| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘এখন আমাদের বাঙলা…’ a – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

এখন আমাদের বাঙলা সাহিত্যে স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করিতে হইলে সর্বপ্রথম আমাদের লেখার জড়তা দূর করিয়া তাহাতে ঝর্ণার মতো ঢেউভরা চপলতা ও সহজ মুক্তি আনিতে হইবে। যে সাহিত্য জড়, যাহার প্রাণ নাই, সে নির্জীব-সাহিত্য দিয়া আমাদের কোনো উপকার হইবে না। আর তাহা স্থায়ী সাহিত্যও হইতে পারে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
বিশ্বখ্যাত ফরাসি ভাস্কর রোঁদ্যার প্রকৃত নাম ফ্রাঁসোয়া অগুস্ত রোঁদ্যা।
➤ খেলা মানুষকে নির্মল আনন্দ দেয়, সাহিতাও মানুষকে নির্মল আনন্দ দান করে। এজন্য লেখক সাইত্যকে খেলার সাথে তুলনা করেছেন।
➤ মানুষ যখন খেলা করে তখন সে আনন্দ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর আকাঙ্ক্ষা করে না। মানুষের সকল প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে খেলা বা ক্রীড়াই শ্রেষ্ঠ, কারণ এখানে আনন্দ ছাড়া অন্য কিছু নেই। সাহিত্যও তেমনি হওয়া উচত বলে মনে করেন 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের লেখক। এজন্য তিনি সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করেছেন।
সারকথা: খেলাধুলা মানুষকে নির্মল আনন্দ দান করে। সেখানে নিছক আনন্দ ছাড়া অন্য ফললাভের আকাঙ্ক্ষা থাকে না। সাহিতাও তেমনই আনান্দ দান ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রচিত হওয়া উচিত নয়। এজন্য লেখক সাহিত্যকে খেলার সাথে তুলনা করেছেন।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে।
➤ সাহিত্য হলো সমাজের দর্পণ। সাহিত্যের মধ্য দিয়ে একটি সমাজ ও জাতির রূপ ফুটে ওঠে। যাই সাহিত্যকে আপন গতিতে চলতে দেওয়া উচিত। সেখানে জোরজবরদস্তি করলে সাহিত্য তার নিজস্বতা হারায়।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত সে সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। লেখকের মতে সাহিত্যের উদ্দ্যেশ্য হচ্ছে সবাইকে আনন্দ দান করা, কারও মনোরঞ্জন করা নয়। সমাজের কারও মনোরঞ্জ করতে গেলে সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। লেখক বলেন সাহিত্যের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মনে সাড়া জাগানো। উদ্দীপবেও সাহিত্যের এরূপ উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে- যে সাহিত্য জড়, যার প্রাণ নেই সেই সাহিত্য কোনোউপকারে আসবে না। এখানে মূলত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটিই প্রতীয়মান হয়েছে। মূলত এভাবেই উদ্দীপকে আলোচ্য প্রবন্ধে বর্ণিত সাহিত্যের উদ্দেশ্যের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
সারকথা: উদ্দীপকে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। 'সাহিত্যের খেলা' প্রবন্ধেও ব্যিয়টি রয়েছে। মূলত এদিক থেকেই পরস্পর সাদৃশ্যমান।
➤ "উদ্দীপকের বিষয়টি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র" মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ সাহিত্য হলো সাহিত্যিকের নির্মল মনের ভাবনার প্রকাশ। সেখানে কোনো উদ্দেশ্য থামে না। যদি কোনো সাহিত্যিক উদ্দেশ্যপ্রসূত সাহিত্য রচনা করতে বসেন তাহলে সেই সাহিত্য যথার্থ সাহিত্য হয় না।
➤ 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। খেলাধুলায় যেমন নছক আনন্দই প্রধান, সাহিত্যেও তাই। খেলাধুলার প্রধান উদ্দেশ্য যেমন আনন্দ দান তেমনই সাহিত্যেরও প্রধান উদ্দেশ্য আনণ দান। লেখক সাহিত্যের এরকম উদ্দেশ্যের পাশাপাশি মানুষের স্বেচ্ছায় সাহিত্য পাঠ করা, সাহিত্যের রস আস্বাদন করা, পাঠনের মনের আনন্দানুভূতি এরূপ নানা বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকে দেখা যায়, সাহিত্যের উদ্দেশ্য কী এং সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত সেই দিকটি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
➤ উদ্দীপকে সাহিত্য কেমন হওয়া উচিত সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, যা আলোচ্য প্রবণের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের শিক্ষা ও সাহিত্যের মধ্যে পার্থক্য, সাহিত্যকে খেলার সঙ্গে তুলনা কর ইত্যাদি বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিষয়টি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের খন্ডাংশমাত্র।
সারকথা: আলোচ্য প্রবন্ধে সাহিত্যের উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি সাহিত্যের রস আাদন, ব্যক্তি হৃদয়ের আনন্দানুকৃতি, সাহিত্য ও শিক্ষার পার্থক্য- এরূপ নানা বিষয় আছে। কিন্তু উদ্দীপকে এসব বিষয় নেই। তাই প্রশ্নোক্ত মর্যটি যথার্থ।