| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একখন্ড পৈতৃক জমি…’ a – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

একখন্ড পৈতৃক জমি আর নিজের গ্রাম ‘কাজলা’ থেকে তোলা সামান্য চাঁদা পুঁজি করে সবার সাহায্যে পঁয়ষটি বছর বয়স্ক লিয়াকত সাহেব দীর্ঘ আট বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্কুলটি গড়ে তুললেন। নিজের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না তাঁর। গ্রামের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শেষ করে কেউই গ্রামে ফেরে না বলে শিক্ষকের অভাব হয়। সরকারি অধিভূক্তির আগের বছরগুলোতে কেবল তার মুখে দেওয়া আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে গ্রামেরই কয়েকজন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত ছেলেমেয়ে বিনা বেতনে পাঠদান করেছে। অবশেষে তাঁর মৃত্যুর দশ মাস আগে স্কুলটি সরকারি অনুমোদন পায়। এখন সেখানে পাঁচশত ছাত্রছাত্রী, বিশজন শিক্ষক, সুন্দর খেলার মাঠ ও ফুলের বাগান সবই আছে- কেবল এই আদর্শ নিকেতনের স্বপ্নদ্রষ্টা লিয়াকত সাহেব নেই।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
কালাপাহাড় হলেন- ব্রাহ্মণ থেকে মুসলমানে ধর্মান্তরিত বিখ্যাত মুসলিম যোদ্ধা।
➤ যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।
➤ যৌবনের গান, প্রবন্ধে লেখক যৌবনের জয়গান করেছেন। এখানে প্রতিবাদ ও মানবিকতা উভয় চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। যৌবন মানেই ঝড়ের মতো বিধ্বংসী শক্তি। মিথ্যাকে গুঁড়িয়ে সত্য প্রতিষ্ঠাই এই শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন অতান্ত কোমল। কোমলতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্নদানে সহায়তা করে, বন্যার্তের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে রাত জেগে সেবা করে। গব বহন করে শ্মশানে নিয়ে যায়। এটিই যৌবনের মাতৃরূপ।
সারকথা: যৌবনের মাতৃরূপ বলতে যৌবনের কোমল রূপকে বোঝানো হয়েছে।
➤ উদ্দীপকের লিয়াকত সাহেব 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের ধারক।
➤ সাধারণত বয়সে বৃদ্ধ হলেও যে যৌবনের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কল্যাণের জন্য নির্ভয়ে সামনে এগিয়ে চলে সে যুবক। কারণ বয়সকে অগ্রাহ্য করে সে যৌবনশক্তিতে বলীয়ান হয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
➤ উদ্দীপকের একজন বয়স্ক মানুষের তারুণ্যদীপ্ত চেতনা তুলে ধরা হয়েছে। এখানে পঁয়ষটি বছর বয়স্ক লিয়াকত সাহেব পৈতৃক জমি ও গ্রামের মানুষদের দেওয়া সামান্য চাঁদা নিয়ে স্কুলের কাজ শুরু করেন। রাতদিন পরিশ্রম করে তিনি স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন। এই মহৎ কাজে তাঁর যৌবনশক্তির যে পরিচয় পাওয়া যায় তা 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রবন্ধে লেখক যৌবনকে বয়সের ফ্রেমে না বেঁধে কর্মতৎপরতা ও মানসিক মানদন্ডে মেপেছেন। কোনোকিছুকে ভয় না করে যে নিজ লক্ষ্যে এগিয়ে যায় সে-ই প্রকৃত যুবক। মানুষের কল্যাণই যুবকদের প্রধান চাওয়া, এই লক্ষ্যেই তারা আজীবন সংগ্রাম করে। এভাবে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের মানসিকতার এই স্বরূপ উদ্দীপকের লিয়াকত সাহেবের মধ্যেও দেখা যায়।
সারকথা: উদ্দীপকে লিয়াকত সাহেবের মধ্যে তারুণ্যের যে চেতনা লক্ষ করা যায় ।তা প্রবন্ধের চেতনাকে ধারণ করেছে।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের বার্ধক্যের ধ্যানধারণা 'আদর্শ নিকেতন' গড়ে তোলার পথে অন্তরায়। মন্তব্যটি যথার্থ।
➤ যৌবন মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়। যৌবন উদ্দীপ্ত তাবুণ্য অপরিমেয় প্রাণশক্তি নিয়ে বিপন্ন মানবতার পাশে। এসে দাঁড়ায় সেবাব্রতী ভূমিকা নিয়ে।
➤ 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক পুরাতনকে ধরে থাকা ভীতু মনমানসিকতাকে বার্ধক্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ধরনের মানসিকতার মানুষ দিয়ে কখনই নতুন ও কল্যাণময় কিছু করা সম্ভব নয়। কারণ এই মানসিকতা শুধু জীর্ণতাকে আঁকড়ে থাকতেই জানে, নতুন কিছুই গড়তে জানে না। উদ্দীপকে এটার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। বয়সে বৃদ্ধ হলেও লিয়াকত সাহেবকে বার্ধক্য স্পর্শ করতে পারেনি।
➤ উদ্দীপকের পঁয়ষটি বছরের লিয়াকত সাহেব দীর্ঘ আট বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজ গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর এই কর্মের মধ্যে তারুণ্যদীপ্ত চেতনা প্রকাশ পেয়েছে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত যৌবনের রূপটি উদ্দীপকে লিয়াকত সাহেবের মধ্যে লক্ষ করা যায়। তাঁর মধ্যে তারুণ্যের চেতনা ছিল বলেই তাঁর পক্ষে 'আদর্শ নিকেতন' গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এই দিক থেকে মন্তব্যটি যথার্থ।
সারকথা: জরাজীর্ণতাকে আঁকড়ে থাকার ধ্যানধারণা উদ্দীপকের 'আদর্শ নিকেতন' গড়ার অন্তরায়।