| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একসময় কলেরা রোগ…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একসময় কলেরা রোগ একটি জীবাণু দ্বারা মহামারী রূপ ধারণ করত। বর্তমানে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশার কোষস্থ নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজনের মাধ্যমে ১২-২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। বহু নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলা হয়।
জীবসমূহের কার্যকলাপ বোঝতে হলে DNA থেকে RNA এবং RNA থেকে প্রোটিনে বংশগতীয় তথ্য প্রবাহ স্থানান্তর প্রক্রিয়া জানা অতিজরুরি, তাই এই ত্যপ্রবাহ প্রক্রিয়াকে Central dogma বলা হয়।
"A dogma is a core belief or set of ideas",
সেন্ট্রাল ডগমাটি নিম্নরূপ:
DNA →ট্রান্সক্রিপশন→ mRNA →ট্রান্সলেশন →প্রোটিন
Central-dogma হলো আণবিক বংশগতিবিদ্যার (molecular biology) মৌলিক নীতি। Francis Crick ১৯৫৩ সালে Central dogma নামটি প্রদান করেন।
উদ্দীপকের মহামারী রূপ ধারণকারী রোগটি হলো কলেরা এবং এর জন্য দায়ী জীবানুটি হলো এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া।
একটি ব্যকটেরিয়ার আদর্শ গঠন দেয়া হল :
i.কোষ প্রাচীর :প্রতিটি ব্যাকটেরিয়াম কোষকে ঘিরে একটি জড় কোষ প্রাচীর থাকে। কোষ প্রাচীরের প্রধান উপাদান মিউকোপ্রোটিন জাতীয় যাকে মিউরিন বা পেপটিভোগ্লাইকান বলে। পেপটিডোগ্লাইকান একটি কার্বোহাইড্রেট পলিমার। পেপটিডোগ্রাইকানের সাথে কিছু পরিমাণ মুরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিডও থাকে।
ii.ক্যাপসিউল : বহু ব্যাকটেরিয়াতে কোষ প্রাচীরকে ঘিরে জটিল কার্বোহাইড্রেট বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি পুরু স্তর থাকে, যাকে ক্যাপসিউল বলে। একে স্নাইম স্বরও বলা হয়।
iii. ফ্ল্যাজেলা:অনেক ব্যাকটেরিয়াতে একটি ফ্ল্যাজেলাম বা একাধিক ফ্ল্যাজেলা থাকে। ব্যাকটেরিয়ার ফ্ল্যাজেলা নলাকার রডবিশেষ। ফ্ল্যাজেপিন নামক প্রোটিন দিয়ে ফ্ল্যাজেলা গঠিত।
iv. পিলি: কতগুলো গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ায় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র, দৃঢ়, সংখ্যায় অধিক লোম সদৃশ অঙ্গ থাকে যাকে পিলি বলে।পিলি, পিলিন (Pilin) নামক এক প্রকার প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
v.প্লাজমামেমব্রেন:সাইটোপ্লাজমকে বেষ্টন করে সজীব প্লাজমামেমব্রেন অবস্থিত। এটি সরল শৃঙ্খলের ফসফোলিপিড বাইলেয়ার হিসেবে অবস্থিত, এর সাথে মাঝে মাঝে প্রোটিন থাকে। এতে কোলেস্টেরল থাকে না। ব্যাকটেরিয়ার প্লাজমামেমব্রেন অনেক মেটাবলিক কাজ করে থাকে।
vi.মেসোসোম: ব্যাকটেরিয়া কোষের প্লাজমামেমব্রেন কখনো কখনো ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থলির মতো গঠন সৃষ্টি করে যাকে মেসোসোম বলে অনেকের মতে মেসোসোম কোষ বিভাজনে সাহায্য করে থাকে।
vii. সাইটোপ্লাজম:সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম অবস্থিত। সাইটোপ্লাজম বর্ণহীন, স্বচ্ছ। এতে বিদ্যমান থাকে ছোট ছোট কোষ গহ্বর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ (লৌহ, ফসফরাস, সালফার ইত্যাদি)।
