| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি পতাকার জন্য…’ ঢাকা বোর্ড ২০২২ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি পতাকার জন্য কত রক্ত চাই!
একটি মানচিত্রের জন্য কত অশ্রু চাই!
রক্তের বুদবুদ ওঠে বিষণ্ন বাতাসে
চির সবুজের দেশে আপ্লুত আমুদে!
জলপাই রঙের ট্যাংক বেড়ায় দাপিয়ে,
শহরে কী বন্দরে সময়-অসময়।
গর্জে উঠেছে সন্তান ভয়হীন সপ্রাণ,
বাহুতে কলিজা বেঁধে করেছে সংগ্রাম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
'কমলবন' শব্দটির অর্থ পদ্মবন।
“এ রঙের বিপরীতে আছে অন্য রং" বলতে খুবই পাকিস্তানি শাসকদের বর্বর শাসন নামের শোষণকে বুঝিয়েছেন।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান দুটি ভূখণ্ড পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে গঠিত হয়। পূর্ব পাকিস্তান ছিল বর্তমান আমাদের বাংলাদেশ।পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকেরা আমাদের নানাভাবে শাসন নামের শোষণ করতে থাকে। তারা আমাদের মাতৃভাষার উপরে আঘাত হানে।স্বাধীনচেতা বাঙালীরা সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে।এর জন্য তারা বাঙালীদের ওপর অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছে।
উদ্দীপকটিতে "ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯" কবিতার অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সংগ্রামী চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলার মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য বারবার সংগ্রাম করেছে। অধিকার আদায়ের জন্য তারা তাদের নিজের প্রাণকে বিসর্জন দিয়েছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রাম বাঙালির চেতনা ও বীরত্বের পরিচয় বহন করে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য এদেশের মানুষের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।বাঙালির এই সংগ্রামী চেতনা উদ্দীপক ও ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। ১৯৬৯ সালে জাতিগত শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে এদেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনের এই অমিত শক্তি বাঙালি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে সঞ্চারিত করেছে। বাঙালি যে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি সেই সাহসী চেতনার দিকটি উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় সাদৃশ্যপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের কবি ও ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবি একই মন্ত্রে দীক্ষিত। মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭ সালেরদ দ্বি জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব বাংলার মানুষের উপর অন্যায় অত্যাচার শুরু করে। তারা অন্যায় ভাবে এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে। এক সময় তারা বাঙালির ভাষার উপর হস্তক্ষেপ করে। বাংলা ভাষাকে তারা কেড়ে নিতে চায়।
"ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯" কবিতা কবি ভাষা আন্দোলন চেতাকে স্মরণ করে বাঙালি সংগ্রামী চেতনা দেশপ্রেম ও গণজাগরণ দিকটি তুলে ধরেছেন। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানিরা আমাদের বাঙালিদের উপর নানাভাবে শাসনের নামে শোষণ করতে থাকে। দেশভাগের পর অধিকার সমান করার কথা হলেও তার বিন্দুমাত্র দেখা যায় না। অধিকার বুঝিয়ে দেয়ার পরিবর্তে তারা নানা ধরনের তালবাহানা শুরু করে। তারা বাংলার মানুষদের উপরে অত্যাচার শুরু করে।তারা বাঙালির মুখের ভাষা কেড়ে নিয়ে উর্দু ভাষাকে চাপিয়ে দিলে বাঙালি প্রতিবাদ করে। বাঙালির সাহসী সন্তানরা আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলা ভাষায় মর্যাদা রক্ষা করেছেন। আলোচ্য কবিতার প্রতিফলিত সেই চেতনা আর উদ্দীপকে প্রতিফলিত চেতনা এক ও অবিভিন্ন।
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবির চেতনায় ভাষাশহিদদের রক্তের বুদবুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে ফুটেছে শহরের পথে পথে। উদ্দীপকেও রক্তবুদবুদের কথা বলা হয়েছে। এ দিক থেকে উদ্দীপকের কবিতাংশের ভাবনা এবং 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার কবির ভাবনা একসূত্রে গাঁথা। উভয় কবিই বাঙালির সংগ্রামী চেতনার ধারক এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ জাগরণের সমর্থক। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।