একটা কঠিন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ব্যাপারে গত দুদিন থেকে শরিফ আর আমি খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছি।… শেষ পর্যন্ত শরিফ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। না, মার্সিপিটিশন সে করবে না। চোখের জলে ভাসতে ভাসতে আমিও শরিফের মতকে সমর্থন করেছি। রুমীকে অন্যভাবে বের করে আনার যতরকম চেষ্টা আছে, সব করা হবে। কিন্তু মার্সিপিটিশন করে নয়।
মুহম্মদ এনামুল হক কবিকে চট্টগ্রামের অধিবাসী বলে বিবেচনা করেছেন।
'দুর্বল ছাবাল' বলতে শৈশবের অসহায়ত্ব বা দুর্বলতাকে বোঝানো হয়েছে।
'বন্দনা' কবিতায় কবি সন্তানের জন্য পিতামাতার অতুলনীয় ত্যাগ স্বীকারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। মানব শিশুর জন্মে ও বেড়ে ওঠা তার পিতামাতার ইচ্ছা ও দয়ার ওপর নির্ভরশীল। কেননা এ সময়ে কান্না করা ছাড়া একটি শিশুর পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব নয়। কবি মানবের প্রাকশৈশবের অসহায়ত্বকে 'দুর্বল ছাবাল' বলে উল্লেখ করেছেন যে, সম্পূর্ণভাবে তার বাবা-মায়ের ওপর নির্ভরশীল।
সন্তানের জন্য মায়ের মমত্ববোধ ও সন্তানের বিপদে মায়ের উৎকণ্ঠার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'বন্দনা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'বন্দনা' কবিতায় অতুলনীয় মাতৃস্নেহের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সন্তানের কল্যাণ কামনায় মা সর্বদা নিবেদিতপ্রাণ। সন্তানের দুঃসময়ে সবচেয়ে বেশি আঘাত আসে মায়ের হৃদয়ে। মা তার জীবনের বিনিময়ে হলেও সন্তানকে ভালো রাখার চেষ্টা করেন।
উদ্দীপকের বাবা-মা সন্তানের বিপদগ্রস্ত অবস্থা বিবেচনায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। সন্তানের সম্মানের হানি হোক, বাবা-মা তা চান না। ফলে তারা কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছেন। বিষয়টি মায়ের জন্য পীড়াদায়ক হলেও তিনি কান্নাভরা কণ্ঠে সেই বিষয়ে সায় দিয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতায় কবি তাঁর মায়ের অপরিমেয় অবদানের কথা স্বীকার করেছেন। সকল প্রতিকূলতা থেকে মা তার সন্তানকে আগলে রেখেছেন। সেবাযত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে সন্তানকে মানুষ করে তুলেছেন। কবি তার জীবনে মায়ের এমন ত্যাগ স্বীকারকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন। এভাবে সন্তানের জন্য মায়ের মমত্ববোধ ও সন্তানের বিপদে মায়ের উৎকণ্ঠার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে 'বন্দনা' কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতারোধ অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, "অপত্য স্নেহের প্রকাশ পেলেও উদ্দীপকের সঙ্গে 'বন্দনা' কবিতার বৈসাদৃশ্যই অধিক" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বন্দনা' কবিতায় কবি পিতা-মাতাসহ সমাজের সকল শুভাকাঙ্ক্ষী, ইষ্টমিত্র ও সভাসদগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এতে সমাজজীবনের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির চেতনা ফুটে উঠেছে।
'বন্দনা' কবিতায় কবি তার কাব্য রচনায় সাফল্য লাভের জন্য রচনার শুরুতেই পিতামাতা, শিক্ষক, নগরবাসী ও সভাসদদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। কবিতায় কবি তার জীবনে পিতামাতা ও শিক্ষকের অবদান স্বীকার করেছেন। বাবা-মা এবং ওস্তাদের অপরিমেয় ত্যাগে. কবি মানুষ্যত্বের সন্ধানী মানুষ হয়ে উঠতে পেরেছেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এদিকে উদ্দীপকের পিতামাতার মধ্যে সন্তানের প্রতি উৎকণ্ঠার দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে। কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ছেলের সম্মানহানিকর কোনো সিদ্ধান্তে তারা পৌঁছাননি। কাঁদতে কাঁদতে মা সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছেন।
উদ্দীপকের পিতামাতা নৈতিক দিক থেকে উন্নত চিত্তের পরিচয় দিয়েছেন। 'বন্দনা' কবিতার কবির বাবা-মায়ের সন্তানের প্রতি অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকারের দিকটির সাথে উদ্দীপকের সাযুজ্য রয়েছে। এছাড়াও কবিতায় কবি তাঁর জীবনে মনুষ্যত্বের দিশারি শিক্ষাগুরুর কথা, নগরবাসী ও সভাসদদের মিত্রভাবে সম্বোধন করার দিকগুলো ফুটিয়ে তুলেছেন যার মাধ্যমে শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতাবোধ ফুটে উঠেছে, এসর বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এভাবে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
