| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একজন গবেষক একটি…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২৫ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একজন গবেষক একটি উদ্ভিদের পার্শ্বমুকুল নিয়ে গবেষণাগারে উদ্ভিদটির অনেকগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চারা তৈরি করলেন। যার প্রতিটিই ছিল হুবহু মাতৃউদ্ভিদের গুণ সম্পন্ন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
একটি কোষের জীবদেহের যেকোনো ধরনের কোষে বিভেদিত হওয়ার ক্ষমতাকে টটিপটেন্সি বলে।
ট্রান্সফরমেশন হলো জিনগত পদার্থ (সাধারণত DNA) এক জীব থেকে অন্য জীবের কোষে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া, যার ফলে গ্রহীতা কোষ নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। ব্যাকটেরিয়ায় এটি প্রাকৃতিক বা কৃত্রিমভাবে ঘটে। প্রাকৃতিক ট্রান্সফরমেশনে মৃত ব্যাকটেরিয়া থেকে DNA জীবিত ব্যাকটেরিয়া শোষণ করে। কৃত্রিমভাবে রাসায়নিক বা ইলেক্ট্রোপোরেশন পদ্ধতিতে DNA প্রবেশ করানো হয়।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি হলো মাইক্রোপ্রোপাগেশন বা টিস্যু কালচার, যেখানে একটি উদ্ভিদের ক্ষুদ্র অংশ (যেমন পার্শ্ব মুকুল) থেকে অসংখ্য হুবহু মাতৃ উদ্ভিদের গুণসম্পন্ন চারা তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার কিছু সম্ভাব্য সমস্যা নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিস্যু মাল্টিপ্লিকেশনের সময় প্রাথমিক অবস্থায় আবাদকৃত টিস্যু যদি ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়, তবে ফলস্বরূপ বহুসংখ্যক সম্ভাবনাময় চারা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
২. মাইক্রোপ্রোপাগেশন একটি শ্রমসাধ্য এবং ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া, যার জন্য বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক পদার্থ এবং দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়।
৩. টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উৎপন্ন চারাগুলো বেশ ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়ায় এদের স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় বেশ অসুবিধা হয়ে থাকে।
৪. উৎপন্ন চারাগুলো মাতৃ-উদ্ভিদের গুণসম্পন্ন হয়ে থাকে, তাই নতুন বৈশিষ্ট্যের আবির্ভাব ঘটে না। এতে উদ্ভিদগুলো ভবিষ্যতে দুর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে পরার সম্ভাবনা থাকে।
উদ্দীপকের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ মাইক্রোপ্রোপাগেশন মূলত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রথম ধাপ হলো প্রোফেজ এবং তৃতীয় ধাপ হলো মেটাফেজ। এই দুটি ধাপের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
১. প্রোফেজ মাইটোসিসের প্রথম এবং দীর্ঘতম ধাপ। অন্যদিকে, মেটাফেজ মাইটোসিসের তৃতীয় এবং অপেক্ষাকৃত স্বল্পস্থায়ী ধাপ।
২. প্রোফেজ ধাপে ক্রোমোসোমগুলো ঘনীভূত হওয়া শুরু করে এবং আস্তে আস্তে মোটা ও খাটো হয়, কিন্তু কোষের মধ্যে এলোমেলোভাবে থাকে। অপরদিকে, মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোসোমগুলো সর্বাধিক ঘনীভূত হয় এবং কোষের ঠিক মাঝ বরাবর সজ্জিত হয়।
৩. প্রোফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাস ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে শুরু করে। কিন্তু মেটাফেজ ধাপে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৪. প্রোফেজ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্রের গঠন শুরু হয় এবং স্পিন্ডল তন্তুগুলো সেন্ট্রোসোম থেকে প্রসারিত হতে থাকে। অন্যদিকে, মেটাফেজ ধাপে স্পিন্ডল যন্ত্র সম্পূর্ণরূপে গঠিত হয় এবং প্রতিটি ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে আকর্ষণ তন্তু সংযুক্ত থাকে।
৫. মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোসোমগুলো নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে অনিয়মিতভাবে বিন্যস্ত থাকে এবং নির্দিষ্ট কোনো দিকে চলে না। অপরদিকে, মেটাফেজ ধাপে স্পিন্ডল তন্তুর টানে ক্রোমোসোমগুলো কোষের বিষুবীয় তলে সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত হয়।