| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি বিশেষ বনাঞ্চলের…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি বিশেষ বনাঞ্চলের উদ্ভিদে মূলতন্ত্র মাটির খুব গভীরে না গিয়ে উপরিতলে উঠে আসে এবং আঙ্গুলের ন্যায় গঠন সৃষ্টি হয়। অন্য একটি পরিবেশের উদ্ভিদের পাতা ছোট, রসালো বা পাতা কণ্টকে রূপান্তরিত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
একই ধরনের জলবায়ু, একই ধরনের মাটি, একই জাতীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমকে বায়োম বলে।
ইকোসিস্টেমের একমাত্র শক্তির উৎস হচ্ছে সূর্য। উদ্ভিদ সূর্যের আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে খাদ্যবস্তুতে সঞ্চিত করে। বিভিন্ন স্তরের খাদক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই শক্তি গ্রহণ করে। প্রতিটি স্তরে ৯০% শক্তি খরচ হয়। বিভিন্ন স্তরের খাদকের মৃত্যুর ফলে শক্তির সম্পূর্ণ বিনাশ ঘটে। উৎপাদক পুনরায় সূর্য থেকেই শক্তি গ্রহণ করে খাদ্য প্রস্তুত করে। তাই ইকোসিস্টেমে শক্তির প্রবাহ একমুখী।
উদ্দীপকে প্রথম পরিবেশের উদ্ভিদগুলো হলো লবণাক্ত পরিবেশের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ।
লবণাক্ত পরিবেশের এসব ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ অভিযোজনের মাধ্যমে এ পরিবেশে টিকে থাকে। ম্যানগ্রোভ বন তথা লবণাক্ত পরিবেশের মাটির গভীরতার সাথে সাথে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। তাই উদ্ভিদের মূলতন্ত্র মাটির খুব গভীরে না গিয়ে উপরের স্তরেই বিস্তৃত থাকে। অধিক লবণাক্ত পানি শোষণ করতে অসুবিধা হয়, তাই বৃষ্টির সময় লবণাক্ততা কিছুটা কমে আসলে উদ্ভিদ দ্রুত পানি শোষণ করে তাদের প্যারেনকাইমা কোষে সঞ্চয় করে রাখে। এ কারণে এদের কান্ড, পাতা ও মূলকে কিছুটা রসালো দেখায়। উদ্ভিদের শ্বাসমূলের ভেতরে বায়ুকুঠুরী থাকে এবং সে কুঠুরীতে বায়ু (O2) ধরে রাখতে পারে। শ্বাসমূলের কারণে মূল ও বাইরের সাথে উদ্ভিদের গ্যাসীয় বিনিময় সহজ হয়। জোয়ার ভাটার সময় পানির টানকে সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য অনেক উদ্ভিদে ঠেসমূল বা স্তম্ভমূল থাকে। লবণাক্ত মাটিতে এবং জোয়ার-ভাটার স্থানে বীজ এক স্থানে টিকে থাকা কঠিন। তাই বহু উদ্ভিদের জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম হয়।
উপরের বৈশিষ্ট্যগুলো গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোজিত হয়ে উদ্দীপকের উদ্ভিদসমূহ লবণাক্ত পরিবেশে টিকে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবেশ দুটি হলো যথাক্রমে লবণাক্ত পরিবেশ ও মরুজ পরিবেশ। উক্ত পরিবেশ দুটির উদ্ভিদের মধ্যে নিম্নলিখিত সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়-
উভয় পরিবেশের উদ্ভিদের মূল সুগঠিত। পাতা ক্ষুদ্র, কাণ্ড ও পাতার ত্বকে পুরু স্তর বিদ্যমান। উভয় পরিবেশের উদ্ভিদের ক্ষুদ্র ও কমসংখ্যক পত্ররন্দ্র বিদ্যনাম। পাতায় প্যালিসেড প্যারেনকাইমার আধিক্য পরিলক্ষিত হয়। উভয় পরিবেশের উদ্ভিদেরই পরিবহন টিস্যুগুচ্ছ সুগঠিত। উভয় পরিবেশের উদ্ভিদেরই বিভিন্ন ধরনের গ্রন্থিকোষ ও নিঃসরণ অঙ্গ রয়েছে। সাধারণত উভয় পরিবেশের উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই প্রস্বেদনের হার কম হয়ে থাকে। উভয়ক্ষেত্রেই পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে বায়ুস্থ CO₂ ও ০₂ এর আদান-প্রদান ঘটে। উভয় পরিবেশের উদ্ভিদের মধ্যে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়।