| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি দেশ দীর্ঘদিন…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – যৌবনের গান, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা কুসংস্কার, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বোঝা বয়ে চলেছে। ধীরে ধীরে সমাজে নেমে এসেছে হতাশা, ভয় ও নিষ্ক্রিয়তা- যা মানুষের মনকে ক্রমশ গ্রাস করেছে। কিন্তু দেশের তরুণরা বুঝল, যৌবন কেবল বয়সের নাম নয়, এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস আর মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা। ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এই তারুণ্যশক্তি দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করল। তাদের কর্মস্পৃহা ও ত্যাগে সমাজে জাগরণ শুরু হলো, ভাঙতে লাগল পুরানো শৃঙ্খল আর পশ্চাৎপদতা। জন্ম নিল নতুন আশার আলো।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
মুসোলিনি ১৯৩৫ সালে আবিসিনিয়া আক্রমণ করেন।
যৌবনের মাতৃরূপ বলতে লেখক যৌবনের সেবাধর্মী কোমল রূপকে বুঝিয়েছেন।
যৌবনের শক্তি ঝড়ের মতো বিধ্বংসী। পৃথিবীর মিথ্যার সমস্ত আগল ভেঙে সত্যের স্বরূপ উন্মোচন এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠাই এ শক্তির মূল লক্ষ্য। কিন্তু কখনো কখনো যৌবন কোমল রূপেও আবির্ভূত হয়। সেবাপরায়ণতা, দয়ার্দ্রতা যৌবনের আরেক রূপ। যৌবন ক্ষুধার্তকে অন্ন দান করে, অসহায়কে সাহস জোগায়, দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় সর্বাত্মক সাহায্য নিয়ে। আর্তের পাশে থেকে রাত জেগে সেবা করে। মূলত এই রূপকেই লেখক যৌবনের মাতৃরূপ বলেছেন।
উদ্দীপকের তরুণদের ভূমিকার সঙ্গে 'যৌবনের গান' প্রবন্ধে বর্ণিত তারুণ্যের দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্দম, অফুরন্ত প্রাণচঞ্চলতা ও অটল সাধনার সাদৃশ্য রয়েছে।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক দুরন্ত-দুর্বার যৌবনের প্রশস্তি উচ্চারণ করেছেন। কারণ যৌবন হচ্ছে অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার। যৌবন মানুষের জীবনকে করে গতিশীল ও প্রত্যাশাময়।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে তারুণ্যের প্রচেষ্টায় কুসংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত হয়ে একটি দেশে আশার আলো জন্ম নেওয়ার ইতিবৃত্ত। এর পেছনে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে সে দেশের তরুণ সমাজ। দিনরাত নিরলস পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তাদের এ অর্জন সম্ভবপর হয়েছে। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও লেখক দেখিয়েছেন দেশের সংকটকালে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবার স্বরূপ। তরুণদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দেশ সংকট উত্তরণ করতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকের তরুণদের ভূমিকার সাথে এদিক থেকেই 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধ উভয় ক্ষেত্রেই দেশ ও জাতির সংকটকালে তরুণসমাজ কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ায় "যৌবনশক্তিই পারে জাতিকে পশ্চাৎপদতা আর শৃঙ্খলমুক্ত করে প্রগতির পথে পরিচালিত করতে" মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
'যৌবনের গান' প্রবন্ধে লেখক তারুণ্যশক্তির জয়গান গেয়েছেন। অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার তারুণ্যই জীবনকে গতিশীল ও প্রত্যাশাময় করে তোলে। তারা বিপন্ন মানবতার পাশে সেবাব্রত নিয়ে দাঁড়ায়।
উদ্দীপকে পশ্চাৎপদ দেশের তারুণ্যশক্তি কান্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে অদম্য সাহসের সাথে রুখে দাঁড়িয়ে, ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকলে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে পুরানো শৃঙ্খল ভেঙে নতুন আশার আলো নিয়ে এলো। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও লেখক দেশের দুঃসময়ে যৌবনশক্তিকে কান্ডারির ভূমিকায় দেখেছেন। প্রাণসংশয় নিয়ে আর্তমানবতার পাশে সেবাব্রত নিয়ে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করাকেই তারুণ্যের স্বরূপ হিসেবে দেখিয়েছেন।
উদ্দীপকে লেখক একটি পশ্চাৎপদ জরাজীর্ণ জাতির মুক্তির দিশা হিসেবে যৌবনশক্তিকে সামনে এনেছেন। সমস্ত পশ্চাৎপদতার শেকল ছিঁড়ে তারা দেশকে আশার আলো দেখাতে সক্ষম হয়। 'যৌবনের গান' প্রবন্ধেও লেখক যৌবনের দুর্বার উদ্দীপনা, ক্লান্তিহীন উদ্দম, অফুরন্ত প্রাণচাঞ্চল্য ও অটল সাধনার মধ্য দিয়ে সকল বাধা অতিক্রম করে প্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় দেশ উপহার দেওয়ার প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাই বলা যায় যে, "যৌবনশক্তিই পারে জাতিকে পশ্চাৎপদতা আর শৃঙ্খলমুক্ত করে প্রগতির পথে পরিচালিত করতে।" সুতরাং উদ্দীপক ও 'যৌবনের গান' প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে এ মন্তব্যটি বাস্তব রূপ লাভ করেছে।