| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি মহাসাগর যার…’ আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৫ – সমুদ্রস্রোত ও জোয়ারভাটা, ভূগোল, ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি মহাসাগর যার উত্তর-পশ্চিম দিকে পৃথিবীর ৬ষ্ঠতম মহাদেশ এবং উত্তর-পূর্বে ৩য় বৃহত্তম মহাদেশ অবস্থিত। উক্ত মহাসাগরের উত্তর অংশের স্রোতসমূহের সাহায্যে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত প্রবাহিত হয়, তাকে মৌসুমি স্রোত বলে।
স্থলভাগ থাকলে সমুদ্রস্রোত প্রবাহিত হওয়ার সময় স্থলভাগে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে দিক পরিবর্তন করে দেয়। যেমন- আটলান্টিক মহাসাগরের দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোতটি দক্ষিণ আমেরিকার সেন্টরক অন্তরীপে বাধা পেয়ে তা দুটি নতুন স্রোতের সৃষ্টি করে। স্থলভাগ না থাকলে এ স্রোতটি সোজা পশ্চিম দিকে চলে যেত। অনুরূপভাবে, স্থলভাগের অবস্থানের ফলে দক্ষিণে প্রশান্ত মহাসাগরে পেরু স্রোত ও ভারত মহাসাগরে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। তাই বলা যায়, কতিপয় সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তির মূলে রয়েছে স্থলভাগের অবস্থান।
মানবজীবনে সমুদ্রস্রোতের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো:
নাতিশীতোষ্ণ এবং হিমমণ্ডলের অনেক সমুদ্রে শীতকালে পানি জমে বরফ হয়ে যায়। এরূপ অঞ্চলে উষ্ণস্রোত প্রবাহিত হলে সমুদ্রের পানি বরফে পরিণত হতে পারে না। যেমন- উপসাগরীয় উষ্ণ স্রোতের দরুন নরওয়ের উত্তর উপকূলে শীতকালেও বরফ জমে না।
সুতরাং বন্দরগুলোর পথ বন্ধ হতে পারে না। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর হয়।
সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের উপর সমুদ্রস্রোতের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। স্রোতের অনুকূলে জাহাজ চালিয়ে অতি শীঘ্রই গন্তব্য স্থানে যাওয়া যায়। এতে সুলভে মালপত্র রপ্তানি ও আমদানি করা সহজ হয়।
হিমশৈল উষ্ণ স্রোতের সংস্পর্শে আসলে গলে যায় এবং তার সাথে প্রবাহিত মাটি, কাদা, উদ্ভিদ প্রভৃতি পানির তলদেশে সঞ্চিত হয়ে চড়াভূমির সৃষ্টি করে। যেমন- নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকটে এরূপ এক বিরাট চড়ার সৃষ্টি হয়ে মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। ফলে এ অঞ্চল মৎস্য ব্যবসায় প্রসিদ্ধ। মগ্ন চড়ার নিকট উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থল মাছের প্রিয় খাদ্য প্লাঙ্কটন বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। যেমন-নিউফাউন্ডল্যান্ড, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, নরওয়ে ও জাপান উপকূলে মৎস্যশিল্প গড়ে উঠার পশ্চাতে রয়েছে উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলন।
সমুদ্র তীরবর্তী দেশসমূহের জলবায়ুর উপর সমুদ্রস্রোতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। যেসব দেশের নিকট দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয় সেসব দেশের উত্তাপ বেশি থাকে এবং উষ্ণ স্রোতের উপর প্রবাহিত বায়ুতে অধিক জলীয়বাষ্প থাকে। ফলে স্থলভাগের উপর দিয়ে জলীয়বাষ্প প্রবাহিত হওয়ার সময় বৃষ্টিপাত ঘটায়। এতে সেখানে ফসল অনেক ভালো হয়।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, সমুদ্রস্রোত মানবজীবনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইতিবাচক প্রভাববিস্তার করে। তাই মানবজীবনে সমুদ্রস্রোতের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য উক্তিটি যুক্তিযুক্ত।