| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি বিশেষ বিভাজন…’ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ ২০২৫ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি বিশেষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের রেণুমাতৃকোষ থেকে রেণু উৎপাদিত হয় এবং অপর বিভাজন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
যেসব জিন জীবের মৃত্যু ঘটায় সেসব জিনই হলো লিথাল জিন বা মারণ।
অতীতে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ যার নিদর্শন একমাত্র জীবাশ্মে পাওয়া যায় এর সাথে জীবন্ত কোনো প্রজাতির সাদৃশ্য থাকলে উক্ত প্রজাতিকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। Cycadales বর্গের অন্তর্গত বেশ কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে গেছে যা পৃথিবীতে মেসোজোয়িক যুগে বর্তমান ছিল। কিন্তু বর্তমানকালে জীবিত নগ্নবীজী উদ্ভিদ Cycas এর অতীতে বিলুপ্ত সাইকাডোফিলিকেলিস ও বেনিটাইটেলিস বর্গের অন্তর্গত উদ্ভিদ প্রজাতির সাথে অনেক মিল থাকায় সাইকাসকে (Cycas) জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত দ্বিতীয় বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। এটি পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে দীর্ঘতম ও দীর্ঘস্থায়ী ধাপ হলো প্রোফেজ। নিচে প্রফেজ ধাপের চিত্রসহ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. এ পর্যায়ে কোষের নিউক্লিয়াস আকারে বড় হয়।
২. নিউক্লিয়াসের ক্রোমাটিন তন্তুর পানি-বিয়োজন ঘটে
৩. ক্রোমাটিন তন্তুগুলো কুণ্ডলীকৃত হয়ে ক্রমশ খাটো ও মোটা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোসোম সৃষ্টি করে ।
৪.পানি-বিয়োজনের ফলে ক্রোমোসোমগুলো মোটা ও খাটো হওয়ার কারণে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে দেখা যায় এবং রঞ্জক ধারণ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়।
৫. প্রতিটি ক্রোমোসোম সেন্ট্রোমিয়ার ছাড়া লম্বালম্বিভাবে বিভাজিত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড সৃষ্টি করে।
৬. এ পর্যায়ের শেষের দিকে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটতে থাকে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়। নিচে মিয়োসিস কোষ বিভাজনের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো-
১) জননকোষ সৃষ্টি: মায়োসিসের ফলে জননকোষ উৎপন্ন হয়, তাই যৌন জননক্ষম জীবে মায়োসিস না ঘটে তবে বংশবৃদ্ধি অসম্ভব।
২) ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা: প্রজাতিতে বংশানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব (constant) রাখা কেবলমাত্র এ প্রক্রিয়ার জন্য সম্ভব হচ্ছে। হ্যাপ্লয়েড উদ্ভিদে জাইগোটে এবং ডিপ্লয়েড উদ্ভিদে জনন মাতৃকোষে মিয়োসিস না ঘটে তাহলে পিতা মাতা হতে সন্তান সন্ততিতে ক্রমাগতভাবে পুরুষানুক্রমে ক্রোমোসোম সংখ্যা দ্বিগুণ, চারগুণ, আটগুণ, ষোলোগুণ এভাবে বৃদ্ধি পেয়ে জীবজগতে একটি আমূল পরিবর্তন ঘটে যেতো এবং পরিণামে জীবজগত ধ্বংস হয়ে যেত।
৩) প্রজাতির স্বকীয়তা ঠিক রাখা: ক্রোমোসোম সংখ্যা সঠিক রাখার মাধ্যমে বংশানুক্রমে প্রতিটি প্রজাতির স্বকীয়তা রক্ষিত হচ্ছে।
৪) বৈচিত্র্যের সৃষ্টি: যৌন প্রজনন সম্পন্ন কোনো দুটি জীবই হুবহু একই রকম হয় না। পৃথিবীর প্রায় সাত'শ কোটি মানুষ একই প্রজাতিভুক্ত হয়েও একজন অন্যজন থেকে ভিন্নতর। মায়োসিস প্রক্রিয়ায় গ্যামিটে ক্রোমোসোমের স্বাধীন বিন্যাস এবং ক্রসিংওভারের ফলে পৃথিবীতে এ বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়েছে।
৫) অভিব্যক্তি: মায়োসিস আনে বৈচিত্র্য, আর বৈচিত্র্য আনে অভিব্যক্তির ধারা ও প্রবাহ।
৬) গ্যামিট সৃষ্টি ও বংশবৃদ্ধি: ডিপ্লয়েড জীবে মায়োসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় গ্যামিট। আর গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমেই যৌন প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে।
৭) জনুক্রম: সে সকল জীবের জীবনচক্রে জনুক্রম আছে সেখানে মায়োসিস প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করে।
৮) মেন্ডেলের সূত্র: মেন্ডেলের সূত্রের ব্যাখ্যা দেয়া মায়োসিস ছাড়া সম্ভব নয়।