| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘একটি শহরে পরিবেশ…’ আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ ২০২৬ – রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

একটি শহরে পরিবেশ রক্ষার জন্য কিছু নাগরিক একটি সংগঠন গঠন করেছে। তারা সরকারকে সচেতন করার জন্য সমাবেশ, অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার করছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
রাজনৈতিক দলের সংখ্যার ভিত্তিতে দলীয় ব্যবস্থাকে প্রধানত তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা- একদলীয়, দ্বিদলীয় ও বহুদলীয়।
আধুনিক গণতন্ত্রে নাগরিকগণের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে তারা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক দল 'এই প্রতিনিধি (নির্বাচনে প্রধান ভূমিকা পালন করে এবং জনগণের ইচ্ছাকে সংগঠিত করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকাশ করে। রাজনৈতিক দল ছাড়া আধুনিক গণতন্ত্রের কার্যকারিতা কল্পনা করা কঠিন হওয়ায় একে গণতন্ত্রের প্রাণ বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সংগঠনটি হলো একটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী, যা মূলত একটি মনোবৃত্তিবাহী গোষ্ঠী। এ ধরনের গোষ্ঠী অভিন্ন মূল্যবোধ ও আদর্শের ভিত্তিতে গঠিত হয় এবং নির্দিষ্ট সামাজিক ইস্যু যেমন পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল না করেই তাদের সদস্য ও সমর্থকদের স্বার্থরক্ষা বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এদের বৈশিষ্ট্য হলো এরা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে না, বরং পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে চায়। উদ্দীপকের সংগঠনটি যেমন সমাবেশ, অনলাইন ক্যাম্পেইন ও গণমাধ্যম ব্যবহার করছে, তেমনি এ গোষ্ঠীগুলো লবিং, প্রচারণা বা জনমত গঠনের মতো কৌশল ব্যবহার করে তাদের দাবি আদায় করে। এদের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে এবং এটি একটি সংগঠিত কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
দীর্ঘমেয়াদে উদ্দীপকে বর্ণিত 'পরিবেশ রক্ষাকারী' চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীটি সমাজের পরিবেশ ও নীতি প্রণয়নে সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।
প্রথমত, এই সংগঠনটি পরিবেশ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে আরও বাস্তবসম্মত এবং বিজ্ঞানসম্মত নীতি প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদী প্রচারণার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং এটি একটি শক্তিশালী জনমত তৈরি করবে, যা সরকারকে পরিবেশবিরোধী কোনো কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করবে। এটি সরকারের ক্ষমতার ওপর লাগাম টানতে এবং নীতি নির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
অতএব বলা যায়, এ ধরনের সংগঠন সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে এবং প্রান্তিক ও সচেতন নাগরিকদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেয়। এতে আইনগত ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা পায় এবং সমাজে বিদ্যমান পরিবেশগত সংকট নিরসনে একটি গতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুতরাং, একটি অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এ ধরনের সংগঠনের সক্রিয় অবস্থান সমাজের দীর্ঘমেয়াদী কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।