| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি নির্জীব, দৃঢ়,…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২২ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি নির্জীব, দৃঢ়, ভেদ্য আবরণ উদ্ভিদকোষে থাকে। একটি সজীব, স্থিতিস্থাপক বৈষম্যভেদ্য আবরণ সকল জীবকোষে থাকে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরের পর্দা কিছু দূর পরপর আঙ্গুলের মতো ভাঁজ হয়ে উপবৃদ্ধির মতো যে গঠন তৈরি করে তাই ক্রিস্টি।
ক্লোরোপ্লাস্ট হলো সবুজ বর্ণের প্লাস্টিড। এ অঙ্গাণুটিতে ক্লোরোফিল a, ক্লোরোফিল ৮, ক্যারোটিন ও জ্যান্থোফিল থাকে। ক্লোরোপ্লাস্ট সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। একমাত্র ক্লোরোপ্লাস্টই খাদ্য তৈরি করতে পারে বলে একে কোষের রান্নাঘর বলা হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত ১ম আবরণটি হলো উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর। কোষপ্রাচীরের গঠনে তিনটি স্তর দেখা যায়। যথা
- মধ্যপর্দা: কোষপ্রাচীরের যে স্তরটি দুটি পাশাপাশি কোষের মধ্যবর্তী সাধারণ পর্দা হিসেবে অবস্থান করে তাকে বলা হয় মধ্যপর্দা। ফ্রাগমোপ্লাস্ট এবং পেকটিন জাতীয় ভেসিকল মিলিতৃভাবে মধ্যপর্দা গঠন করে।
- প্রাথমিক প্রাচীর: মধ্যপর্দার উপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ এবং গ্লাইকোপ্রোটিন ইত্যাদি জমা হয়ে যে পাতলা স্তর তৈরি হয়, সেটি হলো প্রাথমিক প্রাচীর। এটি মধ্যপর্দার অন্তঃতলে তৈরি হয়।
- সেকেন্ডারি প্রাচীর: প্রাথমিক প্রাচীরের উপর স্তরে স্তরে সেলুলোজ জমা হয়ে যে স্তর সৃষ্টি হয় তাকে সেকেন্ডারি প্রাচীর বলে। এ স্তরটি বেশ পুরু এবং তিনস্তর বিশিষ্ট।
উদ্দীপকে বর্ণিত ২য় আবরণটি কোষঝিল্লি। কোষঝিল্লির সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মডেল হলো ফ্লুইড মোজাইক মডেল। নিচে মডেলটির নামকরণের যথার্থতা বিশ্লেষণ করা হলো-
১৯৭২ সালে বিজ্ঞানী এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন কোষঝিল্লির গঠন ব্যাখ্যা করেন, যাকে ফ্লুইড মোজাইক মডেল নামে আখ্যায়িত করা হয়। এ মডেল অনুযায়ী, কোষঝিল্লি দ্বিস্তর বিশিষ্ট এবং প্রতিটি স্তর ফসফোলিপিড দিয়ে তৈরি। ফসফোলিপিড অণুগুলো দ্বিপ্রান্তবিশিষ্ট। এর এক প্রান্তকে পানিগ্রাহী মস্তক ও অন্য প্রান্তকে পানিবিদ্বেষী লেজ বলে। ফসফোলিপিডের উভয় স্তরে হাইড্রোকার্বন লেজটি মুখোমুখি থাকে এবং পানিগ্রাহী মস্তক অংশ বিপরীত দিকে থাকে। ফসফোলিপিড অণুর ফাঁকে ফাঁকে কোলেস্টেরল অণু থাকে। অনেক সময় ফসফোলিপিড এবং কোলেস্টেরল অণুর মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে প্রোটিন অণু অবস্থান করে। অনেক ফসফোলিপিড অণু এবং অধিকাংশ প্রোটিন অণুর সঙ্গে ক্ষুদ্র কার্বোহাইড্রেট চেইন সংযুক্ত থাকে। এদেরকে যথাক্রমে গ্লাইকোলিপিড এবং গ্লাইকোপ্রোটিন বলে। কোষঝিল্লি অনেকটা অর্ধ-তরল ফসফোলিপিড স্তরে স্থির না থেকে পার্শ্বীয়ভাবে নড়াচড়া করতে পারে। কোষঝিল্লি অর্ধ-তরল গঠনের কারণেই প্রোটিন অণুগুলো ফসফোলিপিড স্তরের উপর যত্রতত্র মোজাইকের মতো ছড়ানো দেখায়। এজন্যই সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এ মডেলটিকে 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' নামকরণ করা যথার্থ হয়েছে।