একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষাসফরের প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য খাদ্য তালিকা নিম্নরূপ:
রক্ত সঞ্চালন: কোনো ব্যক্তির শিরার মধ্যদিয়ে বাইরে থেকে অন্যের রক্ত প্রবেশ করানোর প্রক্রিয়াকে রক্ত সঞ্চালন বলে।
কোলেস্টেরল লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। তিন প্রকার লিপোপ্রোটিনের মধ্যে একটিকে LDL বলে, যা খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে আখ্যায়িত। রক্তে LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে রক্তনালির অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল জমা হয়ে রক্তনালি গহ্বর সংকুচিত হয়ে পড়ে। হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনিগাত্রে চর্বি জমা হলে ধমনিতে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত অক্সিজেন এবং খাদ্যসার না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রক্তে এর পরিমাণ বেশী থাকা ক্ষতিকর।
উদ্দীপকে প্রদত্ত খাদ্যগুলো হলো ভাত ও রুটি ৩৫০ গ্রাম, মাংস ও ডাল ৭০ গ্রাম এবং তেল ও মাখন ২৫ গ্রাম।
আমরা জানি,
১ গ্রাম শর্করা থেকে ৪ খাদ্য ক্যালরি, ১ গ্রাম আমিষ থেকে ৪ খাদ্য ক্যালরি এবং ১ গ্রাম চর্বি থেকে ৯ খাদ্য ক্যালরি পাওয়া যায়।
ভাত ও রুটি শর্করা জাতীয় খাদ্য হওয়ায়-
৩৫০ গ্রাম ভাত ও রুটি থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ক্যালরি পরিমাণ
= ৩৫০ × 8
= ১৪০০ কিলোক্যালরি
আবার, মাংস ও ডাল আমিষ জাতীয় খাবার হওয়ায়-
৭০ গ্রাম মাংস ও ডাল থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ক্যালরি পরিমাণ
= ৭০ x ৪
= ২৮০ কিলোক্যালরি
তেল ও মাখন চর্বি জাতীয় খাদ্য হওয়ায়-
২৫ গ্রাম তেল ও মাখন থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ক্যালরি পরিমাণ
= ২৫×৯
= ২২৫ কিলোক্যালরি
অতএব উদ্দীপকে প্রদত্ত মোট খাদ্য থেকে প্রাপ্ত মোট খাদ্য ক্যালরি
= (১৪০০ + ২৮০ + ২২৫) কিলোক্যালরি
= ১৯০৫ কিলোক্যারলি
আমরা জানি, ১ কিলোক্যালরি = ৪.২ কিলোজুল
∴ ১৯০৫ কিলোক্যালরি = (৪.২ × ১৯০৫) ফিলোজুল
= ৮০০১ কিলোজুল
অর্থাৎ, উদ্দীপকের প্রদত্ত খাদ্য থেকে প্রাপ্ত মোট শক্তির পরিমাণ ৮০০১ কিলোজুল।
উদ্দীপকে খাদ্যগুলোর মধ্যে ভাত হলো শর্করা, মাংস হলো আমিষ জাতীয় খাদ্য উপাদান।
উল্লিখিত খাদ্য গ্রহণের পর মুখগহ্বরে দাঁত ও জিহ্বার সাহায্যে খাদ্য চিবানোর ফলে খাদ্যবস্তু ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয়। এ সময় লালাগ্রন্থি থেকে লালা নিঃসৃত হয়ে খাদ্যের সাথে মিশে যায় যা খাদ্যবস্তুকে গলধঃকরণে সাহায্য করে। লালারসে টায়ালিন নামক এনজাইম শর্করা (ভাত) জাতীয় খাদ্যের শ্বেতসারকে মল্টোজে পরিণত করে। বাকি খাদ্য উপাদান অপরিবর্তিত থাকে। পাকস্থলীতে পেপসিন এনজাইমের প্রভাবে আমিষ (মাংস) পলিপেপটাইডে পরিণত হয়। এবার সমস্ত খাদ্য উপাদানগুলো যখন ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌছায় তখন অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন এনজাইম নিঃসৃত হয়। এগুলো সমস্ত খাদ্য উপদানকে সরল উপাদানে পরিণত করে। অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে গ্লকোজে, ট্রিপসিন পলিপেপটাইডকে অ্যামাইনো এসিড ও সরল পেপটাইডে পরিণত করে। এভাবে উল্লিখিত মাংস ও ভাত খাদ্যগুলোর পরিপাক ঘটে।
