অণু বা যৌগমূলকের মধ্যে অবস্থিত কোনো পরমাণুর ইলেকট্রন ত্যাগ ও ইলেকট্রন গ্রহণ করার প্রবণতাকে যথাক্রমে ধনাত্মক বা ঋণাত্মক চিহ্নযুক্ত সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা হয়, যাকে জারণ সংখ্যা
(Oxidation Number) বলে।
ক্যালসিয়াম (Ca) কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। এর কারণ হলো এটি গ্রুপ-২ এর মৌল এবং এদের অক্সাইডসমূহ পানিতে ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করে। এছাড়া মৌলটি বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে।
প্রদত্ত (i) নং বিক্রিয়াটি হলো-
যে বিক্রিয়ায় একাধিক বিক্রিয়ক পদার্থ পরস্পর সংযুক্ত হয়ে একটিমাত্র উৎপাদ গঠন করে তাকে সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
উপরোক্ত বিক্রিয়ায় ও পরস্পর যুক্ত হয়ে উৎপাদ গঠন করে। এ কারণে প্রদত্ত বিক্রিয়াটি সংযোজন বিক্রিয়া।
আবার বিক্রিয়াটিতে জারণ সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-
উপরের বিক্রিয়ায় বিজারক পদার্থ একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে থেকে আয়নে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ এর জারণ সংঘটিত হয়।
(জারণ)
আবার জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে উৎপন্ন করে। অর্থাৎ এর বিজারণ সংঘটিত হয়েছে।
(বিজারণ)
সুতরাং বলা যায়, বিক্রিয়াটিতে একই সাথে সংযোজন ও জারণ-বিজারণ সংঘটিত হয়েছে।
উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়াটিকে নিম্নরূপে লিখা যায়-
ve
উপরিউক্ত বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া এবং বিক্রিয়ক ও উৎপাদের মোল সংখ্যা ভিন্ন। কাজেই বিক্রিয়াটিতে তাপ ও চাপ উভয়ের প্রভাব রয়েছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
তাপমাত্রার প্রভাব: প্রদত্ত বিক্রিয়ায় এর মান ঋণাত্মক হওয়ায় বিক্রিয়াটি তাপোৎপাদী, অর্থাৎ এক্ষেত্রে তাপ নির্গত হয়। সুতরাং তাপমাত্রা বাড়ালে লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী, সাম্যাবস্থা ডান থেকে বাম দিকে সরে যাবে। অর্থাৎ এর উৎপাদন হ্রাস পাবে। আবার, তাপমাত্রা কমালে সাম্যাবস্থা বাম থেকে ডান দিকে অগ্রসর হবে অর্থাৎ -এর উৎপাদন বেড়ে যাবে।
চাপের প্রভাব : বিক্রিয়াটিতে বিক্রিয়কের মোট মোল সংখ্যা (2 + 1=3) অপেক্ষা উৎপাদের মোট মোল সংখ্যা (2) কম। সুতরাং, চাপ বাড়ালে লা-শাতেলিয়ারের নীতি অনুযায়ী, সাম্যাবস্থা বাম থেকে ডান দিকে সরে যাবে অর্থাৎ এর উৎপাদন বাড়বে। আবার, চাপ কমালে সাম্যাবস্থা ডান থেকে বাম দিকে সরে যাবে, অর্থাৎ এর উৎপাদন হ্রাস পাবে ।
