| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি নির্বাচনে শাসক…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

একটি নির্বাচনে শাসক দলের ব্যাপক ভরাডুবি হয়। বিরোধীদলগুলোর জোট ২১ দফার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনের পরেই দেশটিতে একটি সংবিধান রচিত হয় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। তাছাড়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে। মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের আইনসভা ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হবে। এর মধ্যে ৩০০ জন প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে এবং ৫০ জন মহিলা সদস্য সংসদের নির্বাচিত সদস্যগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন। আইনসভায় একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন। তারা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।
বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়ায় ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ছয় দফা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। এ স্বাধিকার আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা সংগ্রামে অবতীর্ণ হয় এবং ছিনিয়ে নিয়ে আসে বাঙালি জাতির স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য। বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এ জন্যই ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
উদ্দীপকে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাংলার স্বাতন্ত্র্যবোধের ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ঘটনা। এটি পূর্ব বাংলার জনগণকে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করে তোলে। উদ্দীপকে এ নির্বাচনেরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের ছকটিতে নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে নৌকা, মোট আসন সংখ্যা ৩০৯ এবং ফলাফলের স্থানে প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ২২৩ উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এ বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতৃত্বে কয়েকটি দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেছিল। এর নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। এ নির্বাচনে ৩০৯ টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭ টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়। পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যগণ ১৯৪৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৫ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিয়ম অনুযায়ী ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের অন্যান্য প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও শাসকগোষ্ঠী পূর্ব বাংলায় নানা অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করে এবং এখানকার আইনসভার মেয়াদ আরও তিন বছর বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৪৯ সালে অনুষ্ঠিত টাঙ্গাইল উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ের আশঙ্কায় এরূপ ব্যবস্থা করা হলেও এতে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা আরও কমে যায়। শেষ পর্যন্ত গণদাবির মুখে বাধ্য হয়ে ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব বাংলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত নির্বাচন অর্থাৎ ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে মন্তব্যটি যথার্থ।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এ নির্বাচনের ফলেই বাঙালিরা সচেতন হয়ে ওঠে। তাদের জাতীয়তাবাদের বিকাশ সাধন হয়। বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি বাঙালি জনমনে নতুন রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়। যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের মাধ্যমে বাঙালির ২১ দফা দাবি বাস্তবায়িত হয়। আর এ পথ ধরেই বাঙালি স্বাধিকার আন্দোলনের দিকে অগ্রসর হয় এবং সবশেষে স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট বাঙালি জাতীয়তাবাদের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ ঘটে। এ নির্বাচনে জয়লাভের মধ্য দিয়েই বাঙালির প্রথম রাজনৈতিক বিজয় প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। তাদের প্রাণের দাবি বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। এ সফলতা তাদের পরবর্তী প্রতিটি কাজে প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে। এ নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেই বাঙালি বুঝতে পারে ন্যায্য দাবি কখনো বৃথা যেতে পারেনা। তারা বুঝতে পারে নিজের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন বাঙালিকে রাজনৈতিক সচেতনতা দান করে।