| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘ফাহিম সদ্য পড়াশোনা…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

ফাহিম সদ্য পড়াশোনা শেষ করেছে। সে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি পেশাদারী সংগঠনে যোগদান করে। প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষভাবে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সরকার পরিবর্তন হলেও ফাহিমরা স্থায়ীভাবে কর্মরত থাকে। মূলত এ সংগঠনের ভূমিকার ওপর সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
ভোটার বা নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
তথ্য অধিকার বলতে কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে তথ্য প্রাপ্তির অধিকারকে বোঝায়।
রাষ্ট্রের বিধানাবলি মান্য করা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার থাকবে এবং নাগরিকের অনুরোধ সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকবে। তথ্য অধিকারের আওতায় আইনানুগ কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা কর্তৃপক্ষের গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যাবলি, কর্মসূচি, দাপ্তরিক নথিপত্র, আর্থিক সম্পদের বিবরণ ইত্যাদি তথ্য হিসেবে বিবেচিত। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মতো বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া প্রত্যেক নাগরিকেরই তথ্য জানার এবং জানানোর অধিকার রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত ফাহিম আমলাতন্ত্র নামক সংগঠনে কর্মরত।
শাসন বিভাগের অরাজনৈতিক অংশ, যারা বেসামরিক কর্মচারি হিসেবে নিযুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাজ করেন তারাই হলেন আমলা। এসব পদে নিযুক্ত ব্যক্তি সাধারণভাবে আমলা নামে এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা আমলাতন্ত্র নামে পরিচিত। আমলাতন্ত্র একটি পেশাদারী সংগঠন। মেধার ভিত্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এ সংগঠনে যোগদান করতে হয়। আমলাতন্ত্র একটি নিরপেক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা। দলীয় রাজনীতির সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকে না। আমলাতান্ত্রিক সংগঠন স্থায়ী। সরকারি কর্মচারীগণ একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত চাকরিতে বহাল থাকেন। সরকারের পরিবর্তন বা উত্থান-পতন সরকারি কর্মচারীদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করতে পারে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ফাহিম তীব্র প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে একটি পেশাদারি সংগঠনে যোগদান করে। প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষভাবে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। সরকার পরিবর্তন হলেও ফাহিমরা স্থায়ীভাবে কর্মরত থাকে। বৈশিষ্ট্যাবলির বিচারে ফাহিমের এ সংগঠনটির সাথে আমলাতন্ত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। তাই বলা যায়, ফাহিম আমলাতন্ত্র নামক সংগঠনে কর্মরত রয়েছে।
মূলত আমলাতন্ত্রের ভূমিকার ওপর সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে— উদ্দীপকের শেষোক্ত এ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
আমলাতন্ত্র হচ্ছে আমলা বা সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। আমলাতন্ত্র একটি প্রশাসনে অরাজনৈতিক অংশরূপে নীতিনির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগ, আইন প্রণয়ন, শাসন বিভাগের রাজনৈতিক পদাধিকারীদের পরামর্শদান প্রভৃতি কার্যাবলির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের সাফল্য মূলত আমলাতন্ত্রের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আমলাতন্ত্রে কর্মরত ফাহিম নিরপেক্ষভাবে সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। অর্থাৎ, সরকার তার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো আমলাতন্ত্রের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করে থাকে। এছাড়া বর্তমানে আইনসভায় উপস্থাপিত খসড়া বিলের অধিকাংশই আমলারা প্রস্তুত করে থাকেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়, ব্যাংক- বিমা সম্পর্কিত বিষয়ে খসড়া বিল প্রশাসনিক বিভাগই তৈরি করে থাকে। আমলাদের মূলকাজ হচ্ছে নীতি বাস্তবায়ন, নীতি প্রণয়ন নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রশাসকরা নীতি নির্ধারণের সময় আমলাদের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। সরকারের নিকট জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আমলারাই তুলে ধরেন। তারা আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান প্রদান করে থাকেন। তাদের পরিবেশিত তথ্যাদিই সরকার দেশবাসীর নিকট প্রকাশ করে থাকে। উপরের আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, আমলাতন্ত্রের ভূমিকার ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। আর এ কারণেই আমি উদ্দীপকের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করছি।