| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একদা ছিল না…’ শিক্ষা সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ – নেকলেস, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে,
দহিল হৃদয় মন সেই ক্ষোভানলে।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে,
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে
দেখি তথা একজন পদ নাহি তার,
অমনি জুতোর খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন,
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৮
ফরাসি ভাষায় নেকলেস গল্পটির নাম 'La Parure'!
➤ মসিয়ে লোইসেল স্ত্রীকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে নির্বাক ও হতবুদ্ধি হয়ে গেল।
➤ মসিয়ে লোইসেল আনন্দিত হয়ে জনশিক্ষা মন্ত্রী ও মাদাম জর্জ রেমপুনোর আমন্ত্রণ লিপিখানা লোইসেলকে দিয়েছিল। ভেবেছিল এত বড় অনুষ্ঠানে যাওয়ার নিমন্ত্রণ কার্ড পেয়ে তার স্ত্রী খুব খুশি হবে। কিন্তু এর পরিবর্তে কার্ডটি পেয়ে তার স্ত্রী খুশি না হয়ে কষ্টে কাঁদতে শুরু করল। কারণ এত বড় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পোশাক ও গহনা মাতিলদার ছিল না। তাই তার মনঃকষ্ট আরও বেড়ে যাওয়ায় কান্নাও বেড়ে যায়। স্ত্রীর সেই কান্না দেখে লোইসেল নির্বাক ও হতবুদ্ধি হয়ে গেল।
সারকথা: মসিয়ে লোইসেল স্ত্রীকে কাঁদতে দেখে নির্বাকও। হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন।
➤ 'নেকলেস' গল্পের 'লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা ধ্বংসের কারণ'- এই শিক্ষণীয় দিকটি উদ্দীকের মধ্যে প্রকাশ পেয়েছে।
➤ লোভ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। কঠোর পরিশ্রম করে বহু ত্যাগের মধ্য দিয়ে জীবনে সুখী হতে হয়। কিন্তু যারা লোভী তারা বিনা পরিশ্রমে সুখ পেতে চায়। তারা বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে চলে। ফলে তাদের জীবনে ধ্বংস অনিবার্য হয়ে ওঠে।
➤ 'নেকলেস' গল্পে মাতিলদা তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য সব হারিয়েছে। কেরানি পরিবারে জন্ম হওয়া সুন্দরী মাতিলদা বিলাসী জীবনযাপন করতে চায়। কিন্তু দারিদ্রতার কারণে পারে না। তাই তো বল নাচের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগে সে নিজের বিলাসী মনের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। বান্ধবীর কাছ থেকে ধার করে আনা হারটি হারিয়ে নিজেকে ও পরিবারকে বিপদে ফেলে। নতুন হীরার হার বান্ধবীকে কিনে দেয় এবং সেই হারের দাম পরিশোধ করতে তার দশ বছর কেটে যায়। সে সঙ্গে তার শারীরিক সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে যায়। উদ্দীপকেও ভজনালয়ে যাওয়ার জন্য পায়ের জুতা না থাকার কারণে মনে মনে দুঃখ প্রকাশ করা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ করা যে নিতান্ত অর্থহীন এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: 'নেকলেস' গল্পে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসী জীবনের প্রতি লোভের ফলে জীবনের করুণ পরিণতি বরণ করে নেওয়ার দিকটি উদ্দীপকে সাকাশিত হয়েছেলে
➤ উদ্দীপকের সাথে 'নেকলেস' গল্পের মূলভাব পুরোপুরি এক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ বাস্তব জ্ঞানসম্পন্ন না হলে জীবন-সংসারে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সময়ের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হলে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় না। এজন্য প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গি ও চেতনার উত্তরণ।
➤ উদ্দীপকের কবি কোনো এক ভজনালয়ে ভজনের আমন্ত্রণ পান। কিন্তু পায়ের জুতা না থাকার কারণে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। ভজনালয়ে একজনের একটি পা দেখে কবির জুতা না থাকার দুঃখ দূর হয়। 'নেকলেস' গল্পে মাদাম লোইসেলের স্বামী খুশি মনে কার্ড দিলেও সে খুশি হতে পারেনি। সে বিরক্ত হয়ে ঐ নিমন্ত্রণপত্র টেবিলের উপর নিক্ষেপ করে। বিলাসী মনের মাদাম লোইসেল পার্টিতে আর দশজন ধনীর দুলালীর মতো সাজগোজ করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে এবং গিয়ে বান্ধবীর কাছ থেকে ধার করা হারটি হারিয়ে ফেলে। বান্দ্বীকে হার ক্রয় করে দেওয়ার জন্য তাকে এবং তার স্বামীকে দশ বছর কষ্ট করার চিত্র ফুটে উঠেছে। যা উদ্দীপকে আলোকপাত হয়নি।
➤ উদ্দীপকের লেখকের মধ্যে জুতা না থাকার দুঃখ ও পরে অপরের কষ্ট দেখে নিজকে শান্তনা দেওয়ার বিষয়টি 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লুইসেলের পোশাক না থাকার বিষয় এবং পরে অনুতপ্ত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। কিন্তু গল্পের 'নেকলেস' হারানোর পরবর্তী দশ বছরের লুইসের ও তার স্বামীর কষ্টের দিকের চিত্র এবং লুইসেলের বান্ধবীর যে পরিচয় ফুটে উঠেছে তা উদ্দীপকে আলোচিত হয়নি। সুতরাং এসব বিবেচনায় আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের সাথে 'নেকলেস' গল্পের মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।
সারকথা: উদ্দীপকের কবিতাংশে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসী মনোভাবের নেতিবাচক পরিণতির দিকটি উঠে এসেছে যা আলোচ্য গল্পের একটি মাত্র ভাবের প্রকাশ করে মাত্র। গল্পের অন্যান্য ভাব এবং উদ্দেশ্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত।