন্য ধানের উপর নির্ভরশীল । কৃত্রিম হাইব্রিডাইজেশনের সফল প্রয়োগের ফলে ধানের মোট উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।