A. Nayanㅤ
A. Nayan
15 Oct 2026 (2 weeks ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘ফয়জুল্লাহপুর একটি সমৃদ্ধ…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)


📘 ক্লাস ১১শ–১২শ🎓 গ্রুপ সাধারণ📚 বই বাংলা📖 বিষয় ১ম পত্র📂 বিভাগ নাটক ও উপন্যাস🧩 অধ্যায় ২য় অধ্যায় — লালসালু🔢 সৃজনশীল নং ২🏫 বোর্ড রাজশাহী বোর্ড📅 সাল ২০১৭⭐ গুরুত্ব ★★★★★
🔊 স্মার্ট বাংলা Text Readerসম্পূর্ণ বাক্য highlight · প্রশ্নের পর উত্তর · সরাসরি seek
০%
ভয়েস লোড হচ্ছে।

ফয়জুল্লাহপুর একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। ধান-সুপারির মওসুমে এখানকার সকলের হাতেই টাকা-পয়সা থাকে। হাট-বাজারে থাকে লোকের ভীড়। এসময় ভিক্ষুকের আগমনও বেড়ে যায়। একদল ভিখারি হামাগুড়ি দেয় আর সুর করে ‘আল্লাহর নামে দে, আল্লাহর নামে দে’ বলে ভিক্ষা চায়। তাদের বিচিত্র সুরে ফয়জুল্লাহপুরের মানুষের মন নরম হয়। একারণে অনেকেই টাকা বা আধুলী ফেলে যায় তাদের থালায়। ব্যাপারটা এখানকার স্থানীয় ভিক্ষুকদের সহ্য হয় না। তারা লাঠিসোটা নিয়ে ওই ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

✦ PREMIUM STUDY EXPERIENCE

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

১ম পত্র · অধ্যায় ২

✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী তানু বিবির বড় ভাই ধলা মিয়া।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

'লালসালু' উপন্যাসের ভণ্ডপীর মজিদ তার দেওয়া পানিপড়া প্রতিদ্বন্দ্বী পীরের নামে খাওয়া হবে শুনে ক্ষেপে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

খালেক ব্যাপারীর প্রথম স্ত্রী আমেনা বিবি সন্তান কামনায় আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরের কাছ থেকে পানিপড়া খেতে চায়। কিন্তু ভণ্ডপীর মজিদের সাথে সেই পীরের স্বার্থগত দ্বন্দ্ব থাকার কারণে ব্যাপারী তার ছোট স্ত্রীর ভাই ধলা মিয়াকে গোপনে রাতের অন্ধকারে আওয়ালপুরে গিয়ে পানিপড়া আনতে বলে। কিন্তু ধলা মিয়া ভীতু প্রকৃতির লোক হওয়ায় রাতের অন্ধকারে সেখানে না গিয়ে মজিদের কাছে আসে পানিপড়া নিতে। আর মজিদকে এই পানিপড়া দেওয়ার কথা গোপন রাখতে বলে। মজিদের পানিপড়া আওয়ালপুরে আগত পীরের নামে চালিয়ে দেওয়ার হঠকারিতাপূর্ণ প্রস্তাবে মজিদ রেগে গিয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

'লালসালু' উপন্যাসে আওয়ালপুরে আসা নতুন পীর ও মজিদের স্বার্থগত দ্বন্দ্বের সঙ্গে উদ্দীপকের দুই দল ভিখারীর সাদৃশ্য রয়েছে।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্যবেছে নেয় মাজার ব্যবসার মতো অসৎ পন্থা। একটি পুরোনো কবরকে মাজার হিসেবে প্রচার করে শুরু হয় তার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রাম। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই দমন করার চেষ্টা করেছে মজিদ। আওয়ালপুরে নতুন পীরের আগমন ঘটায় মজিদের একক ধর্মীয় আধিপত্যে ভাটা পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মজিদের সাথে আউয়ালপুরের পীরের দ্বন্দ্ব বাধে এবং তার কিছু অনুসারী নতুন পীরের সভায় হামলা চালায়।

উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যে এক ধরনের অস্তিত্ব সংকট দেখা দেয়। তারা চায় না, তাদের নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সৃষ্টি হোক। তাই তারা নতুন ভিক্ষুকদের ওপর আক্রমণ চালায়। তারাও নিজ অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রামে লিপ্ত হয়। যেমনটি 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য স্বার্থগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ তার অনুসারীদের মাধ্যমে আওয়ালপুরের পীরের ওপর হামলা চালায়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এমন ঘটনা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুকদের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। এই ঘটনাদ্বয়ই 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপকের মাঝে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
✦উত্তর ও বিশ্লেষণANSWER

আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের সাথে উদ্দীপকের ফকিরদের স্বার্থ রক্ষায় উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার অপকৌশল অবলম্বনের মধ্যে অমিল রয়েছে।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ নিজেকে টিকিয়ে রাখার জন্য নিজ বাসস্থান ছেড়ে কিছুদিন গারো পাহাড়ে বসবাস করে। এরপর, কোনো এক শ্রাবণের ঝিমিয়ে পড়া দুপুরে সে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে। এখানে একটি পুরোনো কবরকে মাজার বানিয়ে সেটিকে পুঁজি করে ব্যবসা শুরু করে সে। অর্থাৎ, ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার দিক থেকে মজিদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য উপন্যাসে। আর এই সংগ্রামের পথে যে-ই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাকেই সে কৌশলে পরাজিত করেছে।

উদ্দীপকের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ভিক্ষুকদের মাঝেও টিকে থাকার সংগ্রাম পরিলক্ষিত হয়। তাই ধান-সুপারির মওসুমে গ্রামে কিছু নতুন ভিক্ষুক আসায় স্থানীয় ভিক্ষুকদের স্বার্থে আঘাত লাগে। তারা লাঠিসোটা নিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কারণ তারা চায় না, তাদের আয়ের পথে নতুন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটুক। আওয়ালপুরে আসা নতুন পীরসাহেবের ওপর মজিদের আক্রোশের কারণ হিসেবে এরূপ বিষয়ই লক্ষ করা যায়।

'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ কিংবা উদ্দীপকের স্থানীয় ভিক্ষুক উভয়েই অস্তিত্বের সংকটে পড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে। সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হিসেবে তারা অন্য পক্ষকে প্রতিহত করাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, মজিদ বা ভিক্ষুকরা উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে একই মনোভাবের মানুষ। কিন্তু সমস্যা সমাধানে তাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্য লক্ষ করা যায়। কেননা, নতুন পীরকে দমন করতে মজিদ যেমন কৌশলী পন্থা অবলম্বন করেছিল, উদ্দীপকের ভিক্ষুকরা তা পারেনি। মজিদ তার চতুরতার সাহায্যে আওয়ালপুরের পীরকে সবার সামনে ভণ্ড প্রমাণ করতে চেয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ভিক্ষুকরা আগ্রাসী মনোভাব দেখিয়ে নতুন ভিক্ষুকদের তাড়াতে চেয়েছে। সুতরাং 'মজিদের সাথে ফকিরদের উদ্দেশ্যগত মিল থাকলেও আচরণগত অমিল রয়েছে'- মন্তব্যটি যথার্থ।

০%
প্রথমে প্রশ্ন, তারপর উত্তর শুনতে চাপ দিন।
0 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘ফয়জুল্লাহপুর একটি সমৃদ্ধ…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)”