এছাড়াও ক্রোমোসোম ও প্লাসমিড উপস্থিত থাকে।
উদ্দীপকে কলেরা, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এদের মধ্যে কলেরা ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ, আর ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ভাইরাসজনিত রোগ,অপরদিকে ম্যালেরিয়া plasmodium নামক একধরনের পরজীবি দিয়ে হয়।
এদের প্রত্যেকের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো :
কলেরা একটি পানিবাহিত রোগ, তাই বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা করতে হবে। দূষিত পানি, বাসি খাবার, রাস্তার উন্মুক্ত খাবার ও পানীয় বর্জন করতে হবে। রোগীর ভেদ-বমি থেকে মাছির সাহায্যে গৌণ সংক্রমণ ঘটে, তাই খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে। রোগীর পরিধেয় কাপড়, বিছানা-পত্র পুকুর বা নদী নালায় না ধুয়ে সিদ্ধ করে রোদে শুকাতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে পৃথক ঘরে রাখতে হবে। কোনো এলাকায় কলেরা দেখা দিলে সবার কলেরা ভেকসিন (টিকা) নিতে হবে।
যেহেতু ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া মশা বাহিত রোগ তাই মশা নিধন করাই প্রতিরোধের প্রধান উপায়। এই মশা দিনের বেলায় কামড়ায়, কাজেই দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে হবে। রোগ প্রতিরোধে দিনের বেলায় মশারী টানিয়ে ঘুমানো, মশার কয়েল অথবা ইলেকট্রিক ভ্যাপার ম্যাট ব্যবহার করতে হবে, যাতে মশা কামড়াতে না পারে। এই মশা ময়লা পানিতে জন্মায় না, বাড়ির আশপাশে বিভিন্ন কনটেইনারে (ফুলের টব, ভাঙ্গা হাঁড়ি পাতিল, ডাবের খোসা, ড্রাম ইত্যাদি) রক্ষিত বা সঞ্চিত পরিষ্কার পানিতে জন্মায়, তাই পানির এসব উৎস ধ্বংস করতে হবে অর্থাৎ পানি জমতে না দেয়া।
অন্যদিকে ম্যালেরিয়াও যেহেতু মশকী বাহিত একটি রোগ তাই মশকী প্রতিরোধের মাধ্যমে এ রোগ হতে মুক্ত থাকা সম্ভব। ম্যালেরিয়া প্রতিকার তিনভাবে হতে পারে; যথা- (ক) মশকী নিধন, (খ) মশকী হতে আত্মরক্ষা এবং (গ) চিকিৎসা।
(ক) মশকী নিধন: মশককুলের বংশ পরিবেশ হতে নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে এদের বিস্তার রোধ করা যায়-
(i) প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস: মশকীরা বদ্ধ পচা পানিতে ডিম পাড়ে। তাই বাড়ির আশেপাশের পরিত্যক্ত ডোবা, নালা পরিষ্কার রাখা, যেখানে সেখানে পানি জমতে না দেয়া, বাড়ির আশেপাশের ঝোপ-ঝাড়, জঙ্গল কেটে ফেলার মাধ্যমে মশকীর বসবাস ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা সম্ভব।
(ii) লার্ভা ও পিউপা ধ্বংস করা: পচা পানিতে ডিম ফুটে মশকীর লার্ভা ও পিউপা দশা সৃষ্টি হয়। পানিতে কেরোসিন বা পেট্রোল জাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দিলে এরা অক্সিজেনের অভাবে মারা পড়ে। এছাড়া বিএইচসি (BHC), ডায়েলড্রিন (dieldrin) ইত্যাদি কীটনাশক ওষুধ তেলের পানিতে ছিটিয়ে দিলে মশকীর লার্ভা ও পিউপা মারা যায়। পানিতে জুভেনাইল হরমোন ছিটিয়ে দিলে, লার্ভাগুলোর রূপান্তর ব্যাহত হয় ফলে এরা পূর্ণাঙ্গ মশকীতে রূপান্তরিত হতে পারে না।